Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ২১:৪৭
সময়ের সাজকাহন
ফেরদৌস আরা
সময়ের সাজকাহন
মডেল : ফারহানা রেইন, ছবি : নেওয়াজ রাহুল, স্টুডিও : এক্সপোজ

এই গরমে মেকআপ ট্রিকস

 

প্রাইমার : মেকআপ শুরু করুন প্রাইমার লাগিয়ে। সব থেকে ভালো হয় সানস্ক্রিন যুক্ত প্রাইমার ব্যবহার করলে। প্রাইমার লাগানোর ফলে মেকআপ অনেকক্ষণ অবধি ঠিক থাকবে। এটা লাগালে ঘামও অনেক কম হবে। উপরন্তু আপনার ত্বক অনেকটা উজ্জ্বল দেখাবে। মেকআপ শুরু করার আগে ময়েশ্চারাইজারে অল্প একটু প্রাইমার ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ : এই সময় ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ লাগানো খুবই জরুরি। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না, বিয়ে বাড়িতে গেছেন এবং একটু পরে দেখলেন ঘামের সঙ্গে আপনার পুরো মেকআপ ঘেঁটে গেছে। চোখের জন্য অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা এবং আই লাইনার পছন্দ করুন। এই সময় আই শ্যাডো না লাগালেই ভালো। একান্ত যদি লাগাতেই হয় তাহলে ক্রিম আই শ্যাডো লাগান। পাউডার আই শ্যাডো ঘামের সঙ্গে খুব সহজেই মুছে যেতে পারে।

হালকা মেকআপ : গরমকালে ভারি মেকআপ একেবারেই এড়িয়ে চলুন। ভারি মেকআপ সহজেই মুছে যায়। এ ছাড়াও ভারি মেকআপ করলে ঘামবেনও বেশি। আপনার ত্বকের রঙের কাছাকাছি বেস মেকআপ লাগান। এই সময় ত্বক খুব তেলতেলে হয়ে যায় তাই অয়েল কন্ট্রোল প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন। সব সময় খেয়াল রাখবেন আপনার ত্বক যেন শুকনো থাকে।

পাউডার ব্লাশন : ক্রিম ব্লাশন অনেকক্ষণ থাকে। এ ছাড়াও পাউডার ব্লাশনের তুলনায় ক্রিম ব্লাশন অনেকটাই মসৃণ দেখায়। তাছাড়াও ঘামে ভেজা ত্বকে এটা লাগানো অনেক সহজ। প্রথমে ক্রিম ব্লাশন লাগান তার ওপর ফেস পাউডার লাগিয়ে নিন। আঙুলের ডগা দিয়ে ক্রিম ব্লাশন লাগাবেন।

সানস্ক্রিন : বাইরে বের হতে হলে মেকআপের আগে উচ্চ এস পি এফ যুক্ত সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন লোশন লাগানোর পর ত্বক তেলেতেলে হয়ে যায়। তাই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে ত্বকের সঙ্গে মানানসই ফাউন্ডেশন লাগিয়ে নিন।

 

ঘরোয়া উৎসবে চুলের সাজ

যদি ঘরোয়া কোনো উৎসব থাকে তবে ছোট বা মাঝারি চুল হলে সাইডে সিঁথি করে বাকি চুল ছেড়ে দিন। চাইলে কানের গোড়ায় গুঁজতে পারেন বর্ষার কোনো ফুল। এ ছাড়া মাথার সামনের কিছু চুল ছোট পাঞ্চ ক্লিপের সাহায্যে হালকা পাফ করে বাঁধতে পারেন। তারপর বাকি চুল একটু উঠিয়ে হাতখোঁপা করে তাতে দিতে পারেন সুদৃশ্য কোনো কাঁটা। একটু আলাদা সাজ চাইলে করতে পারেন ফ্রেঞ্চ বেণী অথবা পনিটেল। আর যদি একটু ভিন্ন ধরনের কোনো স্টাইল করতে চান সে ক্ষেত্রে কপালের ওপর কিছু চুল ছেড়ে রেখে বাকি চুল ফুলিয়ে নিন। এবার কপালের উপরের চুল এক সাইড করে নিয়ে দুই পাশ থেকে অল্প অল্প চুল নিয়ে ফ্রেঞ্চ বেণীর মতো করে আনুন কানের গোড়া পর্যন্ত। এবার বাকি চুল পেছনে ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। চাইলে এবার পেছনের চুলও আপনি খোঁপা বা বেণী করতে পারেন।

নখে নকশা

এখন বিভিন্ন রঙের নেইল পলিশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের এলিমেন্ট, যার মাধ্যমে আনা হচ্ছে নিত্যনতুন সব ডিজাইন। নখের সাজ সাধারণত পোশাকের ওপর নির্ভর করে। অনেকেই দশ আঙুলে দশ রঙের নেইল পলিশ ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। এতে সুবিধা হলো আপনার ড্রেস বা সাজের ওপর নির্ভর করতে হয় না। এভাবে নেইল পলিশ সাধারণত টিনএজারদের নখেই বেশি ভালো লাগে। অনেক সময় অনেকের নখের আকার ছোট ছোট থাকে। তাদের নখে কোনো ডিজাইন তেমন ফুটে উঠে না। তারা এক্রোলিক নেইল লাগিয়ে নিতে পারেন।

 

অফিসের সাজ

অফিসের সাজ সবসময়ই হালকা হওয়া উচিত।   চোখে মাশকারা, কাজল বা আই লাইনার আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক লাগালেই আপনার অফিসের সাজ পূর্ণতা পাবে। সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। অফিসে গহনা পরার ক্ষেত্রে ছোট ছোট গহনা পরা ভালো। জুতা এবং ব্যাগের রঙ কাছাকাছি শেডের মধ্যে বাছাই করলে দেখতে দারুণ লাগবে।   ল্যাপটপ বহন করতে হলে বড় ব্যাগ বাছাই করুন যেন ল্যাপটপের সঙ্গে অন্যান্য জিনিসও অনায়াসে নেওয়া যায়।

 

পার্টি সাজে চুলের জাদু

সাধারণ হাতখোঁপা করে তাতে ব্যবহার করতে পারেন রুপার তৈরি কাঁটা। এটি চুলের সাজে আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।   এ ছাড়া লম্বা চুলে বেণী করে তাতে লাগানো যেতে পারে বাহারি রঙের ফুল।

মেকআপের ভুলগুলো

প্রসাধনের ক্ষেত্রে মহিলারা অনেকেই না জেনে অনেক ভুল করে থাকেন। আপাতভাবে নিজেকে সুন্দর মনে হলেও কিছু বিষয় মাথায় না রাখলে মেকআপ পুরোটাই ‘মেড-আপ’ হিসেবে ধরা দেয় অন্যের চোখে।

►    অনেকেই দীর্ঘস্থায়ী লিপস্টিক পছন্দ করেন। কিন্তু লিপস্টিককে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বারংবার লিপস্টিক ঘষার দরকার নেই। উঠে যাওয়া লিপস্টিকের ওপরে আবারও কালার ঘষলে দেখতে খুবই খারাপ লাগে। প্রয়োজনে আগে ঠোঁটের উপরে বেস বা কনসিলার লাগিয়ে তারপরে লিপস্টিক পরুন। তাতে দেখতেও ভালো লাগবে এবং কালারও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

►    মেকআপ করার সময়ে মহিলারা যতটা যত্ন নিয়ে ফাউন্ডেশন, লিপস্টিক বা কাজল নিয়ে মাথা ঘামান, তার চেয়ে তুলনামূলক কম ভাবেন ভ্রু-এর মেকআপ নিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন যতই সুন্দর করে সাজুন না কেন, আই-ভ্রু যথাযথ না হলে মেকআপ পরিপূর্ণ হবে না।

►    আই মেকআপের ক্ষেত্রে অনেকেই কাজল এবং আই লাইনারের ওপরে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু চোখের মেকআপের সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো মাস্কারা। চোখে পাতার মেকআপটি না সারলে সুন্দর চোখ আপনি কোনোভাবেই পাবেন না।

►    বেস বা ফাউন্ডেশন লাগানোর ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন, তা হলো কখনই নিজের অরিজিনাল স্কিন টোনের থেকে এক ধাপের বেশি টোন কিনবেন না। ত্বকের উজ্জ্বলতা আপনি ফাউন্ডেশন থেকে পেতেই পারেন। কিন্তু অরিজিনাল স্কিন টোনের থেকে দুই-তিন টোন উপরের বেস লাগালে তার ফল ভয়াবহ। মাথায় রাখবেন, উজ্জ্বল রঙের জন্য ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা বোকামি। মূলত স্কিন টোনকে নিখুঁত করে তোলাই এর কাজ।

►  সব সময়ে বেসটা ভালোভাবে ব্লেন্ড করবেন। বিশেষ করে গলা এবং বুকের সঙ্গে ব্লেন্ড করাটা খুবই জরুরি। না হলে শুধু মুখটুকু উজ্জ্বল থাকে যা দেখতে খুব খারাপ লাগে। একইভাবে হাতের উন্মুক্ত অংশেও হালকা ফাউন্ডেশন প্রয়োগ করা উচিত।

►    নেলপলিশ উঠে গেলে তাড়াহুড়োর সময়ে তার ওপরই আরেক চোট চাপিয়ে দেবেন না। আপনার চোখে ঠিক লাগলেও অনেকের চোখেও এগুলো ধরা পড়ে এবং আপনার ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   সব সময়ে রিমুভার দিয়ে পুরোটা তুলে আবার নেলপলিশ পরবেন।

►  চোখের মেকআপ এবং ঠোঁটের কালারের মধ্যে একটা ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করবেন। খুব গাঢ় রঙের আই শ্যাডো পরলে সাধারণত হালকা রঙের বা ন্যুড লিপ কালার রাখার চেষ্টা করবেন।   উল্টোটাও করতে পারেন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow