Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:১৫
রঙিন করি ঠোঁট
রঙিন করি ঠোঁট
মডেল : তরী ইসলাম মেকওভার : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড ছবি : এক্সপোজ

মোহময় হাসির সঙ্গে চঞ্চলা রঙিন ঠোঁটের দারুণ সখ্য। তার মাঝে যেন লুকিয়ে থাকে কাছে টানার অদৃশ্য হাজারো গল্পের ভাণ্ডার।

নিজেকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করতেও রঙিন ঠোঁটের জুড়ি নেই। তাই তো নারীরা অনেক আগেই শিখে নিয়েছেন ঠোঁট রাঙানোর গোপন এই মন্ত্র।

 

নানা বিবর্তন পাড়ি দিয়ে ঠোঁট রাঙাতে নারীর কাছে প্রিয় উপকরণ হয়ে উঠেছে লিপস্টিক। সেই লিপস্টিক এখন বাহারি রঙের বর্ষায় ভিজে একাকার। শুধু এই সময়ে নয়, প্রাচীন মিসরের নারীরাও ব্যবহার করতেন ঠোঁট রাঙানি এই অনুষঙ্গ। লিপস্টিকের উদ্ভবও ঘটে তাদের হাতে। পরবর্তী সময়ে মধ্যযুগীয় ইউরোপ সারাবিশ্বের কাছে লিপস্টিকের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। সূচনা যেভাবেই হোক, ফ্যাশন আর স্টাইলে লিপস্টিকের জুড়ি নেই। সময়ভেদে লিপস্টিকের ব্যবহারিক ট্রেন্ডে পরিবর্তন এসেছে। কখনো খুব গাঢ়, কখনো হালকা, কখনো ম্যাচিং, কখনো সাদামাটার চল। ভিন্ন রঙের পোশাকে গভীর গাঢ় রঙের মিশেল, যে কোনো পোশাকেই হালকা রং  অথবা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ঠিকঠিক রঙের লিপস্টিক বাছাই হয়েছে নারীর হাতে। তবে যত পরিবর্তনই আসুক চলমান ট্রেন্ডে সব স্টাইলই যেন জুতসই।

দুই বছর আগে অবশ্য কিছুটা ছিমছাম রুচির পরিচয়ে তরুণীরা প্রাধান্য দিচ্ছিলেন হালকা রঙের লিপস্টিককে। তারপর থেকেই আবার চলছে লাল, কমলা আর গোলাপির মতো উজ্জ্বল রংগুলো। সময় যাই চলুক না কেন, লাল লিপস্টিক সব সময় থাকে পছন্দের শীর্ষে। লাল এমন একটি রঙ, যা সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে যায়। এর পাশাপাশি এখন চলছে ব্রাউন, মেরুন, কফি টোনের লিপস্টিক।

কিছুদিন আগের প্রাধান্য পাওয়া পিংক লিপস্টিকের জায়গা দখল করে নিয়েছে ব্রাউন। ন্যুড লিপ তরুণীদের কাছে সবচেয়ে আলোচিত ট্রেন্ড বটে। এটি যে কোনো পোশাক, সময়, অনুষ্ঠান ও বয়সে মানানসই। ন্যুড লিপে সংযোজন ঘটেছে গোলাপি, লালচে, বাদামি, পিচ, কফি ইত্যাদি রং। এগুলো যে কোনো ত্বকে মানিয়ে যায়।

 

কোন ত্বকে কোন লিপস্টিক

ব্র্যান্ডের মতোই গুরুত্বপূর্ণ আপনার ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই লিপস্টিক বাছাই। গায়ের রং যদি খুব ফর্সা হয়, লালসহ যে কোনো গাঢ় রং এবং কালচে আভাযুক্ত গাঢ় রং অসাধারণ হবে। আপনার ত্বক হলুদাভ হলে উষ্ণ বাদামি, কোরাল আর পিচ রংগুলো খুব সহজেই মানিয়ে যাবে। শ্যামলা বর্ণের জন্য লাইট পিংক, অরেঞ্জ, ক্যারামেল শেডের লিপস্টিকগুলো ভালো লাগে। আর গাঢ় বর্ণের ত্বকের সঙ্গে ব্রোঞ্জ, ডিপ প্লাম, বেরি, ক্যারামেল শেডের লিপস্টিক মানিয়ে যায়। ন্যুড লিপস্টিক পরার পর যদি আপনার সাজ খুব ফ্যাকাসে লাগে, তাহলে বুঝবেন আপনার শেডটি ত্বকের রঙের চেয়ে বেশি হালকা। সে ক্ষেত্রে ত্বকের রঙের চেয়ে ডিপ লিপস্টিক বাছাই করুন।

 

ঠোঁটের ধরনে রয়েছে ভিন্নতা

চওড়া ঠোঁট, পাতলা ঠোঁট, বড় ঠোঁট আর ছোট ঠোঁট। চওড়া ঠোঁটে পেন্সিল দিয়ে ভেতরের দিকে আঁকতে হবে। এতে করে ঠোঁটটা আকারে ছোট দেখাবে। পাতলা ঠোঁট একটু বাইরের দিক দিয়ে আঁকতে হবে। লম্বা ঠোঁটে পাশ থেকে কমাতে হবে। অন্যদিকে ছোট ঠোঁট দুই পাশ দিয়ে একটু টেনে আঁকতে হবে। লাইনার দিয়ে বেজ এঁকে ভেতর দিকে লিপস্টিক দিলে আর কোনো ঝামেলাই থাকল না। আর যদি লিপ লাইনার না পরতে চান, তাহলে লিপস্টিকটা খুবই সতর্ক হয়ে পরুন, যাতে ঠোঁটের আকার-আকৃতি সুন্দর থাকে।

 

দীর্ঘক্ষণের রঙে

দিনভর অফিস বা পার্টিতে লিপস্টিকের রং ধরে রাখা চাই। এ জন্য ঠোঁটের রঙের সঙ্গে বা লিপস্টিকের সঙ্গে মিলিয়ে লিপলাইনার পরুন। এরপর ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। আর গ্লস দিলে ব্লকসহ গ্লসি লিপস্টিক ব্যবহার করুন। এখন বাজারে গ্রেভি গ্লস পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই গ্লসগুলো দারুণ কার্যকর।

 

কখন কেমন

লিপস্টিক সাধারণত ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে পরা হয়। তবে স্থানভেদে লিপস্টিক বাছাই আপনার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলবে। অফিস বা ক্যাম্পাসে হালকা পিংক, ব্রাউন, ক্যারামেল রংগুলো মানানসই। আর পার্টি বা বিয়ের অনুষ্ঠানে পরুন ডিপ রঙের লিপস্টিক। সন্ধ্যা বা রাতের কোনো অনুষ্ঠানে হালকা রঙের লিপস্টিকের সঙ্গে গ্লস দিতে পারেন, রং দীর্ঘস্থায়ী হবে। তবে ন্যুড লিপস্টিকের ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হতে হবে। অনেক সময় ম্যাট ন্যুড লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁট শুষ্ক দেখায়। এতে ঠোঁটের ত্বকের ভাঁজগুলো দেখা যায়। আপনার ঠোঁট যদি পাতলা হয়, তবে ফ্রস্ট টক্সেচার এড়িয়ে যান। নয়তো আপনার ঠোঁট আরও ছোট ও পাতলা দেখাবে। পাতলা ঠোঁটের জন্য ক্রিম রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। ন্যুড লিপস্টিকের রং অন্য লিপস্টিকের চেয়ে হালকা হয়, অর্থাৎ এর কভারেজ কম হয়। তাই ন্যুড লিপস্টিক পরার আগে স্ক্রাবিংয়ের মাধ্যমে ঠোঁট মসৃণ করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিতে হবে।

লিপস্টিক ব্র্যান্ড

লিপস্টিকের অনেক ব্র্যান্ড রয়েছে। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আছে ম্যাক, লরিয়েল, রেভলন, জর্ডানা, ল্যাকমি, জ্যাকলিন, ফ্লোরমার, গোল্ডেন রোজ, মেবলিন ইত্যাদি। সাজগোজের সঙ্গে আপনার ত্বকের যত্ন নিতে পারা ব্র্যান্ডটি চিনে নেওয়া জরুরি। তবে সঠিক ব্র্যান্ড আপনার আস্থা অর্জনে অনেকটাই সক্ষম।

 

লিপস্টিকের যত্ন

বাজারে হরেক রকম লিপস্টিক পাওয়া যায়। লিপস্টিক কেনার সময় অবশ্যই ব্র্যান্ড যাচাই, দোকানে বিশ্বস্ততা, বিশ্বস্ত শপিং সাইট এবং মেয়াদ দেখে কেনা জরুরি। মান সম্মত লিপস্টিকে আপনার ঠোঁটের যত্ন বজায় থাকবে, ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে কম। অপরদিকে ননব্র্যান্ড বা নিম্নমানের একটি লিপস্টিক আপনার ঠোঁটের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে অ্যালার্জি বা অন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই লিপস্টিক বাছাইয়ে যেমন যত্নশীল হতে হবে তেমনি সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে লিপস্টিকের যত্নও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবহারের লিপস্টিকটি শুষ্ক ও আর্দ্র জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। লিপস্টিকের মান বুঝে লিপস্টিক কেনার চেষ্টা করুন। না হলে আপনার ঠোঁট নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow