Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:২৬
উৎসবের সাজ
যে কোনো উৎসবই সাজের বৈচিত্র্যে ভিন্নমাত্রা পায়। সামনেই ঈদ। তারপর রয়েছে পূজা। এরই মধ্যে সাজের আয়োজন গুছিয়ে নিতে শুরু করেছেন অনেকে। সাজ তো কেবল পোশাকেই নয়, ত্বক, চুল, চোখ, ঠোঁট, গয়না— সব কিছুতেই চাই যত্নের ছোঁয়া। এ ছাড়া দিনের শুরুতে যে সাজ নেবেন সেটা আবহাওয়াভেদে একটু কৌশলী হওয়া চাই।
উৎসবের সাজ
মডেল : ফারজানা ছবি, পোশাক : ডিজাইনার তানিয়া কামাল, মেকওভার : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, আলোকচিত্রী : মহসীন আব্বাস

উৎসবের বৈচিত্র্য সাজের বৈচিত্র্যে ভিন্নমাত্রা পায়। সামনেই ঈদ।

তারপর রয়েছে পূজা। এরই মধ্যে সাজের আয়োজন গুছিয়ে নিতে শুরু করেছেন অনেকে। সাজ তো কেবল পোশাকেই নয়। ত্বক, চুল, চোখ, ঠোঁট, গয়না—সব কিছুতেই চাই যত্নের ছোঁয়া। এ ছাড়া দিনের শুরুতে যে সাজ নেবেন সেটা আবহাওয়া ভেদে একটু কৌশলী হওয়া চাই। বিকাল পেরিয়ে রাতের ভারী সাজেও থাকা চাই সচেতন—

 

উৎসবের আগে ফ্রেশ থাকুন

>> সবচেয়ে জরুরি হলো সারা দিন প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। না হলে কিন্তু নিজেকে খুব শুকনো দেখাবে। আর্দ্রতা চলে গেলে কিন্তু নিজেকে খুব কালো দেখাবে। পানি ছাড়াও লাচ্চি, জুস এগুলো খাওয়া যেতে পারে তাহলে শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকবে আর সারা দিন আপনাকে খুব ফ্রেশ দেখাবে।

>> উৎসবের আগের রাতে চুলে শ্যাম্পু করে রাখতে পারলেই ভালো হয়। শ্যাম্পু করার আগে নারিকেল তেল একটু গরম করে মাথায় ভালো করে ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর মাথাটাকে একটা তোয়ালে দিয়ে ৩০ মিনিট ঢেকে রেখে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। শ্যাম্পুর পরে চুলটা একটু শুকনো হলে হেয়ার সেরাম লাগিয়ে নিলে পর দিন চুলটা খুব সিল্কি আর সফট লাগবে।

>> রাতে মুখ পরিষ্কার করে টোনার লাগানোর পরে আন্ডার আই ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর নাইট ক্রিম লাগিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া টক দই দিয়ে মুখ ধুতে পারেন। টক দই মুখকে উজ্জ্বল করে তোলে।

>> সকালে মেকাপের জন্য খুব বেশি ডার্ক বেইস মেকআপ করবেন না। একটু ফেস প্রাইমার লাগিয়ে তারপর একটু ম্যাট ফাউন্ডেশন লাগান। তার ওপর মিনেরাল ফেস পাউডার লাগিয়ে নিন। এই রুটিনটা মেনে চললে ঘাম হলেও মেকআপ গলে যাবার সম্ভাবনা থাকে না।

>> চোখের মেকআপের জন্য কালো আইলাইনার ছাড়াও লাগাতে পারেন অন্য রঙের আই লাইনার। দিনের বেলায় লাগাতে পারেন নীল রঙের আইলাইনার। যাদের চোখের রঙ একটু বাদামি তাদের সবুজ রঙের আইলাইনার পরলেও খুব ভালো লাগবে। এটা চোখকে খুব কমপ্লিমেন্ট করবে।

>> ঠোঁটে প্রাইমার লাগানো যেতে পারে। বিশেষ দিনে ডার্ক রঙ যেমন লাল, ডার্ক পিঙ্ক, অরেঞ্জ এই রংগুলো ভালো লাগবে। লাইট রঙ পরতে চাইলে পার্পল, ভায়োলেট, বারগেন্ডি এই রংগুলো ভালো লাগবে।

 

দেশি শাড়িতে

দেশি শাড়ি মানেই তার সঙ্গে পরতে পারেন ঐতিহ্যবাহী গয়না, কাচের চুড়ি। তবে এর বাইরেও একটু বৈচিত্র্য যোগ করতে পারেন। হাতে চুড়ির বদলে দেখা যাচ্ছে মোটা বালা বা ব্রেসলেট, গলায় বিব নেকলেস অথবা বড় কোনো লকেট। চুলটা হয়তো সাজিয়ে নিচ্ছেন স্টাইলিশ কোনো খোঁপা বা বেণির বাঁধনে। ব্লাউজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন স্টাইলিশ কোনো টপ। এ ছাড়া চুলটা এক পাশে এলোমেলো খোঁপা করে একটা মেসি লুক আনার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আজকাল সুতির শাড়ির সঙ্গে কড়ি, সুতা ও মেটালের আধুনিক গয়না পরেও একটু বৈচিত্র্য আনতে পারেন। এ ছাড়া শাড়ির বেলায় চাপা সাদা, ছাই বা হালকা কোনো রঙের শাড়ির সঙ্গে রংচংয়ে ব্লাউজেও স্টাইলিশ লুক আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ব্লাউজের কাটছাঁটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের শাড়ির সঙ্গে তরুণীদের হাইনেক, স্লিভলেস, বেন্ড কলার, বোট কলার, শার্টের কলার দেওয়া ব্লাউজ ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে।

 

দিনের সাজ রাতের সাজ

দিনের সাজে হালকা লিপস্টিক দিলে খারাপ লাগবে না। কিন্তু রাতের পার্টিতে ডার্ক কালার যেমন ব্রোঞ্জ, কপার, কোরাল, রেড অথবা অরেঞ্জটা বেছে নিলে সাজটা আরও বেশি ফুটে উঠবে। যাদের ঠোঁট একটু মোটা তারা লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আঁকার সময় একটু ভিতরের দিকে আঁকুন। যাদের পাতলা ঠোঁট তারা আঁকার সময় একটু বাড়িয়ে নিতে পারেন গরমে মেকআপের ক্ষেত্রে একটু যত্নশীল হতে হবে। গরমে ভারী ফাউন্ডেশন ও বেশি ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না। বেশি ক্রিম বা ফাউন্ডেশনে ত্বক ঘামলে গলে গিয়ে থকথকে দেখাবে। হালকা ফাউন্ডেশনের ওপর এসপিএফসহ ম্যাট পাউডার ব্যবহার করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারেন।

 

ঈদের সাজ

 এবারের ঈদের সাজে গরম ও বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ঈদের আগে অবশ্যই মেনিকিউরটা সেরে ফেলুন। প্রয়োজনে পেডিকিউরও করিয়ে নিন। এ ছাড়াও ফেশিয়াল, ওয়াক্সিং, হেয়ার ট্রিটমেন্ট সেরে ফেলুন ঈদের বেশ কিছুদিন আগেই। ঈদ যেহেতু কিছুটা গরমে তাই সকালের সাজটা হওয়া চাই স্নিগ্ধ। সেটা হতে পারে হালকা সুতি সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কানে ছোট টব, হাতে পাতলা ব্রেসলেট বা চুড়ি, গলায় ছোট লকেট পাতলা চেইন, ঠোঁটে হালকা লিপগ্লস। বিকালেও হালকা মেকআপই ভালো লাগবে। ঈদে রাতে একটু জমকালোভাবে সাজা হয়। রাতে যদি কোথাও দাওয়াত থাকে তাহলে একটু জমকালো শাড়ি অথবা জমকালো কামিজ পরে নিন। রাতের বেলায় গাঢ় রং বেশ মানাবে। এ ক্ষেত্রে কালো, লাল, মেরুন, রয়েল ব্লু, গাঢ় সবুজ, মেজেন্টা, বেগুনি ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। পায়ে পরে নিন মানানসই হিল জুতা। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একটি পার্সও নিয়ে নিন। মেকআপের ক্ষেত্রে চোখ ও ঠোঁটকে প্রাধান্য দিন। পারফেক্ট লুকের ক্ষেত্রে চুলের সাজটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের সাজে পূর্ণতা আনতে ও নিজেকে সতেজ-প্রাণবন্ত রাখতে সাজের সঙ্গে পারফিউমের ব্যবহারটাও গুরুত্বপূর্ণ। হাতে মেহেদি পরতে পারেন। মেহেদি লাগানোর আগে অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুয়ে ও মুছে শুকিয়ে নিতে হবে বলে জানান রূপবিশেষজ্ঞ। আর মেহেদি শুকিয়ে উঠিয়ে ফেলার পর পানি দিয়ে না ধুয়ে সামান্য তেল মাখিয়ে রাখুন।

 

পূজার সাজ

পূজার সাজে দিনের বেলার সাজে ন্যাচারাল লুকটা ধরে রাখা জরুরি। দিনের উৎসবে বেইজ করার জন্য ত্বকের টোনের সঙ্গে মিলিয়ে ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বা খুব হালকা করে ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন। ফাউন্ডেশন হালকা করার জন্য এতে কিছুটা পানি মিশিয়ে নিন।

খুব অল্প পরিমাণে লাগিয়ে এর ওপর পাউডার বুলিয়ে নিন। তবে মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন লোশন লাগাতে ভুলবেন না। দিনে চোখের সাজে অফ হোয়াইট হাইলাইট, কালো ও বাদামি রঙের কম্বিনেশনের আইশ্যাডো, পেনসিল আইলাইনার ব্যবহার করতে পারেন। অথবা চাইলে শুধু কাজলের একটা হালকা রেখা টেনে দিন চোখে। ঠোঁটে কোরাল বা হালকা গোলাপি লিপস্টিক অথবা লিপগ্লস লাগাতে পারেন। সঙ্গে ব্রাউন ব্লাশঅন। সারা দিনের জন্য বাইরে বের হলে চুলের স্টাইলটা এমনভাবে করুন যাতে চুল নিয়ে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে না হয়, আবার দেখতেও ভালো দেখায়। সন্ধ্যার পর পূজা দেখতে বের হলে জমকালোভাবে সাজতে পারেন। তাই রাতের মেকআপ একটু যত্ন নিয়ে করতে হবে।

 

নান্দনিক হ্যান্ড পেইন্ট

পোশাকে হাতের কাজ বলতে আগে শুধু সুই-সুতার নকশাকেই বোঝানো হতো। এখন শুধু সুই-সুতায় বোনা বাহারি ফুল, পাখি, নকশাই নয়, কাপড়ের সৌন্দর্য বর্ধন করতে শিল্পীর রং-তুলির জনপ্রিয়তাও কম নয়। রং আর তুলির স্পর্শে বর্ণিল হয়ে ওঠে পরনের পোশাক। এখন অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হ্যান্ড পেইন্টের তৈরি পোশাক নিয়ে কাজ করছেন। তা ছাড়া অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও হ্যান্ড পেইন্টের পোশাক তৈরিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় ডিজাইনার তানিয়া কামালের সঙ্গে। তিনি বলেন— ‘সাধারণত তাঁত, মসলিন শাড়ির ওপরই হ্যান্ড পেইন্টের কাজ বেশি হয়ে থাকে। আর হাতে আঁকা নকশার ক্ষেত্রে শাড়িতে মূল আকর্ষণ থাকে আঁচলে। একেক জন শিল্পী একেকভাবে তাদের সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তোলেন পোশাককে সুন্দর করে সাজাতে। একেক জন শিল্পীর কাজের ধরন এবং তাদের পছন্দগুলোও ভিন্ন। তাই একেক জনের কাজে তাদের যার যার বিশেষত্ব ফুটে ওঠে। ’

আমাদের এ সংখ্যার প্রচ্ছদ ও ভিতরে ব্যবহৃত শাড়িগুলোর থিম মূলত শরৎ। চাইলে আপনিও আপনার পছন্দের ডিজাইন প্রিন্ট করিয়ে নিতে পারেন। এতে আপনার সাজপোশাক অন্য কারও সঙ্গেই আর মিলবে না।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow