Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৩১
জেনে রাখুন
পায়ের গঠনজনিত সমস্যা
পায়ের গঠনজনিত সমস্যা

জন্মের পর শিশুদের পায়ের গঠনে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটু ও পায়ের গঠন স্বাভাবিক হয়ে যায়।

মুশকিল হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যদি পায়ের গঠন না শুধরায়! অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই কিন্তু পায়ের গঠনজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর পোশাকি নাম ‘জেনু ভ্যালগাম’ ও ‘জেনু ভ্যারাম’। তবে সঠিক সময়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠাও সম্ভব।

ডাক্তারি শাস্ত্রে ‘জেনু’ মানে হাঁটু আর ‘ভ্যালগাম’। অর্থাৎ পায়ের নিচের অংশের ডিফরমিটি। এতে হাঁটুর নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত বাইরের দিকে বেঁকে যায় এবং হাঁটুর উপরের দিকে বেঁকে যায়। আর হাঁটুর উপরের দিকটা ভিতরে বেঁকে আসে। এর ঠিক উল্টো অসুখের নাম ‘জেনু ভ্যারাম’। এটি পায়ের নিচের দিকের অংশ ভিতরের দিকে ঢুকে যায়। পা ধনুকের মতো বেঁকে যায়। শিশুর ৩-৪ বছর বয়স পার হওয়ার পরেও যদি পায়ের আকৃতি স্বাভাবিক না হলে, প্যাথোলজিকাল সমস্যা ধরা হবে। অসুখটির উৎসস্থল থাই বোন-এর নিম্নাংশ। শিন বোন-এর উপরের অংশেও সমস্যা থাকতে পারে। বাচ্চাদের রিকেট-এর মতো অসুখের ফলে, থাই বোন-এর নিচের দিকে কোনো আঘাত লাগলে, ইনফেকশনের কারণে, ঝিনাইন টিউমারের জন্য ডিফরমিটি হতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রে কোনো ট্রমা বা ইনজুরি এর অন্যতম বড় কারণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের হলেও, এটি যে কোনো বয়সেই হতে পারে। প্রধান লক্ষণ অবশ্যই পায়ের আকৃতির অস্বাভাবিকতা। এই অসুখের ক্ষেত্রে মূলত ক্লিনিক্যাল ডায়াগনস্টিক করা হয়। এর সঙ্গে  রেডিওলজিক্যাল এক্স-রে করেও দেখা হয়।

 

>> চিকিৎসায় সমাধান

‘জেনু ভ্যারগাম’ খুব একটা সিম্পটম্যাটিক হলেও ‘জেনু ভ্যারামে’র ফলে আর্থ্রাইটিস জেঁকে বসে দ্রুত। দৈনন্দিন হাঁটাচলায় অসুবিধা হয়। প্রাইমারি স্টেজে এক্সারসাইজ করতে হয়। হ্যামস্ট্রিং মাসল ও কোয়াড্রিংসেপ মাসল মজুবত করতে এক্সারসাইজই বেস্ট। এতে জয়েন্টের ওপর শরীরে ভারের চাপ কিছুটা কমে। স্ট্রেচিং করতে হয়। এক্সারসাইজে কাজ না হলে, অস্টিওটোমি করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হাড়ের অ্যালাইনমেন্ট সার্জারির মাধ্যমে বদলে দেওয়া হয়। পায়ের নিচের দিকের অংশের আকৃতি শুধরে দিতে এটি সাহায্য করে। আবার একটু বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে ইউনিকমপার্টমেন্টাল নিরিপ্লেসমেন্ট করানো যেতে পারে। যদি অস্টিওম্যারলেশিয়া (ভিটামিন ডি’র অভাব) এই অসুখ হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ওবাল মেডিসিন দেওয়া যেতে পারে। ইনফেকশনের জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ দেওয়া হয়। তবে পায়ের ডিফরমিটি কারেকশন সবক্ষেত্রেই কমন। গোড়ালি ও হাঁটুর মধ্যদেশ যেন সমান্তরাল থাকে। এ ধরনের সমস্যা ছোটবেলাতেই ধরা পড়লে ভালো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কারেকশন করিয়ে নিতে হবে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow