Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৩৫
ঈদের আগে চুলের যত্ন
ঈদের আগে চুলের যত্ন
মডেল : রিমু

ঈদের সাজে তোড়জোড়, প্রস্তুতিতেও বেজায় আপত্তি। অথচ হয়ে উঠতে চান সুন্দরী। কিন্তু সময়ের অভাবে অনেকেই চুলের প্রতি যত্নবান হতে পারেন না। তবে এ সময়টা কম-বেশি সবাই ছোটেন পারলারে এক্সপার্টের কাছে। ঈদের আগে চুলের যত্ন নিয়ে জানাচ্ছেন— উম্মে হানি

 

ঈদের আগে চুল নিয়ে নানা পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। অনেকেই সোজা চুল করেছেন কোঁকড়ানো। আবার অনেকেই কালো চুলে এনেছেন রঙিনের ছোঁয়া। সব মিলিয়ে ঈদের সাজে ট্রেন্ডি হওয়ার চেষ্টায় সবাই। বন্ধুবান্ধবের আড্ডায়, পাড়া প্রতিবেশীদের প্রশংসায় যদি ঈদ রাঙানো না যায় তাহলে দিনটাই মাটি। তবে, চুল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা যতই করুন না কেন, তার কিছু যত্নআত্তিও তো করতে হয়। ঈদের ব্যস্ততায় চুলের যত্নের দিকে বিশেষ নজর দিতে পারেননি, যতটা দিয়েছেন স্টাইলিংয়ের আউটফিটে। শুধু এক্সপেরিমেন্ট করলেই হবে না, লাগবে এর সঠিক যত্নআত্তি। কালারিং, স্টেটনিং বা কার্লিংয়ের পরে দরকার বিশেষ যত্ন। ঠিক কী ধরনের যত্ন দরকার তা জেনে নিতে পারেন বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে। ঘরোয়া পরিচর্যার পাশাপাশি পার্লারে গিয়ে হেয়ার ট্রিটমেন্টও করিয়ে নিতে পারেন। এসব কিছুই ঈদে চুলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখার জন্য।

 

কালারিং করালে

হেয়ার কালারিংয়ের পরে চুলের যথাযথ যত্ন নেওয়া জরুরি। যত্নের অভাবে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাতে হতে পারে। তা ছাড়া চুল পড়ার সমস্যা তো আছেই। হেয়ার কালারিংয়ের পরে যে প্রোডাক্ট  ব্যবহার করবেন, সেগুলো যেন মাইল্ড হয়। কালারিংয়ের পরে সুইমিং এড়িয়ে চলুন। রং ধরে রাখতে কালার প্রোটেকশন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। এতে চুল উজ্জ্বল ও ঘন দেখাবে। কন্ডিশনারের ক্ষেত্রে প্রোটিনসমৃদ্ধ কন্ডিশনার বেছে নিন। এতে চুল পুষ্টি পাবে। নরম ও মজবুত হবে। কন্ডিশনার লাগিয়ে অবশ্যই পাঁচ মিনিট রাখবেন। এরপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। চুলকে উজ্জ্বল দেখানোর জন্য সেরাম ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত এর রং ছ’মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ছ’মাস পরও রং ধরে রাখতে টোনিং করাতে হবে। চুল কালারিংয়ের আগে চুলের অবস্থা বুঝে নিন। রুক্ষ কিংবা ভঙ্গুর চুলে কালারিং না করাই ভালো।

 

স্ট্রেটনিং করালে

ঈদের মৌসুমে অনেকেই চুল স্ট্রেটনিং করান। তবে এখন স্ট্রেটনিংয়ের বদলে ওরাপেক্স ট্রিটমেন্টের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। স্ট্রেটনিং বা পারমিংয়ের বদলে এখন আরও মাইল্ড ট্রিটমেন্টের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। চুলে কেরাটিন ট্রিটমেন্ট আজকাল খুবই জনপ্রিয় হচ্ছে। কেরাটিন চুলকে মসৃণ করে। চুল আঁচড়ানোর সময় শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করবেন না। প্রথমে হালকা হাতে আঙুল দিয়ে জট ছাড়িয়ে নিন। চুলের এক এক গোছা আলাদা করে আঁচড়ান। জোরে জোরে আঁচড়ালে চুল ছিঁড়ে যেতে পারে।

 

কার্লিং করালে

চুলে কার্লিং করালেও প্রয়োজন বিশেষ যত্নের। কোঁকড়ানো চুল সাধারণত শুষ্ক হয়। তবে সঠিক পরিচর্যা করলে কোঁকড়ানো চুল যথেষ্ট আবেদনপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ ক্ষেত্রেও একইভাবে সঠিক প্রোডাক্ট ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এমন প্রোডাক্ট বাছবেন, যেগুলো চুলকে আর্দ্র রাখবে। কোঁকড়া চুলে আয়রনিং করবেন না। এতে চুলের নমনীয়তা হারিয়ে যাবে, চুল ফ্রিজি হয়ে যাবে। স্টাইলিং ক্রিম ও সেরাম একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগান। দেখবেন, এতে কোঁকড়ানো চুল আরও বাউন্সি লাগবে।

 

ঘরোয়া যত্নের টিপস

বাড়িতেও নিয়মিত চুলের যত্ন নেবেন। যাদের চুল একটু বেশিই রুক্ষ, তারা সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট করলে ভালো হয়। একটা ডিম, এক টেবিল চামচ ক্যাস্টার অয়েল, এক টেবিল চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ও চুলে ম্যাসাজ করুন। প্লাস্টিক শাওয়ার ক্যাপ পরে এক ঘণ্টা থাকুন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। কিছুদিন করার পর দেখবেন চুল আগের চেয়ে অনেক নরম হবে, সঙ্গে উজ্জ্বলতাও বাড়বে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow