Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২১:৫০
ট্রেন্ডি স্লিভলেস
ট্রেন্ডি স্লিভলেস
মডেল : উম্মে হাবীবা জারা ও লাবিবা অন্তি, পোশাক : ট্রাস্ট মার্ট মেকওভার : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, ছবি : সামির খান বিল্লাল স্টুডিও : এক্সপোজ

এই ভ্যাপসা গরম আর এই বৃষ্টি। সময়টা এখন রোদ-বর্ষার। এমন দিনে অনুষ্ঠান বা নিত্যদিনের অফিস বা ভার্সিটি করার উপযোগী পোশাক বাছাইয়ে চলে নানা এক্সপেরিমেন্ট। এমন অদ্ভুত আবহাওয়ায় আরামদায়ক পোশাক না হলে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকাটা মুশকিল। সঙ্গে ফ্যাশনের কম্বিনেশন তো থাকতেই হয়। তাই গরমের আরামে তারুণ্যের স্লিভলেস ট্রেন্ডই বেস্ট অপশন। শুধু এই সময় নয়, হাতাকাটা পোশাককে বারো মাসই স্বাচ্ছন্দ্যের পোশাক বলছেন সবাই। লিখেছেন— উম্মে হানি

 

 

মাঝে মাঝে বৃষ্টি আর হালকা হালকা রোদে ভ্যাপসা গরম। কারণ, চলছে বর্ষাকাল। হালকা গরম আর বৃষ্টিভেজা আমেজ। এমন দিনে তরুণীদের পোশাক নিয়ে চলে নানা এক্সপেরিমেন্ট। কেউ চান লং কামিজ, কেউবা লং গাউন। কেউবা আবার টি-শার্টেই নিজেদের ফ্যাশনেবল করে তুলতে ব্যস্ত। অনুষ্ঠান কিংবা নিত্যদিনের অফিস-ভার্সিটিতে পোশাক বাছাইয়ে হালকা ঝামেলা পোহাতে তো হয় সব তরুণীকেই। তবে, সবাই ফ্যাশন-সচেতন। সঙ্গে সময়ের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। এমন অদ্ভুত আবহাওয়ায় আরামদায়ক পোশাক না হলে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকাটা মুশকিল। সঙ্গে ফ্যাশনের কম্বিনেশন তো থাকতেই হয়। তা ছাড়া এ সময়ের পোশাক হওয়া চাই পাতলা এবং ছিমছাম। তাই গরমের আরামে তারুণ্যের স্লিভলেস ট্রেন্ডই বেস্ট অপশন। গরমে পরার জন্য বেছে নিতে পারেন স্লিভলেস পোশাক। বর্তমান ফ্যাশনের সঙ্গে মানানসই স্লিভলেস যে কোনো পোশাক ফ্যাশনেবল হওয়ার পাশাপাশি গরমেও স্বস্তি এনে দেয়। আমাদের পারিপার্শ্বিকতায় অনেকেই স্লিভলেস পোশাক এড়িয়ে চলেন। তবে শালীনতা বজায় রেখে গরমে স্বস্তি চাইলে স্লিভলেস পোশাক পরা যেতেই পারে। বর্তমানে তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই পছন্দ ট্রেন্ডি স্লিভলেস পোশাক। ক্যাম্পাস, বন্ধুদের আড্ডা বা পার্টিতে ট্রেন্ডি স্লিভলেস যে কোনো পোশাকই মানিয়ে যায় বেশ।

স্লিভলেস পোশাকের প্রধান শর্ত হলো আকর্ষণীয় হাত। কারণ হাত যদি সুন্দর না হয় তবে স্লিভলেস পোশাকও দেখতে লাগে বেমানান। স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজ, জিন্সের সঙ্গে স্লিভলেস কুর্তি বা টপস অহরহ বেছে নিচ্ছেন ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা। তাছাড়া অনেকেই বেছে নিচ্ছেন স্লিভলেস গাউন।   অনেকে আবার শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে নিচ্ছেন হালকা রঙের স্লিভলেস ব্লাউজ।

 

তারুণ্যের পছন্দ প্যারিস গ্যালারির কর্ণধার কাদের দেওয়ান বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে আমাদের দেশের নারীরা স্লিভলেস ফ্যাশনে অভ্যস্ত ছিলেন। তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল আভিজাত শ্রেণির মানুষের মাঝে। এখন সময় অনেক পাল্টেছে। এখনকার সব তরুণী হয়েছে ফ্যাশনসচেতন। এখন অনেক মেয়ে স্লিভলেস পরে বাসে চেপে ইউনিভার্সিটি বা অফিস করে বেড়াচ্ছেন অনায়াসেই। ’

 

 স্লিভলেস ট্রেন্ডে ট্রেন্ডি হয়ে উঠতে ফ্যাশনের পাশাপাশি কিছু বিষয় মানতেই হয়। যেমন—

স্লিভলেস পোশাকের নকশায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্মহোলের কাট। যা হওয়া চাই আর্মহোলের মাপ অনুযায়ী। কিছুটা সরু হাতে স্লিভলেস দেখতে ভালো লাগে। শরীরের গড়ন বুঝে স্লিভলেস পরা উচিত। স্লিভলেস বেশ স্বস্তিদায়ক। কারণ শারীরিক কারণে তাদের গরম বেশি লাগে। তবে নিজের সঙ্গে মানিয়ে নিলে স্লিভলেসে যে কাউকেই মানিয়ে যায়। স্লিভলেস পোশাক পরার ক্ষেত্রে হাত এবং আর্মপিটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

 

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস তাদের বর্ষার কালেকশনে এনেছে সুতি কাপড়ের ওপর ব্লকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট ও হালকা সুতার কাজ করা স্লিভলেস পোশাক। আর ওয়েস্টার্ন ড্রেসের অনেকটা আছে স্লিভলেস। স্লিভলেস ওয়েস্টার্ন আউটফিটে যেমন মানানসই আবার দেশীয় আউটফিটেও মন্দ লাগে না। স্লিভলেস ড্রেস হয়ে ওঠে ফ্যাশন ট্রেন্ড।

 

বাজারে ঘুরে দেখা গেল, শাড়ির সঙ্গে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন স্লিভলেস ব্লাউজ। আর যারা শাড়ি এড়িয়ে চলতে চান তারা পরতে পারেন স্লিভলেস কামিজ, কুর্তি, গাউন বা টপস। স্লিভলেস লং টপস, ফতুয়া, লং কামিজের এবং লং গাউনের ওপর কারচুপির কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া গরম বলে হালকা কাজের একরঙা স্লিভলেস শার্টও তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া অনেক ফ্যাশন হাউস মেয়েদের টি-শার্টের কালেকশনে এনেছে স্লিভলেস ট্রেন্ড। ঘরে-বাইরে সবখানে পরার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে এসব ট্রেন্ডি পোশাক।

 

ট্রেন্ডি স্লিভলেস ফ্যাশনে বেছে নিতে পারেন সাদা, আকাশি, হলুদ, হালকা নীল, হালকা সবুজ, সি গ্রিন, গোলাপি রঙ। তবে গরমের কারণে কালো রঙের পোশাক না পরাই ভালো। এতে আরও বেশি গরম লাগবে। তাই হালকা রঙের স্লিভলেস পোশাকই ভালো।

 

বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে নানা ডিজাইনের স্লিভলেস পোশাক পাওয়া যায়। এ ছাড়া বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, মৌচাক মার্কেট, চাঁদনিচক, গাউছিয়া ও নিউমার্কেটে পাওয়া যাবে স্লিভলেস ট্রেন্ডি পোশাক। চাইলে আপনি গজ কাপড় কিনে বানিয়ে নিতে পারেন মনের মতো স্লিভলেস ফ্যাশনেবল পোশাক।

 

স্লিভলেস টুকটাক

০. স্লিভলেসের সঙ্গে পালোজ্জা এবং লেগিংস দুটোই ভালো মানায়।

০. স্লিভলেস পোশাক পরলে অবশ্যই হাতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন। না হলে সূর্যের তাপে হাত পুড়ে কাল হয়ে যেতে পারে।

০. প্রতিদিন বাসায় ফিরে স্ক্রাবিং করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ময়লা দূর হয়ে যাবে। কারণ সারা দিন হাত খোলা থাকার ফলে অনেক ধুলা জমে। যা হাতের ত্বক নষ্ট করে ফেলে।

০. যাদের হাত একটু মোটা তাদের স্লিভলেস পোশাক না পরাই ভালো।   সরু হাতে স্লিভলেস ভালো মানায়।

০. বাসার বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow