Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫৮
নতুন ডিজাইনের শার্ট
আবদুল কাদের
নতুন ডিজাইনের শার্ট
মডেল : সায়মন, পোশাক : ইজি, ছবি : আহসান রাশেদ

সময় পাল্টে গেছে। এখন ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে রঙিন চারপাশ।

হালকা গরম, হালকা শীতের শরত চলছে। এর ছোঁয়া লেগেছে ফ্যাশনেও। বারোমাসী চাহিদা থাকলেও এই সময়ে এসে বেড়ে গেছে শার্টের কদর। হাল ফ্যাশনে ক্যাজুয়াল শার্টে এসেছে রং বদলের খেলা। খাটো থেকে লম্বা, সাদামাটা থেকে জমকালো সব শার্টেই মানিয়ে যাচ্ছে তরুণ-তরুণীদের।

শরতের আমেজ থাকলেও এ সময়ে ভারী পোশাক কেউ পরতে চায় না। সবার চাহিদা একটাই— হাল্কা কিন্তু আরামদায়ক পোশাক। সেই সঙ্গে একটু বর্ণিল, কালারফুল কিছু একটা। আর এসব দিক থেকে এগিয়ে গেছে ক্যাজুয়াল শার্ট। সব সময় পরার জন্য দেশি সুতি কাপড়ের ক্যাজুয়াল শার্টই সবচেয়ে এগিয়ে। কারণ, চলমান বিশ্বে ক্যাজুয়াল ফ্যাশনই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। আর সেই ক্যাজুয়াল আমেজ মেলে কেবল শার্টের মতো হালকা পোশাকে।   বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য তো বটেই ফ্যাশনেও ভিন্নতা এনে দেয় বাহারি ডিজাইনের প্রিন্টেড এবং চেক শার্ট।

ক্যাজুয়াল বলা হলেও এসব শার্ট এখন করপোরেট হাউসের ফরমাল ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও মানিয়ে যাচ্ছে সহজে।

গত কয়েক কয়েক বছর আগেও ক্যাজুয়াল পোশাকের বাজারে অনেক এগিয়ে ছিল ফতুয়া। নানা ঢঙের নানা বর্ণের ফতুয়া দেখা যেত চারদিকে। কিন্তু দুয়েক বছরে আবার ফিরে এসেছে শার্টের সুদিন। আবার শার্টের ফ্যাশনে পিছিয়ে নেই মেয়েরাও। মেয়েরাও অফিস, ভার্সিটি এমনকি পার্টিতেও হাজির হচ্ছে ক্যাজুয়াল শার্টে। তবে পাল্টেছে ক্যাজুয়াল শার্টের ধরন। তবে শুধু শার্টের কাটছাঁটেই নয়, ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এর রং ও কাপড়েও। আগে ছেলেদের শার্টের ক্ষেত্রে গোলাপি,  মেজেন্ডা, হলুদ, পার্পল, মেরুন, কমলা রং ব্যবহার করা হতো না বললেই চলে। তবে এখন আর রঙের বালাই নেই। ছেলেরাও ব্যবহার করছে বাহারি রঙের শার্ট। এর বাইরেও পরিবর্তন এসেছে শার্টের ডিজাইনেও। এর মধ্যে শার্টের কলার আর কাফে দুটি বোতাম থাকলে একটা হয়তো লাল, আরেকটা সাদা রঙের। শার্টে বোতাম লাগানোর জন্য বিপরীত রঙের সুতার ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে অনেক বেশি।

এ প্রসঙ্গে ইজি ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনার ও কর্ণধার তৌহিদ চৌধুরী জানান, ‘এখনকার শার্টগুলো ছেলেমেয়ে উভয়ের পছন্দ বিবেচনা করেই তৈরি করা হচ্ছে। কলার, হাতা সব কিছুতেই এখন কলারের ভিতরেও অন্য রঙের কাপড় দিয়ে ভিন্নতা নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন অনেকেই। হাতার কাফেও তা-ই। স্টাইলের চেয়ে ফেব্রিকের পরিবর্তনটাই ইদানীং বেশি নজরে পড়বে। বিশেষত প্রিন্টেড ফেব্রিক। ’

এখনকার শার্টের বাজার ঘুরে ঠিক তেমনটাই দেখা গেল।

নানান রঙের ফেব্রিকে বৈচিত্র্য এসেছে শার্টে। এর মধ্যে সুতি, ইজিপসিয়ান কটন, মিশ্র কাপড়, লিনেন দেখা যাচ্ছে বেশি। প্রিন্টেড শার্টে ছাপা নকশার কোনো একটা রং বেছে নিয়ে দেওয়া হচ্ছে গলা কিংবা হাতায়। ছেলেরা এখন স্লিম কাটের দিকে বেশি ঝুঁকছে। প্যান্টের ভিতরে টাক-ইন করে পরা যায়, প্যান্টের ওপরে রেখেও পরা যাবে। এখনকার শার্টেও টিকিং দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও ট্রেন্ডে সঙ্গে তাল রেখে ফ্যাশনে কিছু পরিবর্তন এসেছে।

ছেলেদের ফ্যাশনের পাশাপাশি মেয়েদের শার্টেও এসেছে খানিক পরিবর্তন। মেয়েরাও এখন স্লিমফিট শার্টের দিকে ঝুঁকছে বেশি। মেয়েদের শার্টে নজর কাড়ছে নানা রকমের ফুলেল প্রিন্টের নকশা। এ ছাড়া পলকা ডট, চেক, স্ট্রাইপ প্রিন্টগুলো শার্টে নিয়ে এসেছে বৈচিত্র্য। মেয়েদের করা হয়েছে লেয়ার কাট। সামনের দিকে লেয়ারটা একটু খাটো করে রাখা হয়েছে। এ রকম শার্ট তাদের জন্য আদর্শ, যারা ছোট শার্টে স্বস্তিবোধ করেন না। শার্টের নিচের দিকে রাউন্ড লেয়ার, ডিশ লেয়ার কাট দেওয়া হচ্ছে।

কিছুকাল আগেও ছেলেদের শার্টে ফুলেল নকশা ছিল। তবে এখন তা আর নেই। এখন সাধারণ শার্টে ফুলেল ছাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। দেখতে একদমই খারাপ লাগছে না। মেয়েদের ফুলগুলোর আকার থাকছে বড়। আর ছেলেদের শার্টে করা হচ্ছে ছোট। সুতি কাপড়ের ওপর হালকা রঙের শেডের ব্যবহার করা হচ্ছে। পাতলা কাপড়ের ওপরে ফুলেল প্রিন্টগুলো গরমে স্নিগ্ধতা নিয়ে আসছে। ফিটেড শার্টগুলোর সঙ্গে স্কার্ট, পালাজ্জো ভালো মানায়। মেয়েদের শার্টে এবার প্যাটার্ন বেসড কাট বেশি দেখা যাচ্ছে। করা হচ্ছে বিভিন্ন নকশার পকেটও।

রঙের ক্ষেত্রে হালকা ও গাঢ় দুই ধরনের রংই পছন্দ করছেন ক্রেতারা। হালকা কাজ, লম্বা হাতার এক রঙের শার্টগুলো অনুষ্ঠানে বেশি মানাবে। প্রতিদিনের ছোটাছুটির জন্য প্রিন্টেড শার্টগুলোই ভালো। কলারে এ বছর হালকা ভিন্নতা থাকছে। ডবল কলার, বেন্ট কলার চলবে। হাতা গুটিয়ে বা ফরমাল করেও পরা যাবে। শার্টে স্ট্রেট কাট থাকলেও পকেটের আশপাশে পিনটাকস পেছনে কুঁচি থাকছে এখনকার ফ্যাশনে। কাঁধের অংশে শোল্ডার স্ট্র্যাপও ব্যবহার।

শার্টের দাম নির্ভর করে ব্র্যান্ড, নকশা ও কাপড়ের ওপর। ব্র্যান্ডের পোশাকের দাম একটু বেশি হয়েই থাকে। এদিকে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে ক্যাজুয়াল শার্টগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৯০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। ডেনিম শার্টের দাম পড়বে ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। আর ব্র্যান্ডের ফরমাল শার্টের দাম পড়বে ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকা। এলিফ্যান্ট রোডের বিভিন্ন দোকানে শার্ট পাবেন ৮৫০  থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে।

টিপস

ঢিলেঢালা শার্টের চেয়ে ফিটিংস শার্ট বাছুন। এক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ফিগার স্ট্রাকচার। যদি শুকনো গড়নের হন, তাহলে স্লিম ফিট শার্ট পরবেন না। কেনার আগে দেখে নিন শার্টের হাত যেন ছোট হয়। যারা শার্ট কিনে পরার  থেকে বানিয়ে পরতে বেশি পছন্দ করেন, তাদের জন্য বেস্ট পিমা বা ইজিপশিয়ান কটনের কাপড়। এই ধরনের কাপড় ভীষণ হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী। তাছাড়া স্ট্রেচবল হওয়ার কারণে আপনি আদর্শ শেপ পাবেন। শার্টের রঙের ক্ষেত্রে উপলক্ষ আর সময় বুঝে নিন। যে  কোনো রঙের প্যান্টের সঙ্গে সাদা আদর্শ। আর কালো রং পছন্দ করেন না এমন মানুষ নেই। তাছাড়া নীল, আকাশি, মেরুন, মেজেন্ডা, হলুদ, পার্পল এবং গোলাপি তো আছেই।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow