Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:২৮
আইনবিদের মুখোমুখি
চেক জালিয়াতি প্রসঙ্গ
ব্যারিস্টার আহসান হাবীব ভূঁইয়া, আইনজীবী, সুপ্রিমকোর্ট
চেক জালিয়াতি প্রসঙ্গ

সমস্যা

প্রায়ই চেক প্রতারণার শিকার হচ্ছি। ব্যাংকে চেক জমা দেওয়ার পর চেক ডিসঅনার হলে পরবর্তীতে কী করা উচিত এ নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য আছে। এক্ষেত্রে সঠিক বক্তব্য ও প্রতিকার জানতে চাই।

— হাদিউদ্দিন, মাগুরা।

 

সমাধান

চেক জালিয়াতি বা প্রতারণার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় আসে। প্রথম বিষয়টি হচ্ছে চেকের মেয়াদ। চেকে উল্লিখিত তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে তা জমা দিয়ে টাকা ক্যাশ করতে হবে। ৬ মাস অতিবাহিত হলে ওই চেক মেয়াদউত্তীর্ণ বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় পুনরায় আরেকটি চেক নিয়ে নেওয়া শ্রেয়। মেয়াদউত্তীর্ণ চেক দিয়ে পাওনা টাকা ফেরতের জন্য দেওয়ানি আদালতে (সিভিল কোর্টে) মামলা করা যাবে না, তবে সে ক্ষেত্রে ফৌজদারি আদালতে (ক্রিমিনাল কোর্টে) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪০৬ ও ৪২০ এর অধীনে মামলা দায়ের করা যাবে। এখানে বোঝা জরুরি যে, ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করে কিন্তু পাওনা অর্থ ফিরে পাওয়া যাবে না; বরং আসামিকে ওই ধারার অধীনে দোষী সাব্যস্ত করতে পারলে অনধিক ৩ বা ৭ বছরের সাজা ও আর্থিক দণ্ড হবে। যেহেতু আর্থিক লেনদেন দেওয়ানি আদালতের বিচার্য বিষয় সে ক্ষেত্রে তা ফৌজদারি আদালতে নিয়ে সফল হওয়া কষ্টসাধ্য এবং অর্থ উদ্ধারও হয় না। সেক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে অর্থ আদায়ের মামলা (মানি স্যুট) দায়ের করা যেতে পারে। তবে এই আইনি প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ।

অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা চেক তিন বার ডিসঅনার না হওয়া ছাড়া মামলা করা যায় না। এমনকি ব্যাংক থেকেও এমন ভুল তথ্য দেওয়া হয়। কোনো আইনেই এমনটি উল্লেখ নেই। চেক ডিসঅনার হলে ব্যাংক অফিসার চেক ফেরতসহ ডিসঅনার স্লিপ প্রদান করবে, যাতে ডিসঅনারের কারণ উল্লেখ/টিক দেওয়া থাকবে। ব্যাংক হতে চেক ডিসঅনার স্লিপ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চেকে উল্লিখিত অঙ্কের টাকা দাবি করে আইনজীবী মারফত রেজিস্টার পোস্টযোগে চেক প্রতারকের জ্ঞাত ঠিকানায় লিগ্যাল নোটিস পাঠাতে হবে। যদিও আইন অনুযায়ী তিন ভাবে নোটিস পৌঁছানো যায়— নিজ হাতে, রেজিস্টার পোস্টে, জাতীয় দৈনিকে ছাপিয়ে। অনেকেই চেক প্রতারকের আশ্বাসে কয়েক মাস অতিবাহিত করে দেন। ৩০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে দেখতে হবে চেকের মেয়াদ (৬ মাস) আছে কিনা। সেক্ষেত্রে আবার ব্যাংকে চেক জমা দিয়ে চেক ডিসঅনার স্লিপ নিতে হবে ও ওই ডিসঅনার স্লিপ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নোটিস পাঠাতে হবে। ওই নোটিসে চেকে প্রদত্ত অর্থ ফেরত দিতে ৩০ দিনের সময় উল্লেখ করে দিতে হবে। ৩০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে এবং সমুদয় অর্থ প্রদান না করলে নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় মামলা করতে হবে। উল্লেখ্য, চেকে প্রদানকারীর স্বাক্ষর থাকলেই তা মামলা প্রমাণে যথেষ্ট, চেক প্রদানের উদ্দেশ্য কী ছিল তা বিবেচনাধীন নয়। কারণ, চেক নগদ অর্থ বলে গণ্য করা হয়।

আইনজীবীকে চেক ও ডিসঅনার স্লিপের ফটোকপি, মূল কপি নিজ হেফাজতে রাখবেন। চেক প্রতারকের স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানা ও সম্ভব হলে জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করুন। আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকবেন। আর খেয়াল রাখবেন উপরোল্লিখিত প্রক্রিয়া যেন দুই ধাপে ৩০ দিন সময়ের ব্যত্যয় না ঘটে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow