Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ২২:১১
গহনায় গর্জিয়াস
গহনায় গর্জিয়াস
লেখা : উম্মে হানি, পোশাক ও অলঙ্কার : মেহাজাবীন

গহনা ছাড়া সাজে পূর্ণতা আসে না কথাটি একেবারেই অমূলক নয়। সাদামাটা আর গর্জিয়াস— সব পোশাকে গহনার কথা বলে না এমন রমণী পাওয়া মেলা ভার। শুধু পোশাক পরলেই তো আর সাজের পূর্ণতা আসে না যদিনা সেখানে গহনার উপস্থিতি থাকে। নানা নকশা আর ডিজাইনের গহনার মেলায় রমণীদের সাজে থাকে চিরায়ত সোনার কদর। যদিও এর চাহিদা কিছুটা কমেছে তথাপি গোল্ড প্লেটেড, রুপা, এমনকি নানা পাথরের গহনা কিংবা অক্সিডাইজের প্রতি রমণীদের আকর্ষণ এখন সবচেয়ে বেশি। উৎসব, পার্বণ তো আছেই, সেই সঙ্গে সাধারণ দিনের সাজের পূর্ণতাও গহনার সাজকাহন থাকতেই হয়।

পোশাক যেমনই হোক না কেন গহনা যদি পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়, তবে সাজে আসে নতুনত্ব। আপনিই বুঝবেন ঠিক কোন সাজটা আপনাকে কতটা মার্জিত করে তোলে। নিত্যদিনের সাজে খুব বেশি তোড়জোড় নয়, শুধু রুচির সঙ্গে মিলিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নিলেই হলো।

সময়ের ওপরও সাজকাহন অনেকটা নির্ভর করে। শীত কি বর্ষা গহনার সাজেও প্রকৃতির দোল না হলে যেন সাজটা বেমানান মনে হয়।

বাজারের হাল হকিকতে হরেক রকমের পোশাকের সঙ্গে মানানসই গহনাটি বেছে নেওয়া খুব একটা কষ্টের নয়। ফতুয়া-জিন্স, শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কানের লম্বা দুলের ফ্যাশনের জন্য এখন ঝুমকা আর পাথর বসানো দুলের চাহিদা বেশি। রুপা ও পাথরের কারুকাজ করা ভারি ঝুমকা আপনার সাজপোশাকে এনে দেয় বাড়তি ব্যক্তিত্বের ছাপ। যারা গহনায় বৈচিত্র্য চান, তারা সোনার গহনাকে খুব একটা প্রাধান্য দেন না।

সাজ-পোশাকে গহনার আভিজাত্য প্রসঙ্গে মেহাজাবীনের কর্ণধার মাহমুদা বলেন, ‘অনুষ্ঠানে নারীরা গর্জিয়াস লুক পছন্দ করেন। গহনা ছাড়া আমার সাজে পূর্ণতা আসে না। তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গহনায় গর্জিয়াস লুক আসে অনায়াসেই। রাতের আয়োজনে গোল্ডের প্রতি আকর্ষণ কম হলেও গোল্ডপ্লেটেড, রুপা, অক্সিডাইজ এবং ডায়মন্ডের গহনা অনেকেই বেছে নেন। তাছাড়া দিনের উৎসবে অনেকেই কাঠের আর মাটির গহনায় সাজেন। ’

সম্প্রতি ডায়মন্ডের গহনার ব্যবহারও বেড়েছে। স্বর্ণের অত্যধিক দাম এবং ডায়মন্ডের সহজলভ্যতাই এর কারণ। যারা ইমিটেশনের গহনায় ভিন্নতা চান এবং খরচের অঙ্ক একটু বাড়াতে পারেন, তারা পিরান, মাদুলি, বিবিয়ানা, নন্দনকুটির ও আইডিয়াজের গহনা বেশি পছন্দ করেন। কাঠ, সুতা, ধাতব, কড়ি, রুপা দিয়ে বাঁধানো গহনা ফ্যাশনে বৈচিত্র্য আনে। এ ছাড়া কুন্দন আর অক্সিডাইজের গহনার পাশাপাশি হাড়ের তৈরি গহনা পাওয়া যায়। পোশাকের সঙ্গে মানানসই চুড়ি বা মোটা বালা এবং গলায় এক বা একাধিক ঝোলানো মালা পরা যেতে পারে। বাজারের জুয়েলারি অলঙ্কার রমণীরা যেমন ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি পরতে পারেন বয়স্ক নারীরাও। তবে এ ক্ষেত্রে রংটা হলো বিবেচনার বিষয়। অর্থাৎ যাদের বয়স একটু বেশি, তারা তামাটে বা কালচে রংয়ের গহনায় মানাবে।

শাড়িতে মানানসই গহনা

শাড়ি যদি সিল্ক বা এন্ডি সিল্ক হয় তবে গহনাটা হতে হবে জমকালো। এ জন্য অ্যান্টিকের ব্রাশ গহনা বেস্ট। অ্যান্টিকের বাইরে পোর্সেলিন ও সিরামিকের গহনাও এমন শাড়ির সঙ্গে যায়। এ ছাড়া সিরামিকের লকেট, কানের দুল ও মেটালের চুড়িও মানায়। তাঁতের শাড়িতে একটু জাঙ্ক বা পশ্চিমা ধাঁচের গহনা বেশ মানাবে। হাতে চুড়ি ছাড়াও মোটা বালা বা ব্রেসলেট, গলায় নেকলেস অথবা বড় কোনো লকেট পরতে পারেন। সাদামাটা সুতির একরঙা শাড়ির সঙ্গে কড়ি, সুতা ও মেটালের গহনা মানায়। হাতে বালা বা বড় ডায়ালের ঘড়ি পরলেও ভালো দেখাবে। সুতি শাড়িতে আদিবাসী গহনা কিংবা গলায় বিভিন্ন রংয়ের পুঁতির মালা, কানে পালকের দুল মানাবে। তাছাড়া এ ধরনের শাড়ির সঙ্গে কাঠের রঙিন গয়নাও পরতে পারেন। কাতান বা ব্রকেটের শাড়ির সঙ্গে হালকা মেটালের গহনা পরতে পারেন।   এ ছাড়া রুপা ও গোল্ড প্লেটেড গহনাও মানায়। জর্জেটের শাড়ির সঙ্গে কাপড়ের মালার চলটা একেবারেই নতুন। এ ছাড়া ক্রিস্টাল পুঁতি বা মুক্তার কয়েক লহরের মালাও চলছে।   নেটের ফেব্রিকের সঙ্গে মুক্তা বসানো, এ ধরনের ফিউশনধর্মী গহনাগুলোও পরতে পারেন।   এ ছাড়া রুবি, পান্না, প্রবালের মালাও বেশ চলছে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow