Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুন, ২০১৬ ২১:৫৭
ঈদে শাড়ি
ঈদে শাড়ি
মডেল : মল্লিকা, মারজানা ও রুমা মেকআপ : রেড পোশাক ও ছবি : অঞ্জন’স

ঈদে এবার জমকালো লুক চাই অনেকের। সেই সঙ্গে সারা দিন টইটই করে ছুটতেও মানানসই একরঙা সুতির শাড়ির দিকে হাত বাড়াচ্ছেন ক্রেতারা।

রমণীকুলের সাধ মেটাতে শাড়ির ডিজাইনাররা এবার রং ও নকশায় এনেছেন বৈচিত্র্য। ট্রেডিশনাল লুকের সঙ্গে যোগ হয়েছে হালের ফ্যাশন ট্রেন্ড। ঈদ-উৎসব বলে কথা। লিখেছেন— রাফিয়া আহমেদ

 

পোশাকে বাঙালিয়ানা আর উৎসবের আমেজ আনতে রঙে ঢঙে বৈচিত্র্যময় শাড়ি লাগবেই। আর ঈদের আয়োজন একটু জমকালো এবার। রঙিন জমকালো পোশাকে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে এখন শপিংমলগুলোয় মেলা ভিড়। শাড়ির ক্ষেত্রে সুতির পাশাপাশি সিল্কের চাহিদাও বেশ। সঙ্গে কাতানের ঐতিহ্য সব সময়ের। ঈদের দিনে সুতির শাড়িই বেশ মানাবে। উৎসবের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দের মিলও যে ফ্যাশনের অংশ। তাঁতের শাড়ি ও কোটা শাড়ির আবেদন এবারের আকর্ষণ। ডিজাইনেও রয়েছে ভিন্নতা। কোনোটাতে স্ক্রিন প্রিন্ট আবার কোনোটায় ব্লকের কাজ। নকশিকাঁথার সাজে তো বাঙালির আলাদা দুর্বলতা। সিল্কের শাড়ির প্রতি রমণীদের আকর্ষণ বরাবরই আলাদা। রয়েছে বাহারি ধরন। টাঙ্গাইল সিল্ক, হাফ সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, জয়পুরি সিল্ক, মসলিন সিল্ক, কাতান সিল্ক ও অ্যান্ডি সিল্ক। হাতের কাজের পাশাপাশি এতে স্ক্রিন প্রিন্ট ও অ্যামব্রয়ডারি করা হয়ে থাকে। আবার শাড়ির জমিনে বসানো হয়েছে বাহারি লেস। এবারের ঈদের প্রতিটি শাড়িকে হাতের কাজে আনা হয়েছে নতুনত্ব। কোনোটায় নকশি কাঁথার সাজ আবার কোনোটায় পাথরের জমিন, কোনোটা আবার কারচুপিতে ভরপুর। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের কটন সিল্ক শাড়ির প্রাধান্যই বেশি।

তা ছাড়া রাতের পার্টিতে জমকালো ভাব আনতে কাতান বেছে নিতে পারেন। জুট, কাঞ্জিভরম, চেন্নাই, মসলিন, মিলেনিয়াম আর কোটা কাতানের ভিড়ে মিলবে জরি সুতায় কারচুপির কাজ। তা ছাড়া নেটের শাড়িতেও ঈদ বাজার সয়লাব। নিচ্ছেন যার যারা পছন্দমতো। বাহারি রঙের নেটের শাড়িতে বেলবেটের রিবন অথবা ভারি লেস লাগিয়ে নিজেরাই ডিজাইন করে নিচ্ছে। আবার ডিজাইনের রয়েছে ভিন্নতা। আর জামদানি বরাবরই তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। রং আর ডিজাইনে নতুনত্ব তো রয়েছেই। সঙ্গে শাড়ির পাড়ের কাজেও রয়েছে ভিন্নতা। গদবাঁধা কাজের বাইরে খুঁজে পাবেন নিত্যনতুন ফ্যাশনেবল শাড়ি। গরম হলেও শিফন কিংবা ভেলভেটের চাহিদাও কম না। অনেকে আবার পুরো শাড়িতে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। গরম বলে হালকা ভেলভেটই সবার পছন্দ।

 

বাহারি রং

রঙের ক্ষেত্রে গত্বাঁধা নিয়ম অনেকেই মানছেন না। পছন্দমতো রঙের শাড়িতে রাঙিয়ে নিতে ব্যস্ত সবাই। এবারের ঈদুল ফিতর গরম আর বর্ষায় হওয়াতে উজ্জ্বল লাল, নীল, কালো, গোলাপি, সবুজ রংকে প্রাধান্য দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তা ছাড়া রাতের পার্টিতে নিতে পারেন ফিরোজা, হলুদ, লাল ছাড়াও পছন্দসই উজ্জ্বল রং। তবে গরমের কারণে এসব রঙের হালকা শেডই প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি।

 

শাড়িতে স্টাইলিস লুক

শাড়ির মতো হালকা মেজাজের পোশাক আর কিছুই নেই। বারো হাতের কাপড়ের জাদুতে ফ্যাশনেবল হয়ে উঠবেন সহজেই। ঈদের সাজের পূর্ণতা আনতে জেনে নিন শাড়ি পরার কয়েক ধরন।

 

>> কটন তেলিয়া শাড়ি। সেই সাবেকি সাদাসিধে ভাবে পরে আঁচলের শেষাংশ বাঁ-কাঁধে ফেলে বুকের সামনে অ্যাসিমেট্রিক প্রিট করে দিতে হবে। সঙ্গে স্লিভলেস ডোরি দেওয়া ব্লাউজ।

>> অল্প কুচি দিয়ে পরে অনেক লম্বা আঁচল দিন সুতি শাড়িতে। আঁচলের অংশটি গুছিয়ে বাঁ কাঁধের ওপর ফেলে পিছনের অংশ ডান হাতের তলা দিয়ে এনে বাঁ কাঁধে পিন করে নিন। স্লিভলেস ব্লাউজে বেশ মানাবে।

>> ট্রাডিশনাল ভারি কঞ্জিভরম। কুচি দিয়ে পরুন। সঙ্গে লম্বা সিল্ক জ্যাকেট।   জ্যাকেটের বাঁ তলার অংশ শাড়ির ভেতরে ফেলে রাখুন।

>> নানা রঙের উজ্জ্বল চেকের কটন সিল্ক। কুচি উল্টো দিয়ে গোঁজা। অনেকগুলো কুচি দিতে হবে। আঁচল হবে ছোট। সঙ্গে স্লিভলেস সিল্কি জ্যাকেট। আঁচল যেন নজরে পড়ে।

>> আদিবাসী স্টাইল। সুতির শাড়ি সাদাসিধে ভাবে পরে লম্বা আঁচল পেছন থেকে ভাঁজ করে সামনে গিঁট দিয়ে বাঁধতে হবে। সাধারণ কুচি ব্লাউজেই দারুণ।

>> উপজাতি স্টাইলের আদলে সাদাসিধে ভাবে পরে বাকি অংশ কোমরে দুবার পেঁচিয়ে আঁচলের কোনার সঙ্গে পিঠের কাপড় তুলে গিঁট বেঁধে নিন। ফুলস্লিভ ব্লাউজে মুনশিয়ানা।

>> নকশি কাঁথাস্টিচের আঁচলের শাড়ি। তাই কুচি দিয়ে পরে, লম্বা আঁচল রেখে, হাঁটুর ওপর থেকে অ্যাসিমেট্রিকভাবে কাঁধে ফেলে রাখুন।

>> ভারী কাঞ্জিভরম। কুচি দিয়ে, লম্বা আঁচল করে পরাই ভালো। নতুনত্ব আনতে শাড়ির ব্লাউজ পিস দিয়ে ব্লাউজ না বানিয়ে হাইনেক স্লিভলেস সিকুইনড জ্যাকেট পরুন। অন্যরকম দেখাবে। কানে ঝোলা দুল, নিট হেয়ার স্টাইল গরজেইস লুক।

>> খাদি সিল্কের শাড়ি আঁচলের দিক থেকে কুচি দিয়ে সামনে গুঁজে নিন। বাকি অংশ কিছুটা পেছনে গুঁজে ঘুরিয়ে বাঁ-কাঁধের ওপর ফেলুন। কোমরে সিলভার বেল্ট পরুন।

 

মানানসই ব্লাউজ

সাজনীতির প্রথম কথাই হলো স্বাচ্ছন্দ্য। শাড়ি হোক সুতি, বেনারসী কিংবা কাঞ্জিভরম; ব্লাউজটি যুতসই হলে আপনি হয়ে উঠবেন অনন্যা। শাড়ির কাট, ফিট তো আছেই সেই সঙ্গে কোনো শাড়িতে কোন কাটের ব্লাউজ মানাবে, কোন শাড়িতে কোন ব্লাউজ মানাবে তাও মাথায় রাখতে হবে। স্লিভলেস বা ছোট হাতা। প্রিন্টেড, ডুরে কিংবা চেক তাঁতের শাড়ির সঙ্গে জমির রঙে রং মিলিয়ে অথবা পাড়ের সঙ্গে কনট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ বেশ মানাবে। তা ছাড়া সিল্ক কিংবা স্যাটিনের ব্লাউজের হাতা ও গলায় অ্যামব্রয়ডারি আর লেস লাগানো থ্রি কোয়ার্টার ব্লাউজের ঐতিহ্য অন্যরকম। ঠিকঠাক গড়ন হলে গোল গলার ছোট হাতার ব্লাউজ পরতে পারেন। সিল্কের শাড়ির সঙ্গে খাদির ব্লাউজ। তা ছাড়া একরঙা শাড়ির সঙ্গে অভিনব কাটের ব্লাউজ হলে শাড়ির পরনের দিকে নজর দিতে হবে। সিল্কের একরঙা শাড়ি হলে কনট্রাস্টিং ব্লাউজ খুব ভালো মানাবে। প্রিন্টেড শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টেড ব্লাউজ একেবারেই বেমানান। তাই একরঙা ব্লাউজ ট্রাই করুন। শুধু ডিপ কাট নয়, কভার্ড ব্লাউজেও স্টাইল। শিফন কিংবা জর্জেট শাড়ির সিঙ্গেল প্লিট করে পরতে পারেন। শাড়ি যদি জমকালো, ভারি হয় তবে ব্লাউজ রাখুন সিম্পল। এবার আসুন গড়নের দিকে। হাত মোটা হলে গাঢ় রঙের ফুলস্লিভ ব্লাউজ পরুন।

যাদের ঘারের দিকটা একটু উঁচু কিংবা ঢিবি হয়ে থাকে তবে বন্ধ গলায় ভালো লাগবে।

নতুনত্ব চাই?

মোহিনী স্টাইল। কুচি দিয়ে পরুন। চারটি কুচি দিয়ে, কুচিগুলো উঁচু করে ধরে শাড়ির বাকি অংশ কোমর ঘিরে ঘুরিয়ে উঁচু করে ধরে রাখা কুচি ফ্যানের মতো ফেলে দিন। বাকি শাড়ি বাঁ-কাঁধের ওপর দিয়ে ফেলুন। জমকালো ব্লাউজ আর সোনার গয়নায় কমপ্লিট লুক।

 

রাতের পার্টিতে...

রাতের পার্টিতে জমকালো ভাব আনতে কাতান বেছে নিতে পারেন। জুট, কাঞ্জিভরম, চেন্নাই, মসলিন, মিলেনিয়াম আর কোটা কাতানের ভিড়ে মিলবে জরি সুতায় কারচুপির কাজ। তা ছাড়া নেটের শাড়িতেও ঈদ বাজার সয়লাব। নিচ্ছেন যার যার পছন্দমতো। বাহারি রঙের নেটের শাড়িতে ভেলবেটের রিবন অথবা ভারি লেস লাগিয়ে নিজেরাই ডিজাইন করে নিচ্ছেন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow