Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২১:৫২
হেয়ার কালার...
হেয়ার কালার...

ফ্যাশনে বা চেহারায় নতুন লুক আনতে হেয়ারস্টাইলের জুড়ি নেই। তবে মুখের গড়ন ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হেয়ারস্টাইল করা উত্তম। কোন স্টাইলে বা কালারে মানাবে সে সম্পর্কে হেয়ার এক্সপার্টের সঙ্গে পরামর্শ করে নিলে ভালো। লিখেছেন— রাফিয়া আহমেদ

 

আজকাল অনেকেই চেহারায় ভিন্নতা আনার জন্য হেয়ার কালার করেন। হেয়ার কালার করার ক্ষেত্রে গায়ের রং বিবেচনায় রাখা উচিত। চুলে নানারকম স্টাইলিং করতে আমাদের সবারই ভালো লাগে। চুলের স্টাইলে একটু বদল আপনার স্টাইল স্টেটমেন্টে যোগ করতে পারে নতুনমাত্রা। আর এ ক্ষেত্রে চুলের স্টাইলিংয়ে আজকাল কৃত্রিম রঙের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। হেয়ার কালার শুধু আপনার লুকই বদলে দেবে না বরং আপনার উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে তুলবে। চুলে রং করার ক্ষেত্রে অনেক প্রশ্ন মনের মাঝে আটকে যায়। তবে চিন্তার কিছু নেই। সবকিছুরই তো সুন্দর সমাধান থাকে। আসুন জেনে নিই হেয়ার কালার করার ক্ষেত্রে আপনার চুলের উপযোগী রং কীভাবে বেছে নেবেন এবং চুলের কালার করার পরের যত্নআত্তি সম্পর্কে।

 

সঠিক হেয়ার কালার বেছে নিন

প্রথমবার হেয়ার কালার করালে পারমানেন্ট কালার ব্যবহার করা উচিত নয়। সেমি পারমানেন্ট হেয়ার কালার করে নিতে পারেন। এতে বেশ কয়েকবার শ্যাম্পু করার পর রং ধুয়ে যায়। এতে পরবর্তীতে পছন্দমতো হেয়ার কালার করে নিতে পারেন। প্রথমবার কালার করলে কোনো ভালো সেলুন অথবা পারলারে গিয়ে প্রফেশনালের হাতে হেয়ার কালার করানো ভালো। কারণ, এখানে প্রফেশনালরা আপনার চুলের ধরন ও স্কিন টোন বুঝে হেয়ার কালার করবে।

 

ঘরে বসে হেয়ার কালার :

ঘরে বসেই পছন্দমতো হেয়ার কালার করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো কোম্পানির হেয়ার কালার বেছে নিতে হবে। হেয়ার কালার করার আগে প্যাকের গায়ের নির্দেশনা দেখে নিন। এ ছাড়া কালার করার আগে প্যাকটি টেস্ট করে নিলে ভালো হয়। এতে করে অ্যালার্জি ও র‌্যাকোর সম্ভাবনা থাকবে না। রং বাছাই করার ক্ষেত্রে নিজের চুলের রঙের একদম বিপরীত শেডের কালার না করে ন্যাচারাল কালারের কাছাকাছি করা ভালো। চুলের কালার করার সময় অবশ্যই বয়স, গায়ের রং ও আপনার প্রফেশনের কথাটি মাথায় রাখতে হবে।

 

কালারড চুলের পরিচর্যা :

চুলের যখন কালার করালে সৌন্দর্য অনেকটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। কিন্তু এই হেয়ার কালার যেন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হয় তার জন্য কিছু পরিচর্যা প্রয়োজন। হেয়ার কালার করার পর জরুরি হলো অয়েল ম্যাসাজ। সপ্তাহে একদিন হলেও হট অয়েল ম্যাসাজ করুন। শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে আমন্ড অয়েল অথবা তিলের তেল সামান্য গরম করে নিন। যদি তাও না হয়, নারিকেল তেল কুসুম গরম করে আঙ্গুলের ডগায় তেল ভরিয়ে নিয়ে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। এই ম্যাসাজে আপনার ব্লাড মার্কুলেশন ভালো থাকবে। এরপর কুসুম গরম পানিতে নরম একটি তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে মাথার চুলগুলো ৫ মিনিট জড়িয়ে রাখুন এবং এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

 

কালারড চুলের জন্য শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার :

চুল ভালো রাখার জন্য অবশ্যই মাথার স্ক্যাল্প বা চুলের গোড়া পরিষ্কার রাখা উচিত। এ ছাড়া কালারড চুলের একটু বেশি যত্ন তো নিতেই হবে। কালারড চুলের ক্ষেত্রে অবশ্যই কালার প্রটেকটিভ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এ শ্যাম্পু হেয়ার কালার প্রটেস্ট করে এবং চুল নরম ও সফট রাখে। যে কোনো ভালো কসমেটিক্স-এর দোকানে হেয়ার কালার প্রটেক্ট শ্যাম্পু পাওয়া যায়। কালারড চুল শ্যাম্পু করার আগে চুল ভিজিয়ে নিন এবং শ্যাম্পু ভালোভাবে স্ক্যাল্পে ও চুলে লাগিয়ে নিন। তারপর কিছুক্ষণ নরম হাতে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। কখনই চুলের গোড়ায় খুব জোড়ে ঘষা দেবেন না। এতে চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। কালারড চুল ধোয়ার জন্য গরম বা কুসুম পানি ব্যবহার করবেন না। ঠাণ্ডা পানি বা নরমাল পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নেবেন। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলেইর ডগা থেকে চুলের মাঝখানের অংশ পর্যন্ত হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন এবং ৫ মিনিট অথবা ২ মিনিট পর ভালোভাবে পানি দিয়ে চুলগুলো ধুয়ে ফেলুন। এতে করে আপনার চুল আরও চকচকে ও নরম, সফট হবে।

 

কালারড চুলের জন্য ঘরোয়া প্যাক :

কালারড চুলের জন্য কয়েকটি ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্যাক-১ : অলিভ অয়েল ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে সামান্য কুসুম গরম করে নিন। তারপর চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর ভালো মানের প্রোটিনযুক্ত কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি চুল মজবুত রাখতে সাহায্য করবে।

প্যাক-২ : দুটি কালা ব্লিল্ডার করুন এবং এর মধ্যে অলিভ অয়েল, মধু ও পরিমাণ মতো টকদই দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ও উপরে লাগান। আধা শুকনো অবস্থায় হয়ে এলে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এই প্যাকটি কালারড চুলের জন্য দারুণ উপকারী।

 

ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট :

কালারড চুলের জন্য ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্টটি খুবই উপকারী। ডিপ কন্ডিশনিং-এর জন্য ১টি ডিম, ১ চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ চা চামচ মধু ও সামান্য গ্লিসারিন ভালো করে মিশিয়ে চুলের স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। গ্লিসারিন ও মধু চুলকে ময়েশ্চারাইজ করে তোলে।

 

হেয়ার স্পা : কালার চুলের জন্য আগে একবার করে হেয়ার স্পা করা দরকার। যে কোনো ভালো পারলারে গিয়ে প্রফেশনালের হাতে হেয়ার স্পা করিয়ে নিন। রুট না রিশিৎ, অয়েল ম্যাসাজ শ্যাম্পু কন্ডিশনিং ও হেয়ার মাস্কের সাহায্যে কালারড চুলের মধ্যে জেল্লা ও ময়েশ্চার ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে চুল অনেক কোমল ও মোলায়েম হয়ে ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow