Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:১১
চাই ঝরঝরে চুল
চাই ঝরঝরে চুল

কাশফুলের বাহারে দুলে উঠছে মন। কিন্তু শরতের আকাশে এই মেঘ তো এই রোদ। সব মিলিয়ে না গরম, না ঠাণ্ডা। এমন সময়ে চুলের যত্ন নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় থাকেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক ঝরঝরে চুলের জন্য কয়েকটি উপায়। জানাচ্ছেন— ফেরদৌস আরা

 

শরতের এ সময় প্রতিদিন চুল ধুতে হবে। যাদের কাজের প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বেরুতে হয় তাদের সপ্তাহে অন্তত দুই দিন গরম তেলের ম্যাসাজ নেওয়া উচিত। তেলের সঙ্গে যে কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ডিম, আমলা, টকদই, এসব দিয়ে তৈরি প্যাক লাগাতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। চুলের ডগা যাতে ফেটে না যায় তাই পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে ঘুমাতে পারেন। এভাবে দিনে চলাফেরার সময় চুল বেঁধে রাখলে কম ময়লা হবে। আর শরতের এ সময়টায় খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সব সময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। প্রতিবার চুল ধুয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন।

নারীর সৌন্দর্য বর্ধনে চুলের ভূমিকার কোনো তুলনা হয় না। যে কোনো নারীকে খুব সহজেই রূপবতী করে তুলতে পারে তার ঝলমলে রেশমি চুল আর এই চুলই যখন রুক্ষ হয়ে পড়ে তখন লাবণ্যময়ী একটি চেহারাতেও এনে দেয় মলিনতার ছাপ। চলমান আবহওয়ায় চুল রুক্ষ হওয়ার অনেক কারণ আছে। চুল রুক্ষ হওয়ার একটি অন্যতম কারণ ধুলোবালি। এ ছাড়া অনেক সময় তাড়াতাড়ি বের হওয়ার জন্য ভেজা চুলকে শুকানোর জন্য আমরা ব্লো ড্রাই করি। এতেও চুল রুক্ষ হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও রিবনডিং, হেয়ার কালার এসবের জন্যও চুল ধীরে ধীরে তার মসৃণতা হারায় আর রুক্ষ হয়ে যায়। রুক্ষ চুলের আগা খুব সহজেই ফেটে যায় যা চুলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। তাই আসুন জেনে নিই খুব সহজে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলের রুক্ষতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কিছু সহজ উপায়।

 

০১. চুল সুস্থতার জন্য সবচেয়ে উপকারী ওষুধ হলো পানি। প্রচুর পরিমাণে পানি আমাদের শরীরকে যেমন সতেজ রাখে তেমনি আমাদের চুলকেও রাখে সতেজ। তাই দিনে ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত।

০২. চুলের রুক্ষতা দূরীকরণে তেলের ভূমিকা অপরিসীম। অলিভ অয়েল অথবা রেড়ির তেল (ক্যাস্টর অয়েল) যেকোনো তেলই চুলকে মসৃণ করে তোলে। যেকোনো তেল রাতে ঘুমানোর আগে দিয়ে সকালে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করে ফেলা সবচেয়ে উত্তম। যেকোনো প্রকার তেলের মধ্যে চুলের রুক্ষতার জন্য অলিভ অয়েল চুলকে কোমল ও লাবণ্যময়ী করে তোলে।

 

০৩. চুলের রুক্ষতার সঙ্গে খুশকি থাকলে হালকা কুসুম গরম তেলের সঙ্গে লেবুর রস আর শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার হিসেবে ১/২ মগ পানিতে সাদা ভিনেগার মিশিয়ে দিতে পারেন। এতে চুল ঝরঝরে হয় আর চুল খুশকি মুক্তও হয়।

 

০৪. চুলকে ময়েশ্চারাইজ করতে ও রুক্ষতা দূর করতে মেয়নেজও ব্যবহার করতে পারেন। ১/২ কাপ মেয়নেজ নিয়ে হালকা গরম করে মাথায় ৪০-৪৫ মিনিট রাখুন। এতে চুলের রুক্ষ ভাব চলে যায় আর চুল অনেক সিল্কি হয়ে উঠবে।

 

০৫. চুলের রুক্ষতার জন্য মেহেদি প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের মেহেদি পাওয়া যায়। সেগুলোর প্যাক বানিয়ে এক ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললেও চুল অনেক কোমল ও ঝরঝরে হয়ে উঠবে।

 

০৬. এই শরতে চুলকে কোমল, নমনীয় ও ঝলমলে করার অন্যতম উপায় হলো—একটি পাকা কলা, একটি ডিম, দুই-তিন চা চামচ টক দই, দুই-তিন চা চামচ মধু, একটি লেবুর সম্পূর্ণ রস একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে সেটি মাথায় এক ঘণ্টার মতো রাখতে হবে। মিশ্রণটি দেওয়ার আগে চুলে ভালো করে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করে নিতে হবে।

এতে প্যাকটি খুব সহজে চুলে বসবে। প্যাকটি এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন হবে। তারপর কন্ডিশনার করতে হবে। প্যাকটি শরতে সপ্তাহে অন্তত একবার ব্যবহার করুন। এতে চুলের গোড়া যেমন মজবুত হবে তেমনি নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রুক্ষতাও দূর হয়ে যাবে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow