Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১৩
নখের যত্নআত্তি
ফেরদৌস আরা
নখের যত্নআত্তি
মডেল : আমৃত ধারা মেকওভার : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড আলোকচিত্রী : নেওয়াজ রাহুল

প্রতিদিনের মতো পছন্দের সাজপোশাকে তৈরি অফিস, ক্লাস বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যাওয়ার জন্য। কিন্তু হঠাৎ করে চোখ পড়ল অমসৃণ নখগুলোর দিকে। মনে হলো, নখগুলো আপনার সঙ্গে একদম মানানসই নয়। কারণ, সুন্দর নখ ব্যক্তিত্ববানদের রুচির পরিচায়ক। তাই আপনার চাই হাত-পায়ের সুন্দর পরিপাটি নখ।

সুন্দর নখ মানে কিন্তু বাহারি রঙের নেইলপলিশে মনের মতো রাঙিয়ে তোলা নয়। নেইলপলিশের নিচে নখের স্বাস্থ্য, রং, গঠন ঠিক থাকা সুস্থ নখের প্রধান শর্ত। অপরদিকে, শরতের এ সময়ে আবহাওয়ায় চলে এসেছে শুষ্কতা। সুন্দর মসৃণ ত্বকে অনুভূত হচ্ছে রুক্ষ শুষ্ক ভাব। হঠাৎ করেই অমসৃণ আর ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া হাত-পায়ের নখও জানান দিচ্ছে রুক্ষতাকে। এ সময় যত্নের অভাবে পাতলা হয়ে ভেঙে যেতে পারে নখ। অনেকের আবার ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নখের নিচের মাংসে পচন ধরতে পারে। তাতে যতই নেইলপলিশ দিয়ে ঢেকে রাখুন না কেন, প্রকাশ পাবে সৌন্দর্যের অভাব। সে কারণেই নখের স্বাস্থ্য ধরে রাখার কৌশল জানতে হবে। সে অনুযায়ী চর্চা করলেই নখের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য দুই-ই ঠিক থাকবে। নখের যত্নের জন্য আপনাকে পারলারে যেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। ঘরে বসেই একটু সচেতনভাবে আপনি আপনার নখের ধরন পাল্টে দিতে পারেন। কীভাবে ঘরে বসে পেডিকিওর কিংবা মেনিকিওর করাবেন? খুব কঠিন কিছু নয়।

প্রথমে উষ্ণ এক গামলা পানি নিতে হবে। তারপর শ্যাম্পু, অল্প লবণ, খাবার সোডা সামান্য, পিউমিস স্টোন বা মাটির ঝামা, পেট্রোলিয়াম জেলি, নেইল কাটার, নেইল ফাইলার, ব্রাশ, তুলা, গোলাপ জল, শুকনো তোয়ালে, লেবুর রস, ডেটল বা অ্যান্টিসেপটিক নিতে হবে।

প্রথমে নখের নেইল পলিশ তুলে নিতে হবে। তারপর উষ্ণ পানির ভিতর হাত-পায়ের নখ ডুবিয়ে কিছুক্ষণ রাখতে হবে। নরম হলে পছন্দের আকারে কেটে ফাইলার দিয়ে নখের মাথা সমান করতে হবে। এবার হাত পায়ের নখের চারপাশে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখুন। কয়েক মিনিট পর হালকা ঘষে মরা চামড়া তুলে ফেলতে হবে।

এর পরের ধাপে গামলায় রাখা গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ লবণ, খাবার সোডা, সামান্য লেবুর রস, গোলাপ জল দুই ফোঁটা আর সামান্য শ্যাম্পু দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার তাতে হাত আর পায়ের পাতা ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে ২০ মিনিট। কাজের সুবিধার্থে মিশ্রণটি আলাদা দুটি পাত্রে নিতে পারেন। 

এবার স্ক্রাবার দিয়ে ঘষে হাত-পায়ের মরা চামড়া তুলতে হবে। নখের পাশাপাশি পায়ের গোড়ালিও ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। এবার  পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। একইভাবে হাতের নখ, ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। তারপর তোয়ালে দিয়ে মুছে লোশন বা অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর রাঙিয়ে নিন মনের মতো করে। এভাবে মাসে অন্তত দুবার করলে নখের সতেজতা বজায় থাকবে।

এত গেল মেনিকিওর আর পেডিকিওর। এর বাইরে নখের যত্নে সাধারণ কতগুলো বিষয় রয়েছে যেগুলো খেয়াল রাখা জরুরি।

চেষ্টা করবেন নখ যেন সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো থাকে। নখ ভেজা থাকলে এর ভিতর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এ থেকে ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে বাড়িতেই নিয়মিত মেনিকিওর করে নিতে পারেন। মেনিকিওর ক্লিপার বা কাটার দিয়ে নিয়মিত নখ কেটে পছন্দের আকার দিতে হবে। মনে রাখবেন, নখ কাটার আগে উষ্ণ গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে নখ কাটতে সুবিধা হয়।

বিভিন্ন কারণে নখ ভেঙে যেতে পারে। আঘাত বা অন্য কোনো কারণে নখ ভেঙে গেলে কখনই টেনে ছিঁড়বেন না। এতে নখের শেপ নষ্ট হয়ে যাবে। ভাঙা নখ সাবধানে নেইল কাটার দিয়ে কেটে ফেলতে হবে।

সবসময় নেইল পলিশ ব্যবহার না করাই ভালো।  নেইল পলিশে নখের স্বভাবিক রং নষ্ট হয়ে যায়। দুই সপ্তাহ অন্তর নেইল পলিশ ফেলে কয়েক দিন নখ ফাঁকা রেখে দিন। এতে নখে আলো-হাওয়া লাগে, নখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে নখ ম্যাসাজ করতে ভোলা যাবে না একেবারেই। নেইল পলিশ রিমুভার যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। বেশি রিমুভার ব্যবহার করলে নখের ন্যাচারাল ময়েশ্চারার নষ্ট হয় যায় এবং নখ শুষ্ক হয়ে যায়। সপ্তাহে একবারের বেশি রিমুভার ব্যবহার না করাই ভালো।

সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজিং হ্যান্ড ক্রিম অথবা লোশন লাগিয়ে নিতে হবে। সাবান হাতের ত্বকের পাশাপাশি নখের আর্দ্রতাও নষ্ট করে দেয়।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow