Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫২
ফ্যাশনে টাই
সাইফ ইমন
ফ্যাশনে টাই
মডেল : অবাক ও অমরেশ, পোশাক : ইজি, আলোকচিত্রী : মহসিন আব্বাস

ছেলেদের ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো টাই। মেয়েদের মতো ছেলেদের ফ্যাশনে অত ঝামেলা নেই। শার্ট-প্যান্টের সঙ্গে গলায় একটা টাই বেঁধে নিলেই চলে যাওয়া যায় যে কোনো অনুষ্ঠানে। অফিস বা পার্টিতে টাইয়ের ব্যবহার অনেক দিনের। আবার সামনেই আসছে শীত, এ সময়েও এর ব্যবহার বেড়ে যায়। তবে সব সময়েই যে কোনো আনুষ্ঠানিকতায় টাই ফ্যাশনের আধুনিকতায় এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা। বর্তমানে যে টাইয়ের ট্রেন্ড চলছে, এটা সত্তর-আশির দশকে ছিল। আধুনিক ফ্যাশনে টাইয়ের যেমন কদর, তেমন ছিল অতীতেও। বহুকাল আগে চীনের সম্রাট কিন শি হুয়াং এবং তার সৈন্যরা ইউনিফর্মের সঙ্গে টাই ব্যবহার করত। তবে সেই টাই ছিল অনেকটা মাফলারের মতো। একদল গবেষকের ধারণা অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ২১০ শতকের দিকে চীনেই টাইয়ের ব্যবহার শুরু হয়। এ ছাড়াও ১৬৫০ সালের দিকে ক্রোয়েশিয়ার মানুষরা এক ধরনের টাই ব্যবহার করত। যাকে ক্রোয়েশীয় ভাষায় বলা হতো ‘ক্রাভাট’। এরও বহু পরে ১৯২০ সালে জেসি ল্যাংসডোর্ফ নামে নিউইয়র্কের একজন দর্জি টাইয়ের একটি পরিপূর্ণ রূপ দেন।  বিবর্তনের ফলে এ রূপেরও পরিবর্তন ঘটেছে আর হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ। 

 

গেটআপের ওপর নির্ভর করে বর্তমানে তিন ধরনের টাই পাওয়া যায়। যেমন— ফরমাল টাই, ক্যাজুয়াল টাই ও ফ্যাশনেবল টাই। কেউ ব্যবহার করছে ফরমাল টাই, কেউবা আবার ব্যবহার করছে ক্যাজুয়াল কিংবা ফ্যাশনেবল টাই। ইদানীং একদম সরু আধা ইঞ্চি চওড়া টাই ফরমালি ব্যবহূত হলেও ফরমাল টাই মূলত প্রস্থে দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি হয়ে থাকে। ক্যাজুয়াল টাই হয় দেড় থেকে দুই ইঞ্চি এবং ফ্যাশনেবল টাই এক থেকে দেড় ইঞ্চি হয়ে থাকে। আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো প্রকারের টাই আপনি বেছে নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক খেয়াল রাখা প্রয়োজন। শরীরের গড়ন, শার্ট কিংবা স্যুটের রঙ, কী ধরনের গেটআপ নিতে চাচ্ছেন এ সবকিছুর ওপর নির্ভর করে টাই বাছাই করা উচিত। শুরুতেই খেয়াল রাখতে হবে শারীরিক গড়নের দিকে। যেমন রোগা গড়নের মানুষদের জন্য চওড়া টাই বেশ মানিয়ে যায়। আবার মাঝারি মাপের টাই ব্যবহার করুন যদি ভুঁড়ি থাকে। আর লম্বা মানুষরা যে কোনো ধরনের টাই বেছে নিতে পারেন। যদিও অনেক দিন ধরে চলা চওড়া টাইয়ের স্থানে এখন চিকন টাইয়ের ব্যবহারটাই বেশি। মনে রাখতে হবে, টাইয়ের ক্ষেত্রে রঙ নির্বাচনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটু এদিক-সেদিক হলেই পরতে হতে পারে ফ্যাশন সংকটে। কারণ টাইয়ের রং আপনার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। বয়সের দিক থেকে তরুণ বয়সীদের গাঢ় রং সবসময়ই ভালো মানিয়ে যায়। আর মাঝারি বয়সীদের হালকা রং এবং বয়স্কদের উজ্জ্বল রঙের টাই ভালো মানিয়ে যায়। আবার টাইয়ে রঙের ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিন ধরনের টাই আছে। যেমন— ডটেট টাই, এক রঙা টাই এবং চেক টাই। আপনি যে কোনো ধরনের টাই বেছে নিতে পারেন। তবে কোন রঙের কী ধরনের টাই পরবেন তা নির্ভর করে মূলত কোন রঙের কেমন স্টাইলের সার্ট বা স্যুট পরছেন তার ওপর। বাজারে বিভিন্ন রঙের টাই পাওয়া যায়। পিয়াজ রঙা, আপেল কচি কলাপাতা, কালোজাম ইত্যাদি প্রকৃতির রঙের টাইয়ের পাশাপাশি সিল্কের অথবা সাদা, কালো, সোনালি ইত্যাদি সব রঙের টাই পাওয়া যায়। একরঙা ছাই অথবা নেভি ব্লু জাতীয় স্যুটের সঙ্গে প্রায় সব ধরনের টাই দারুণ মানিয়ে যায়।

তাই এক্ষেত্রে টাইয়ের রঙ নিয়ে আপনার চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে হাল্কা রঙের যে কোনো শার্টের ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের টাই ব্যবহার করা উচিত। এতে খুবই স্মার্ট দেখাবে আপনাকে। আর গাঢ় রঙের সার্টের ক্ষেত্রে টাই হিসেবে বেছে নিতে পারেন হালকা কোনো রঙ।  যেমন সাদা রঙের টাইয়ের সঙ্গে কালো রঙের শার্ট পরলে খুবই ভালো দেখায়।

এদিকে অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা অফিসে ব্লেজারের সঙ্গে টাই ব্যবহার করে। ব্লেজার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কনট্রাস্ট রঙের টাই বেছে নেওয়া উচিত। যেমন নীল ব্লেজারের সঙ্গে গোলাপি টাইয়ের ব্যবহার কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

 

টিপস

♦ টাই যদি রাতে পরেন, তাহলে সিল্কের টাই পরতে পারেন।

♦  দিনের বেলায় স্যুট বা শার্টের সঙ্গে মিলিয়ে টাই বেছে নিন।

♦ টাই পরার আগে শার্টের কলারটা দেখে নিন। কারণ, শার্টের কলার ঢিলা হলে টাই ভালো লাগে না।

♦  হাফ হাতা শার্টের সঙ্গে টাই পরিহার করেন।

♦ কলার আর হাতায় আলাদা রঙের বর্ডারসহ শার্টের সঙ্গে টাই বেশি মানায়।

♦  একরঙা শার্টের সঙ্গে ডটেড বা চেক টাই বেশি মানায়।

 

দিনভর কাজ শেষেও ক্লান্তিহীন

অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়াটা প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়ে গেছে। অবসাদ আর অনীহা গ্রাস করছে দিনের পর দিন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাতেও আজকাল মন বসছে না। ঠিক তেমনি প্রিয় মানুষকে সঙ্গ দিতে গেলেও আসছে একই বিরক্তি। নিজের এসব আচরণে বেড়ে যেতে পারে দুজনের দূরত্ব। পরিচিতজনদের কাছে সম্মান ক্ষুণ্ন করতেও এ ধরনের আচরণ যথেষ্ট।

শুধুমাত্র কাজের ক্লান্তি এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। তাই আজই বিদায় করুন কর্মক্ষেত্রের ক্লান্তি। দিনভর কাজ করেও থাকুন ক্লান্তিহীন ঝরঝরে। কিন্তু কীভাবে? সমাধান আপনার হাতের মুঠোয়—

প্রতিদিনই একটু আগেভাগে বাসা থেকে বের হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের একটু আগেই পৌঁছলেন, তাতে অন্তত মনের মধ্যে তাড়াহুড়া থাকবে না। এতে যেমন নিজে রিলাক্সে থাকবেন তেমনি ট্রাফিক জ্যামেও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার বাজে অনুভূতি আসবে না।

আগের দিনগুলো যেমনই যাক, এখন একটু নিজের পোশাক নির্বাচনে রুচির পরিচয় দিন। একই পোশাক বা ময়লা পোশাক মনের চনমনে ভাবটা আসতে বাধা দেয়। পরিচ্ছন্ন পোশাকে মনে আসে প্রশান্তি।

প্রতিদিন একই চেয়ারে বসে কাজ করতে একঘেয়েমি লাগাটা স্বাভাবিক। তাই বসার চেয়ারটি বদলে নিতে পারেন। আপনার অফিসের কনফারেন্স রুমে মাঝেমধ্যে বসে কিছুটা সময় কাজ করুন, এতে ভিন্নমাত্রা আসবে। তাছাড়া সারা দিন একাধারে বসে কাজ করা ঠিক নয়। মাঝেমধ্যে একটু দাঁড়ানোর অজুহাত খুঁজুন। হাঁটতে পারলে আরও ভালো।

কাজের ফাঁকে মোবাইল হাতে নিয়ে কাছের মানুষগুলোকে দুয়েক লাইন মেসেজ লিখতে পারেন। তাদের সম্পর্কে খবর নিলেন, নিজের খোঁজ দিলেন— দেখবেন মনের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসছে।

দুপুরের খাওয়ার পর একটু হেঁটে নিতে ভুলবেন না। ঠিক ব্যায়াম নয়, আলস্য তাড়ানোর জন্য বিষয়টি মন্দ নয়।  সম্ভব হলে অফিস থেকে বেরিয়ে কলিগদের সঙ্গে কোথাও বসে চা খেয়ে নিতে পারেন। এ ধরনের পরিবর্তন কাজে আরও বেশি উদ্দীপ্ত করবে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow