Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০০
ইনডিগো, ডেনিম ও ভিন্টেজ ফ্যাশন
ইনডিগো, ডেনিম ও ভিন্টেজ ফ্যাশন

এদেশে নীল চাষের ইতিহাস অনেক পুরনো। নীলের ইতিহাস মিশে আছে মানুষের পোশাকি উন্নয়ন আর আধুনিকতার সঙ্গে।

প্রাচীন নীল গাছ থেকে পাওয়া যায় ইনডিগো ডাইস। এই ইনডিগো ডাইস জিন্স বা ডেনিমের ডায়িংয়ের মূল রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূলত ব্লু জিন্স থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজাইনের ডেনিমের জনপ্রিয়তার আসল কারণ এর ব্যতিক্রমধর্মী রং। অর্থাৎ ইনডিগোর কারসাজির ওপরই চলে ডেনিম ডিজাইনের রকমারিতার ব্যাপক অংশ। সারা বিশ্বে ডেনিমের জনপ্রিয়তা নিয়ে নেই কোনো সন্দেহ। ডেনিমে ইনডিগোর রকমারি ব্যবহার নিয়ে আসে নতুন নতুন ডিজাইন। কখনো ডেনিমেই শোভা পায় যুগ যুগ পুরনো ফ্যাশন নতুন করে। অর্থাৎ নতুন ট্রেন্ডে ফিরে পাওয়া ভিন্টেজ স্টাইল।

ইনডিগোর পরিবেশবান্ধব গুণাগুণ, ডেনিমে ব্যবহৃত সর্বশেষ প্রযুক্তি এবং ভিন্টেজ ফ্যাশনের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ডেনিম মেলা। রাজধানীর রেডিসন ব্লু  হোটেলে ৫ ও ৬ অক্টোবর আয়োজিত এই মেলার থিম ধরা হয় ‘ভিন্টেজ রিকল’।

ইনডিগো ডেনিমের সঙ্গে মিশে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস।

২০০৯ সালে পেরুতে আবিষ্কৃত হয় ডেনিমের সবচেয়ে পুরনো এক টুকরো কাপড়। পরীক্ষায় জানা যায়, কাপড়টিতে ৬০০০ বছর আগে ইনডিগো ডাই করা হয়েছিল। আর কাপড়ে ইনডিগো ব্যবহারের ব্যাপকতা ৩০০০ বছর আগের ইতিহাস। মূলত সে সময় থেকেই এশিয়া ভূখণ্ডে এই অনুশীলন বিস্তার লাভ করে। যদি আরও গভীরে যাওয়া যায় তাহলে চোখে পড়ে এই শিল্প উন্নয়নের বিশাল ফারাক। মানে আমাদের এই অঞ্চলে নীল চাষ ও এর বিভিন্ন ব্যবহার ইতিহাসে পুরনো হলেও মাঝে অনেক বছরই এই চল বন্ধ ছিল। তবে এখন শুধু বাংলাদেশ, ভারত, চীন নয়, সারা বিশ্বে ব্যাপকতা লাভ করেছে এই শিল্প।

ইনডিগো ডায়িং কাপড়ের অন্যান্য রঙের তুলনায় একদম আলাদা। এর মূল কারণ দুটি। প্রথমত, কাপড়ে এর নীল রং ধারণ ক্ষমতা খুবই প্রবল। যার জন্য ডেনিমের ডায়িং হয় খুবই ব্যতিক্রম। আর ঠিক এ জন্যই ফ্যাশন ইতিহাসে ব্লু জিন্স জনপ্রিয়তার চরম সীমায়। দ্বিতীয়ত, ইনডিগো একদমই ন্যাচারাল ডায়িং। আধুনিক কেমিক্যাল ডায়িংয়ের মতো এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। অর্থাৎ ইনডিগো প্রাকৃতিক রং এবং একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব। আর এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইনডিগো থেকেই ডেনিম বা জিন্সের আবিষ্কার এবং জনপ্রিয়তা। ১৮৭৩ সালে জ্যাকব ডব্লিউ ডেভিস সর্বপ্রথম ইনডিগো ডাই ব্যবহার করে নতুন এক প্রকার কাপড় আবিষ্কার করেন। যার বুননে থাকবে ২ সেট কটন সুতা।

এক সেট ইনডিগো ডাই করা, অন্য সেট রংহীন। জ্যাকব কাপড়ের ডিজাইনটি এমনভাবে করেন যেন রঙিন অংশ উপরে প্রাধান্য পায় এবং নিচের অংশ সাদা থাকে। আর বুননটি টুইল আকার ধারণ করে। এ কাপড়ের নামকরণ করা হয় ডেনিম। আর ডেনিমে তৈরি পোশাককে বলা হয় জিন্স। শুরুতে ইনডিগোর এই ব্যবহার শুধু জিন্স প্যান্ট আর জিন্স জ্যাকেটেই দেখা যায়। তবে সময়ের আধুনিকতায় তা এখন নিটের টি-শার্ট থেকে শুরু করে মেয়েদের স্কার্ফেও দেখা যায়।

ফ্যাশনে ডেনিমের অবস্থান অনেকটাই ব্যতিক্রম। এর মূল কারণ, এই কাপড় দেখতে একদমই ভিন্ন এবং রকমারি। ডেনিম বা জিন্সের ডিজাইনে ভিন্নতা আনা হয় ইনডিগোর ব্যবহারের ভিন্নতায়। একই সঙ্গে কারসাজি থেকে যায় ওয়াশিংয়ে। ডেনিমে ইনডিগো ডায়িংয়ের পর বিভিন্ন ওয়াশিং ট্রিটমেন্ট ও অন্যান্য কিছু উপায়ে পরিবর্তন আনা হয় এর আউটলুকে। আর জিন্স এমন একটি পোশাক যাতে অধিক ব্যবহারেও ফ্যাশনেবল লু্ক থেকে যায়। কখনো ডিজাইনেই আনা হয় পুরনো চেহারা। তা যেমন রাফ অ্যান্ড টাফ লুক আনে, তেমনি ভিন্টেজ অনেক ফ্যাশনেবল।

ভিন্টেজ ফ্যাশনের আরও দুই উপায়ের একটি করা হয় পুরনো ডেনিমকে নতুন ডিজাইনে ব্যবহার করে। আরেকটি হচ্ছে, সরাসরি পুরনো কোনো স্টাইলকে নতুন করে ফিরিয়ে আনা।  তা হতে পারে পঞ্চাশ বছর আগের কোনো প্যান্ট ডিজাইন অথবা শার্টের প্যাটার্ন।

ডেনিমে ভিন্টেজ স্টাইল সহজে ফিরিয়ে আনার প্রধান কারণ এর বৈচিত্র্যতা ও রাফনেস।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow