Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুন, ২০১৬ ২২:০৫
সচেতনতা
রোজা রেখে বদহজমের সমস্যা
অধ্যাপক ডা. মিয়া মাশহুদ আহমদ পরিপাকতন্ত্র ও লিভার ব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চেম্বার : ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল.
রোজা রেখে বদহজমের সমস্যা

রমজান মাসে সারা দিন না খেয়ে থেকে সন্ধ্যায় ইফতারে ভাজা-পোড়া খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ক্ষতির মাত্রা প্রাথমিকভাবে টের পাওয়া যায় যখন রোজায় কারও পেটে হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

এ ছাড়া কারও কারও অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যাও হতে পারে। কারণ, রোজায় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় গ্যাসট্রিকের সমস্যা হয়। রোজা এলে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের দুই রকম পরিবর্তন হয়। একটা হচ্ছে সময়ের। আগে সকালে, দুপুর এবং রাতে খেতাম। তবে রোজার সময় এই সময় পরিবর্তন হয়ে যায়। আরেকটি হচ্ছে খাদ্যাভ্যাসের গুণগত মান বা ধরনের পরিবর্তন হয়, ইফতার মানেই তৈলাক্ত খাবারের প্রবণতা। এতে অনেকেরই বদহজমের সমস্যা হয়ে থাকে। যেহেতু আমরা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকি, তখন যদি আমরা ঝাল, ভাজাপোড়া খাই, এসিডের সঙ্গে সে খাদ্য মিশে গিয়ে এটা নিউক্লিয়াস হয়ে যায়। তবে যখন আমরা ক্ষুধার্ত থাকি, তখন শুধু এসিডই থাকে। আর কোনো খাদ্য সেখানে থাকে না।

প্রথম কথা হলো, আমরা রোজার সময় না খেয়ে থাকি। অনেকে মনে করে রোজায় ওজন কমে। আসলে উল্টো হয় অনেকের। রোজার সময় অনেক সময় বেশি খাওয়া হয়। কেননা ইফতারের পর যা আমরা খাই, এরপর আবার সাহরির সময় অনেকে বেশি খাই, তাতে ওজন বেড়ে যাচ্ছে। সেটা হওয়া ঠিক না। যেহেতু আমরা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকি রক্তের শর্করার পরিমাণ কমে যায়। সে জন্য রোজার সময়, রোজার শেষের দিকে একটু মাথা ঝিম ঝিম করা এগুলো হয়। এ সময় শর্করা যাতে বাড়ে এ সমস্ত খাবার দিয়ে যদি ইফতার করি তাহলে পুষ্টিটা হলো। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো খেজুর। ধর্মেও আছে খেজুর ভালো জিনিস। তবে ডায়াবেটিস থাকলে সেটা ভিন্ন কথা। বদহজম, অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন।

>> ইফতারের সময় শুরু করতে পারেন যে খাবারগুলো

০. খেজুর, ফলের রস বা দুধ।

০. সালাদ বা তাজা মৌসুমি শাক-সবজি।

০. পরিষ্কার চিকেন বা ভ্যাজিটেবল স্যুপ

০. হালিম প্রোটিনের একটি ভালো উৎস এবং এতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে।

০. তেল ছাড়া তৈরি ছোলা। এর সঙ্গে লেবু, লবণ এবং অল্প মসলা যোগ করা যেতে পারে।

০. প্রোটিন হিসেবে খেতে পারেন মুরগি, মাংস, মাছ, ডাল, ছোলা বা শিম।

০. জটিল শর্করা হিসেবে বাদামি চাল বা চাপাতি রুটি।

০. প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি।

>> সাহরিতে খেতে পারেন

আপনার সাহরিতে জটিল ধরনের শর্করা জাতীয় খাদ্য থাকা উচিত, কারণ এ ধরনের খাবার পরিপাক হতে দীর্ঘ সময় লাগে এবং সারা দিন আপনার শক্তি সরবরাহে সাহায্য করবে। আপনি খেতে পারেন—

০. তেল ছাড়া চাপাতি রুটি বা পরোটা।

০. দুধ দিয়ে সিরিয়ালস।

০. তাজা এবং শুকনো ফল, যেমন-কলা ও খেজুর।

০. লবণ ছাড়া বাদাম।

০. প্রচুর তরল পান করুন।

০. খাওয়ার পর না শুয়ে, একটু হাঁটাহাঁটি করে নিন।

 

>> যেসব খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত—

ডুবো তেলে ভাজা খাবার যেমন— বেগুনি, পিয়াজু, আলুর চপ ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এ তেল ও চর্বিযুক্ত খাবারগুলো আপনার উদরপূর্তি করলেও তা আপনার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে না। এগুলো বদহজমও তৈরি করতে পারে। খাবার শেষ করার সময় সিরাপ নির্ভর খাবার যেমন— জিলাপি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে এক বাটি তাজা ফলের সালাদ বা দই বড়া খেতে পারেন। চা বা কফি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এগুলো আপনার প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আপনার দেহ থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়। যদি খালি পানি পান করতে একঘেয়ে লাগে তবে দুধ, দই, বরফ এবং ফলমূল দিয়ে তৈরি সালাদ খেতে পারেন।

রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন এবং তারপর বাকি কাজ করুন। ঘুমানোর আগে অন্য কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, তবে অবশ্যই সাহরি খাবেন। পানিশূন্যতা রোধে ইফতার এবং সাহরির মধ্যবর্তী সময়ে প্রচুর পানি পান করুন।

 

>> ইফতারের সংক্ষিপ্ত পরামর্শ

পানি, শরবত কিংবা জুস দিয়ে ইফতার শুরু করে দুটি খেজুর বা মিষ্টিজাতীয় কিছু খেয়ে অন্তত ১৫ মিনিটের বিরতি নিন। মূল খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বা তরল খাবেন না। খাওয়ার আধা ঘণ্টা পর পানি পান করুন। পানি পর্যাপ্ত পান করতে হবে। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত অন্তত ১০ গ্লাস পানি ও তরল যেন শরীর পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। যাদের বদহজম হয়, তারা সালাদ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। তবে সবজি খেতে পারেন। আদা চা আর পুদিনা পাতার চা হজমে সহায়ক। সবুজ চা বা গ্রিন-টিও ভালো। যাদের এসিডিটির সমস্যা, গ্যাসের ব্যথা, পেটে চাপবোধের সমস্যা আছে তাদের জন্য এ ধরনের চা উপকারী।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow