Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:০৭
জেনে রাখুন
কাশিতে অবহেলা নয়
ফ্রাইডে ডেস্ক
কাশিতে অবহেলা নয়

কাশি সারতে না চাইলে আদৌ অবহেলা করবেন না। এরপরের ধাপেই দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। আর এগুলো হতে পারে সিওপিডি বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজঅর্ডারের কারণ।

সমস্যা ও চিকিৎসা

সিওপিডি হলো ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। কেউ সিওপিডিতে আক্রান্ত হলে নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় বাধার সৃষ্টি হয়। এটি অনেকটা হাঁপানির টানের মতো। যারা ধূমপান করেন মূলত তারাই এই অসুখে আক্রান্ত হন বেশি। আমাদের ফুসফুসে থাকা ব্লাডারের লাং টিস্যুর মাধ্যমে অক্সিজেন আমাদের শরীরে ঢোকে আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেরিয়ে যায়। ধূমপান করলে ফুসফুসের ব্লাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ব্লাডারের সংখ্যা কমতে থাকে দ্রুতহারে। এই একই কারণে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। যারা বসে বসে কাজ করেন বা সেডেন্টারি লাইফস্টাইল মেনে চলেন, তাদের ক্ষেত্রে ফুসফুস ৫০ শতাংশ কাজ করলেই যথেষ্ট! ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না ভিতরে ভিতরে কী ক্ষতি হয়ে চলেছে। তবে কেউ যদি খুব হাঁটাহাঁটি করেন বা জিমে ওজন তোলেন, তখন তাদের বুকে কষ্ট হলে বুঝতে হবে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তবে নিঃশ্বাসে কষ্ট দেখা যায় অ্যাডভান্সড স্টেজে। সিওপিডির প্রাথমিক লক্ষণ হলো কাশি। কাশি যদি মাস দেড়েক পরেও হতে থাকে ও বছরে একাধিকবার হয় তাহলে চিন্তার বিষয়। সে সময় ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হয়। এর কিছুদিন পরে বুকে চাপ ধরতে শুরু করে। ধূমপান বন্ধ না করলে কাশি, বুকে কষ্ট হওয়া, নিঃশ্বাসে অসুবিধে ইত্যাদি লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে হতে থাকে। ডাক্তারের কাছে কেউ যখন সিওপিডির লক্ষণ নিয়ে আসেন, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ফুসফুসের ৭০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এটি কিন্তু আর পাঁচটি ক্রনিক অসুখের মতোই। আগে থেকে চিকিৎসা হলে রোগীকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো রাখা সম্ভব। গোড়াতেই ধূমপান বন্ধ করানোর চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজনে কাউন্সেলিংও করানো দরকার হতে পারে। এ ছাড়া ধুলো ধোঁয়ার মধ্যে খুব বেশি থাকলেও সিওপিডি হতে পারে। মহিলাদের মধ্যে সিওপিডির অন্যতম কারণ হলো ইনডোর পলিউশন। বদ্ধ রান্নাঘরে ধোঁয়ার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলেও ক্ষতি হয়। এখন তো শহুরে মহিলারা অনেকেই ধূমপানও করছেন। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তার লাং ফাংশান টেস্ট করাতে বলবেন। এটি করালে বোঝা যায় ফুসফুসে কোনো অবস্ট্রাকশন আছে কি না। নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসা শুরু। ইনজেকশন বা ট্যাবলেটের তুলনায় ইনহেলারের ডোজ? অনেক কম হয়, ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম হয়। ইনহেলারে খুব দ্রুত কাজ হয়। এ ছাড়া ধুলো ধোঁয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow