Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫০
রঙিন চোখের জাদু
রঙিন চোখের জাদু
মেকআপ : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড, মডেল : সুপ্রভা মাহবুব, ছবি : মহসিন আব্বাস, স্টুডিও : এক্সপোজ

চোখ যে মনের কথা বলে...। চোখ কি আসলেই কথা বলে? হ্যাঁ কখনো কখনো তো বলেই।

চোখের লাজুক চাহনি, চমকিত ভঙ্গি অথবা দুষ্টুমি ভরা দৃষ্টি মুখের ভাষাকে ছাপিয়ে বলে দেয় অনেক কথা। যার সঙ্গে সে ভাষার লেনদেন হয় সে-ই বোঝে ভাষার মর্মার্থ। চোখ শুধু কথায় বলে না চেহারার সৌন্দর্য প্রকাশে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই দুষ্টু ভরা চোখের জাদু দেখাতে সাজিয়ে নিন ইচ্ছামতো। লিখেছেন—তানিয়া তুষ্টি

রং বাহারি সাজগোজে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার এটাই তো সময়। কোথাও যাওয়ার সময় পরিহিত পোশাক অনুযায়ী সাজটাও হতে হবে উপযুক্ত। কারণ চোখের সাজের ওপর নির্ভর করে আপনার লুকের জাঁকজমক ভাব।

চোখের সাজ মূলত একেক থিমের ওপর ভিত্তি করে একেক রকম হয়। তাই সাজের আগে আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে নিজেকে কোন লুকে উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন। নিজেকে সাদামাটা দেখতে চাইলে একভাবে চোখ সাজাতে হবে। আবার একটু হট দেখাতে চাইলে চোখের সাজ হবে অন্যরকম। শুধু চোখের সাজে একাল বা সেকালের আবহ তুলে আনা সম্ভব।

আজকাল সন্ধ্যার অনুষ্ঠানগুলোতে আলোর ব্যবহার একটু বেশি থাকে। এমন কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেয়েদের প্রথম পছন্দ ঝলমলে পোশাক। এমন পোশাকে চোখের সাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটু গর্জিয়াস দেখাতে স্মোকি চোখের সাজ আজকাল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে লাল, নীল বাদ রেখে ব্ল্যাক, অ্যাস, সিলভার আর গ্লুুমি গোল্ডেন রঙের আইশ্যাডো বেশি ব্যবহার হয়। কাজলের ক্ষেত্রে ডিপ নীল কাজলের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। তবে চোখের সাজের ক্ষেত্রে আইশ্যাডোর দিকটি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

সর্বশেষে আসে চোখের পাপড়ির বিষয়টি। ভারি সাজে চোখের পাপড়ি অবশ্যই বড় হতে হবে। তাই চোখের আসল পাপড়ি ছোট হলে সাজের পূর্ণতা আনতে আলগা পাপড়ি লাগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এবার ফিনিশিং দিতে আইলাইনার টেনে মাশকারা দিয়ে দিন।

দিনের বেলা মেয়েরা ক্লাস বা অফিসে যেতেও চোখের সাজে কার্পণ্য করতে নারাজ। সেক্ষেত্রে চোখের সাজে সামান্য হলেও কাজলের আঁচড় দেওয়া চাই। কেউ কেউ কাজলের সঙ্গে হালকা করে আইশ্যাডো দিতে পছন্দ করেন। তবে সময় যাই হোক আপনাকে মোহনীয় করতে চোখের সাজের জুড়ি মেলা দায়। চোখ সাজানোর আগে দেখে নিতে পারেন কোন চোখে কেমন সাজ মানাবে—

 

বাঁকা চোখ

বাঁকা আকৃতি বা নাকের কাছে একটু চোখা এবং শেষ কিনারার আগে একটু মোটা গড়নের চোখ হলে ভিতরের দিক থেকে কাজল দেওয়া শুরু করতে হবে। চোখের শেষ কিনারায় গিয়ে একটু বেশি মোটা করে টেনে কাজল দিলে ভালো লাগবে।

 

গোলাকার চোখ

বড় আকারের গোল চোখের গড়নটা বেশ আকর্ষণীয়। এ ধরনের চোখে উপরের পাতায় একেবারে কোনা থেকে শুরু না করে একটু সরে এসে কাজল দেওয়ার পর তা বেশি মানায়। চোখের বাইরের কিনারায় এসে কাজল মোটা করে এঁকে দিলে লম্বাটে ভাব আসে। চোখের নিচের পাতার মাঝামাঝি থেকে কাজল দিয়ে চোখের শেষ কিনারায় এসে মিলিয়ে দিন।

 

কোটরের গভীরের চোখ

কোটরের গভীরে থাকা চোখ এমনিতেই ছোট দেখায়। এমন চোখে অনেক মোটা করে কাজল বা আইলাইনার দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। চোখের উপরের পাতার মাঝামাঝি থেকে যতটা সম্ভব চিকন করে আইলাইনার টানুন। চোখের নিচের পাতার পাপড়ির নিচ দিয়ে চিকন করে আইলাইনার টেনে মিলিয়ে নিন। এতে চোখ খোলা ও বড় মনে হবে।

 

চোখের ফোলা হলে

অনেকের চোখের উপরের পাতা ফোলা ধরনের হয়ে থাকে। এমন চোখের উপরের পাতার কিনার থেকে চিকন করে আইলাইনার টেনে চোখের পাতার শেষ কিনারে মোটা করে আইলাইনার দিন। চোখের নিচের পাতায় একেবারেই লাইনার দেওয়া ঠিক হবে না। এমন চোখের পাপড়ি কার্ল করে দিলে ভালো মানাবে।

 

চোখের সাজ টিকিয়ে রাখার টিপস

চোখের আকৃতি বড় এবং সুন্দর দেখাতে কাজল ব্যবহার করতেই পারেন। কিন্তু গরমে ভয় থাকে কাজল লেপটে চোখের চারপাশ কালি হয়ে যাওয়ার। তাই এই গরমেও সামান্য কিছু কৌশলেই আভিজাত্যময় আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন আপনার চোখ। পছন্দমতো আকৃতিতে চোখ এঁকে কাজলের ওপর আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। কালোকে ধরে রাখতে কালো রঙের আইশ্যাডো, কালোতে কিছুটা নীলচে ভাব আনতে নীল রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। এতে কাজল ম্যাট হবে, ঘেমে গেলেও চোখের চারপাশে ছড়িয়ে যাবে না। অনেকে আবার ওয়াটার প্রুফ কাজল ব্যবহার করেন। গরমের দিনে এমন কাজল বেশ উপকারে আসে। এভাবে নিজের চোখকে সাজাতে পারেন ইচ্ছামতো।

 

টি প স

প্রথমেই আপনাকে চোখের রং বুঝে আইশ্যাডোর রং নির্বাচন করতে হবে। চোখের রঙের সঙ্গে কন্ট্রাস্ট করে এমন আইশ্যাডো ব্যবহার করলে দারুণ দেখায়। কালো বা গাঢ় রং চোখের জন্য ধূসর, নীল, সবুজ এবং বেগুনি রঙের শেড বেশি মানিয়ে যায়। আর হালকা রঙের চোখের সঙ্গে তামাটে, বাদামি বা ব্রঞ্জ শেড ভালো মানায়। প্রথমে হালকা করে আইশ্যাডো দিতে হবে। প্রথমেই গাঢ় করে ফেললে তাতে কাঙ্ক্ষিত রং আনা দুরূহ হয়। তাই আস্তে আস্তে গাঢ় করতে হবে।

চোখের মেকাপে আই-লাইনার দেওয়াটাও একটা দক্ষতার কাজ। আই-লাইনারই আপনার চোখকে দেবে অসাধারণ একটা লুক। আপনার চোখের আকৃতি ভেদে লাইনার প্রয়োগ ভিন্ন হতে পারে। যেমন গোলাকৃতি কিংবা ছোট চোখের জন্য শুধু বাইরের কোনায় অথবা শুধু উপরের পাতায় দিলেই চলে। পেনসিলটি প্রথমে হাতের আঙ্গুলে লাগিয়ে একটু নরম করে নিন যাতে চোখে ব্যথা না লাগে। আই পেনসিল দিয়ে আঁকা লাইনের উপরে একটু পাউডার দিলে লাইনটি আর ছড়িয়ে যাবে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মাশকারা ব্যবহার করার আগে সম্ভব হলে আইল্যাস কার্লার দিয়ে চোখের পাপড়িগুলো একটু ঘন করে ও কোঁকড়া করে নিতে পারেন।  

আপনার চুলের রং থেকে এক শেড হালকা আইভ্রু পেনসিল দিয়ে ভ্রুটা ভালো করে এঁকে নিন। চুলের রঙের চেয়ে গাঢ় শেডের আইভ্রু ব্যবহার করলে খুবই বেমানান লাগে।

চোখের নিচে কোনো কালোদাগ বা ডার্কসার্কেল থাকলে কনসিলার দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মনে রাখতে কনসিলারের রং যেন ত্বকের রঙের সঙ্গে ভালো করে ব্লেন্ড হয়ে যায়।

চোখের আকৃতি বড় এবং সুন্দর দেখাতে গ্লিটার কাজল ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ভিতরের কোণে চিকন করে বাইরের কোণে মোটা দাগে একটু টানা দাগ দিতে হবে। চোখের কোণে উপর নিচের কাজলের সংযোগ ঘটাতে একটু মোটা করে আঁখি টানতে পারেন। গ্লিটার কাজলের চিকচিকভাবে আপনার চোখে ধাঁধা সৃষ্টি করবে।

 

মাশকারা লাগানোর টুকরো টিপস

প্রতিটি মেয়ের ব্যাগেই মাশকারা থাকেই। কিন্তু সেই মাশকারা কীভাবে লাগালো লুকটা পারফেক্ট হবে, তা অনেকেই জানি না। জেনে নেওয়া যাক সিক্রেটটা।

আইশ্যাডো লাগানোর পর মাশকারা লাগাবে। তাহলে আইশ্যাডো লাগানোর সময় চোখের পাতায় লাগলেও মাশকারায় তা ঢাকা পড়ে যাবে।

মাশকারা লাগানোর আগে কিছুক্ষণের জন্য মাশকারা টিউব একটা গরম জলের পাত্রে অর্ধেক চুবিয়ে রাখ। যদি মাশকারা জমে যায়, তাহলে এইভাবে তা নরম ও লিকুইড হয়ে আসবে।

মাশকারা তুলে মাশকারা ব্রাশটা একটা টিস্যুতে একটু মুছে নিতে হবে। তাহলে অতিরিক্ত মাশকারাটা ব্রাশ থেকে চলে যাবে, চোখের ওপর ড্যালা পাকাবে না।

একটা চামচ নিচের আইল্যাশের তলায় ধরে মাশকারা ব্রাশ দিয়ে চোখে লাগাবে। তাহলে স্কিনে ছড়িয়ে যাবে না। আবার সমানভাবে পুরো চোখে মাশকারাটা লাগাতে হবে।

এবার আইল্যাশ কার্লার দিয়ে ল্যাশ কার্ল করে নিতে হবে। তাহলে আইল্যাশ অনেক ঘন ও স্বাভাবিক দেখাবে।

মাশকারা লাগানোর সময় একটু ‘জিগজ্যাগ’ রুটে তা লাগাবে। তাহলে আইল্যাশে তা অনেক ভলিউম অ্যাড করতে সাহায্য করবে।

অনেকগুলো আইল্যাশ যদি একসঙ্গে জোড়া লেগে থাকে, তাহলে মাশকারা লাগানোর পরেই ল্যাশ কুম্ব বা ব্রাশ দিয়ে তা ছাড়িয়ে নেবে। তাহলে মাশকারা সমানভাবে প্রত্যেকটা ল্যাশে ছড়িয়ে যাবে। তবে খেয়াল রাখবে মাশকারা শুকানোর আগেই যাতে ব্রাশটা করা হয়।

লং ল্যাশ আর ফুল ভলিউমের লুক চাইলে গাঢ় কালো রংয়ের মাশকারা লাগাবে। এতে আইল্যাশ ঘন, কালো দেখাবে।

আইল্যাশে ভলিউম অ্যাড করতে চাইলে প্রথমবার মাশকারা লাগিয়ে তা শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। মাশকারা শুকিয়ে গেলে দ্বিতীয়বার মাশকারা লাগাবে। তাহলেই আইল্যাশ ঘন দেখাবে।

আইল্যাশে বেশি ভলিউম চাইলে মাশকারা লাগানোর আগে চোখের পাতায় একটু পাউডার ছড়িয়ে নিও। তারপর আইল্যাশে মাশকারা লাগাও।

মেকআপ তোলার পরের কিন্তু আইল্যাশের যত্ন নেওয়া দরকার। তাই মেকআপ তোলার পর অল্প অলিভ বা ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে আইল্যাশে লাগাতে পার। এতে চোখের পাতায় ময়েশ্চারাইজও করা হবে।

রোজ ব্যবহারের জন্য ওয়াটারপ্রুফ মাশকারা একেবারেই লাগাবে না। কারণ এই মাশকারা যেহেতু পানিতে ধুয়ে তোলা যায় না, ক্রিম বা তেল দিয়ে তুলতে হয়, তাই একটু বলপ্রয়োগ করতেই হয়। ফলে খানিকটা আইল্যাশ উঠে আসতে পারে। তাই রোজ-রোজ এই মাশকারা না লাগানোই ভালো।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow