Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৪৭
ঝলমলে চুলের জন্য...
ঝলমলে চুলের জন্য...

সৌন্দর্যসচেতন নারী কিংবা পুরুষ উভয়ের কাছেই চুলের গুরুত্ব থাকলেও সাজগোজে এগিয়ে থাকা রমণীদের সৌন্দর্যে চুল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর একগোছা চুল যে কোনো নারীকে আরও রূপবতী করে তোলে।

  নারীরাও তাই এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে চান না, চান ঝলমলে একগোছা চুল।

 

চুল সুন্দর রাখতে দরকার নিয়মিত যত্নআত্তি। কেননা বাইরের ধুলো-বালি আর রোদের কড়া তাপে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে পড়ে। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে চুলের যত্ন নেওয়ার সময় খুব কম। নিয়মিত পারলারে যাওয়ার সময়ও হয়ে ওঠে না। তাই বলে নিজেকে তো আর চুলের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত করা যায় না। দেখে নিন কম সময়ে চুলের যত্নের ঘরোয়া টোটকা।

 

♦  ঝলমলে চুলের জন্য কন্ডিশনারের বিকল্প নেই। এ জন্য ব্যবহার করতে পারেন প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। ঘরে বসে খুব সহজেই এটি তৈরি করে নিতে পারেন। এ জন্য লাগবে টক দই ও ডিম। প্রথমে একটি ডিমের সঙ্গে কয়েক চামচ টক দই মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি গোড়াসহ পুরো চুলে ভালোভাবে মাখুন। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। ডিমের কুসুম আপনার চুলে পুষ্টি জোগাবে আর সাদা অংশ চুলকে করে তুলবে রেশমি ও সতেজ। খেয়াল রাখতে হবে, চুল ধোয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। গরম পানিতে আপনার চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাবে।

 

♦  নিষ্প্রাণ চুলকে প্রাণবন্ত করতে লাগাতে পারেন টক দই ও মধুর মিশ্রণ। সম পরিমাণে মধু ও দই নিয়ে আগে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার চুলে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন আধা ঘণ্টা। তারপর ধুয়ে নিন উপযোগী শ্যাম্পু দিয়ে। মধু আপনার চুলের ভিতর থেকে ময়েশ্চারাইজার জোগানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজও করবে।

♦   চুলের মসৃণতা রক্ষা করার জন্য কলা দিয়েও মাস্ক বানাতে পারেন। এ জন্য আপনার লাগবে মাত্র দুটি পাকা কলা, দুই টেবিল চামচ মেয়নিজ ও এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল। সব উপকরণ একসঙ্গে পেস্ট করে নিন। এরপর চুলে লাগানোর অন্তত এক ঘণ্টা পর উষ্ণ পানিতে মাথা ধুয়ে ফেলুন। কলা আপনার চুলকে মোলায়েম করতে সাহায্য করবে। যাদের চুল খুব বেশি রুক্ষ, এই প্যাকটি তাদের জন্য খুবই উপকারী।

 

♦  মসুর ডালে শুধু ত্বক চর্চাই হয় না, চুলের যত্নেও দারুণ উপকারী। তিন টেবিল চামচ মসুরের ডাল সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন ভেজানো ডাল মিহি করে বেটে নিন। বাটা ডালের সঙ্গে একটি ডিম, এক চামচ লেবুর রস এবং এক কাপ টক দই মেশান। এরপর আধা ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন।

 

♦  ভিনেগার খুশকির হাত থেকে রক্ষা করার অন্যতম একটি উপাদান। নিয়মিত ব্যবহারে এতে থাকা পটাসিয়াম ও এনজাইম মাথার খুশকি তাড়িয়ে চুলকে করে দারুণ ঝলমলে।

শ্যাম্পু করার পর আধা মগ পানিতে চার টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে নিন।   এবার ভালো করে পুরো মাথার চুল ভিনেগারের পানিতে ধুয়ে নিন।   তারপর চুল মুছে শুকিয়ে নিলেই পাবেন ঝলমলে চুল।  

 

চুলে তেল দেওয়ার সঠিক নিয়ম

চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রাকৃতিক ভরসা নারিকেল তেল। প্রাচীনকাল থেকে চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় এটি বেশ উপকারী। কর্মব্যস্ত নারীদের মাথায় তেল লাগিয়ে বসে থাকার সময় কোথায়! কেউ কেউ শ্যাম্পু করার আগে দুয়েক ঘণ্টার জন্য তড়িঘড়ি করে তেল লাগিয়ে নেন। তাও আবার অনিয়মিত। রইল চুলে তেল লাগানোর সঠিক নিয়ম।

 

০. প্রথমেই বিশুদ্ধ তেল বাছাই করে নিতে হবে। ঘ্রাণ বা নাম দেখেই তেল বাছাই করা ঠিক নয়। এ জন্য নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের তেল বেছে নিতে পারেন।

০. সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলের গোড়ায় ভালো করে তেল মালিশ করতে হবে। চুলের প্রাকৃতিক কন্ডিশনিংয়ের কাজটা হয়ে যাবে।

০. ময়লা চুলে তেল দিলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিই বেশি হবে। তাই পরিষ্কার চুলে তেল দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

০. তেল দেওয়ার আগে উষ্ণ গরম করে নিতে পারেন। চাইলে জলপাই তেল, বাদাম তেল, আমলকীর তেল বা ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে, উপকারিতা বাড়ে।

০. মালিশ করার সময় হাতের আঙুলের ডগার মাংসপিণ্ড দিয়ে মালিশ করবেন। আস্তে আস্তে ঘষবেন যেন মাথার তালুর ওপরই ঘষাটা লাগে, চুলের ওপরে নয়। এতে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে।

০. চুলে তেল লাগিয়ে কমপক্ষে একদিন রাখার চেষ্টা করতে হবে। তাও সম্ভব না হলে রাতে তেল লাগিয়ে সকালে শ্যাম্পু করে নিন।

পরিষ্কার চুলে তেল লাগিয়ে হালকা স্টিম নিতে পারেন। এতে চুল কোমল মসৃণ হয়। এ জন্য প্রথমে হালকা গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিতে হবে। এরপর তোয়ালেটি চুলে ভালো করে পেঁচিয়ে ৫ মিনিট রাখতে হবে। তারপর আবার একইভাবে পরপর চার থেকে পাঁচবার স্টিম  নেবেন। সবশেষে শ্যাম্পু করে নিন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow