Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:০৯
পূজার সাজ
পূজার সাজ
পোশাক ও ছবি : রঙ বাংলাদেশ

আর ক’দিন পরই শারদীয় দুর্গাপূজা। চারদিকে সাজ সাজ রব। উৎসবের মৌসুম এলেই সেজে ওঠার পালা। তোড়জোড়, প্রস্তুতিতেও বেজায় আপত্তি। অথচ হয়ে উঠতে চান সুন্দরী। রইল পূজার সাজের আদ্যোপান্ত। লিখেছেন— সাইফ ইমন

 

লিপস্টিক

দুর্গাপূজায় এক প্যাঁচে লাল-সাদা গরদ শাড়ি, চুলের সাজে খোঁপা বা খোলা রাখা লম্বা চুল, সিঁথিতে সিঁদুর, কপালে লাল টিপ, হাতে শাখা—এ সাজে খুব সহজেই আমরা ঠোঁটে লাল লিপস্টিকই ভাবী। অর্থাৎ লিপস্টিকের শেড অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আপনার চোখের মেকআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চোখের মেকআপকে গুরুত্ব দিতে চাইলে ঠোঁটকে হালকা রাখতে হয়। আবার একটু গ্লসের ব্যবহারেই হালকা লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটটাই বেশি গুরুত্ব পেয়ে যায়। কিন্তু এই গরমের সময় পূজার দিনের সাজে লিপগ্লস আপনাকে বেমানান লাগতে পারে। তাই বুঝে নিন কোনটি আপনার জন্য মানানসই। মুখে মেকআপ না করেও নজর কাড়তে পারেন দারুণ শেডের লিপস্টিক দিয়ে।

 

মুখের মেকআপ

বেজ মেকআপই আসলে মেকআপের ভিত্তি। বেজ মেকআপের জন্য পুজোর সারা দিনের সাজে অবশ্যই আপনার স্কিন অনুযায়ী ম্যাচ করে বা এক ১/২ শেড উজ্জ্বল মেকআপ নির্বাচন করা প্রয়োজন। যেহেতু গরমের সময় তাই ঘাম থেকে বাঁচতে মেকআক হতে হবে ওয়াটার প্রুফ। এ সময় দিনের বেলায় সূর্যের তাপ থাকে প্রচুর।  তাই ত্বক সানবার্নমুক্ত রাখতে অবশ্যই সান প্রোটেকটেড ফিল্টার সমৃদ্ধ মেকআপ নির্বাচন করা প্রয়োজন। বেজ মেকআপ করার আগে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চেহারা যেমনই হোক আপনার লুকিয়ে থাকা সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলাই কিন্তু এর কাজ। বেজ মেকআপ অ্যাপ্লাই করার পর চেহারা বা ত্বকের ন্যাচারাল শেড ঢাকা পড়ে এক ধরনের ফ্ল্যাট লুক আসে। তাই প্রতি ক্ষেত্রেই ডার্ক শেড ব্যবহার করে আবারো চেহারার শার্পনেস ঠিক করে নিতে হবে। তাই বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন আপনার পূজার সাজ যেন হয় হালকা। মনে রাখবেন, অতিরঞ্জিত কিছু দিনের আলোয় সহজেই ধরা পড়ে।

 

 

ব্লাশঅন

পরিপূর্ণ মেকআপের ক্ষেত্রে সঠিক ব্লাশনের ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্লাশনের ওপর ন্যাচেরাল লুক অনেকটাই নির্ভর করে। তাই ব্লাশঅন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই ব্লাশঅন ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের রং মেকআপে ব্লাশঅনের সঠিক ব্যবহার সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন ফর্সা, উজ্জ্বল, শ্যামলা বা মাঝারি রং এবং কালো। ত্বকের রঙের ওপর নির্ভর করে ব্লাশনের রং পরিবর্তন হবে। আপনি ফর্সা হলে একটু হালকা রঙের ব্লাশন ব্যবহার করতে হবে। মেকআপ লাগানোর পর আপনার গালে ব্রাশ দিয়ে ব্লাশ অন লাগিয়ে ভালোভাবে মুখের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। কালো রঙের আধিকারী মেয়েদের ক্ষেত্রে গোলাপি অথবা হালকা কমলা রঙের ব্লাশ অন অনেক ভালো লাগবে। এ ছাড়াও রং হাইলাইট করতে হালকা সোনালি আভা দিলেও ভালো মানাবে। প্রথমে এঙ্গেল ব্রাশ দিয়ে ব্লাশ অন লাগিয়ে হাত দিয়ে হালকা করে একটু ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এতে করে রং মুখের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যাবে। ডার্ক স্কিনের জন্য সোনালি রঙই সবচেয়ে ভালো হয়। এতে আপনার গালে একটি সুন্দর আভা ফুটে উঠবে। মনে রাখবেন আপনার গালের ফুলে ওঠা অংশে হালকা ব্লাশ স্মুথ আভার মতো মিলিয়ে থাকবে।

 

চোখের মেকআপ

দুর্গাপূজায় যেহেতু বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা তাই সাজসজ্জায় বাঙালি লুকটাই গুরুত্ব পায়। আর এখন যেহেতু গরমের সময় তাই হালকা মেকআপই ভালো লাগবে। আপনার চোখের জন্য আইশ্যাডোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রাউন, ব্রোঞ্জ, গোল্ডেন, কপার এবং চাহিদা অনুযায়ী আইলাইনার ও ২/৩ কোট মাশকারার প্রলেপ দিন। এসবই এ সময়ের জন্য উপযুক্ত। মনে রাখবেন, আইব্রুর শেপ ও আইলাইনার দেওয়ার ধরন আপনার ব্যক্তিত্বের বহির্প্রকাশ ঘটাবে।

 

চুলের স্টাইল

চেহারার ধরন, সময়, পোশাক, কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন—সবকিছুর সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই আপনার চুলের স্টাইল। কারণ, ঠিকঠাক মতো চুলের স্টাইলই এনে দিতে পারে আপনার সাজের পরিপূর্ণতা। আর পরিপূর্ণ একটি সাজ আপনার ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে সহায়ক। তাই কৌশল হিসেবে আগেভাগেই চুল বাঁধার কয়েকটি ধরন রপ্ত করে রাখতে পারেন। এবারের পূজায় পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঝটপট চুলের সাজটি সেরে নিতে আর বেগ পেতে হবে না।  

 

অনুষঙ্গ

পূজায় সাজের ক্ষেত্রে আপনার অনুষঙ্গ সামগ্রী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা, সিঁথিতে সিঁদুর এসবই পূজার সাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন ধরন আছে কিন্তু বিবাহিত মেয়েদের কাছে সিঁথিতে সিঁদুর কেবলমাত্র সাজের অনুষঙ্গ নয় পাশাপাশি হাতের শাঁখা-পলাও ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রত্যেক বিবাহিত নারীর কাছে। কানের দুল, গলার মালা, নাকের নথ, খোঁপার কাঁটা সবই নির্ভর করে সাজের বিশেষত্ব, পোশাকের ধরন এবং মানুষটির পছন্দ ও ব্যক্তিত্বের ওপর। মনে রাখবেন প্রতিটি অনুষঙ্গের বিশেষত্বকে বুঝে ভেতরে ধারণ করে যদি তার প্রকাশ ঘটাতে পারলেই তার পূর্ণতা আসে।

 

ছেলেদের সাজ

সাজগোজের দিক থেকে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও ছেলেদের আয়োজনের কমতি নেই। ছেলেদের সাজের ক্ষেত্রে জেন্টস পার্লারগুলোতে থাকে ভিড়। সাজ পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের সাজে পূর্ণতা আনে নান্দনিক অনুষঙ্গ।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow