Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২১:৫৬
অন্দরসাজে বাহারি দরজা
অন্দরসাজে বাহারি দরজা

অন্দরসাজে আভিজাত্য না হলে মানায় না। জমিদার বাড়ির সদর দরজা কিংবা গেরস্থ বাড়ির কাঠের দরজা, মনের মতো সাজানো কুঠিরে প্রবেশের আগে অন্দরসাজের আভাস মেলে এখান থেকেই। লিখেছেন— আবদুল কাদের

 

অন্দরসাজে আভিজাত্য না হলে মানায় না। জমিদারবাড়ির সদর দরজা বা গেরস্ত বাড়ির কাঠের দরজা কিংবা স্মার্ট ফ্ল্যাটের স্মার্ট ডোর, অন্দরমহলে প্রবেশের বাহারি রূপরেখা এখান থেকেই শুরু। মনের মতো সাজানো কুঠিরে প্রবেশের আগে অন্দরসাজের আভাস মেলে এখান থেকেই।  

আলিশান বাড়ি যেমন আভিজাত্য ও রুচির পরিচয় বহন করে, তেমনি প্রতিটি অন্দরমহলে প্রবেশের প্রধান ফটক জানান দেয় ঘরের আভিজাত্যের রূপকথা। যেমন- নবাবগঞ্জের জমিদারবাড়ি, শত শত বছর আগের জমিদারবাড়িগুলোর সিংহদুয়ার বলে দেয় সে সময়ের আভিজাত্য আর বিলাসিতার কথা। পুরোদস্তুর ধুলোর আদলে ঢাকা সদর দরজাগুলো এখনো শৈল্পিক মাধুর্যে ভরপুর। বাড়িগুলোর বিশাল বারান্দার পাশের দরজায় সকালের মিষ্টি রোদের উঁকিঝুঁকি অপরূপ আবহ তৈরি করে। সময় পাল্টে গেছে, জমিদারি সদর নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকলেও নিজের সাধের বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাটে প্রবেশের প্রধান ফটকটি নিয়ে কি কখনো ভেবেছেন? শুধু কি তাই, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার দরজা কিংবা বারান্দা-ওয়াশরুমের দরজা নিয়ে ভাবার সময় আছে তো! হ্যাঁ অবশ্যই আছে। অন্দরমহলের আসবাব, রং, মেঝের পাশাপাশি অন্দরের দরজাও কিন্তু হয়ে উঠতে পারে আপনার অন্দরসাজের বিশেষ পরিচারক।

মূল দরজা থেকে শুরু করে ঘরের দরজা, বারান্দার দরজা এমনকি আপনার ঘরের বাথরুমের দরজাটি পর্যন্ত বানাতে হবে অন্দরসাজের ব্যাকরণ মেনে। সহজভাবে বলতে গেলে ঘরের আয়তন, বাজেট ও ব্যবহারিক প্রয়োজন মাথায় রেখে বেছে নিতে হবে দরজার ডিজাইন। এখানেই অন্দরসাজের মুনশিয়ানা। ঘরের দরজায় সেগুন কাঠের বিকল্প নেই আর এর ওপরে বার্নিশের মেকআপ রূপ ঢং পাল্টে দেয়। তাই মূল দরজায় সেগুনই হোক প্রথম পছন্দ। অ্যান্টিক হাতল, নান্দনিক ঘণ্টা ছাড়াও যুক্ত করতে পারেন কাঠের শৈল্পিক নেমপ্লেট। এ ছাড়া ব্যতিক্রমী লুক আনতে রং করাতে পারেন। রাখতে পারেন হ্যান্ড পেইন্টিং। শিশুদের ঘরের দরজায় শিশুতোষ পেইন্ট করাতে পারেন। যাদের উজ্জ্বল রং পছন্দ তাদের জন্য এর চেয়ে বেটার অপশন আর নেই। নানা ধরনের দেশি-বিদেশি লক সদরের সৌন্দর্য অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া ঐতিহ্যকে আগলে রাখতে কাঠের মিস্ত্রিকে আপনার পছন্দের ডিজাইন বাতলে দিন। এক্ষেত্রে নকশাটি যেন সূক্ষ্ম হয় সেদিকটাও খেয়াল রাখবেন। জাফরি কাজ করা কাঠের দরজা সৌন্দর্যে ভেরিয়েশন আনে। একেবারে সোনায় সোহাগা!

তবে আপনার অন্দরসাজে দরজাটি আধুনিক লুকও দিতে পারেন। এক্ষেত্রে কাঠের অপশন তো আছেই, সঙ্গে দিতে পারেন উড ফ্রেমড গ্লাস ডোর, এমডিএফ, মেটালের দরজা। আজকাল কাঠের সঙ্গে কাচের কম্বিনেশন বেশ মানায়। তবে বাথরুমের দরজায় কাঠ না হয়ে মেটাল কিংবা প্লাস্টিকের দরজা দিতে পারেন। এবার দরজার ডিজাইন নিয়ে করতে পারেন এক্সপেরিমেন্ট। আয়তন কম হলে পকেট  ডোর করুন। এতে দেয়ালের মধ্যে স্লাইড ঢুকে যাবে। এ ছাড়া ডিজাইনে আরও থাকছে স্লাইডিং ফোল্ডিং, ফ্রেঞ্চ ও ডাচ স্টাইল।

 

সদরসজ্জায় টিপস :

০. দরজার বাইরের স্থান বড় দেখাতে চাইলে কাঠে খোদাই করা ওয়ালেট কিংবা টাইলস স্টোন ব্যবহার করতে পারেন। দরজার পাশে দেয়ালে আয়নাও দিতে পারেন।

০. দরজার পাশে কাঠের বড় টেরাকোটা ছাড়াও ছোট ছোট পেইন্টিং ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।

০. দেয়ালের পাশে রাখতে পারেন ছোট গাছের টব। তবে হালকা আলো-বাতাসের সুবিধা থাকতে হবে।

০. বিভিন্ন পেইন্টিং আভিজাত্যের পরিচায়ক। তাই দরজার আশপাশের ফাঁকা স্থানে পেইন্টিংস ঝুলিয়ে দিতে পারেন।

০. ওয়াল ব্রাকেট লাইট কিংবা লুকানো বাতির হালকা আলোর আমেজে রাঙিয়ে তুলতে পারেন আপনার সদর দরজা।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow