Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০১
ভালোবাসা এমনই হয়
সম্পর্কের সাতকাহন
তানিয়া জামান
ভালোবাসা এমনই হয়
► ভ্যালেন্টাইন্স ডের স্পেশাল শুটে মডেল হয়েছেন তারকা দম্পতি নাঈম ও নাদিয়া ► ছবি তুলেছেন মারুফ ► লোকেশন : পথিক বিরতি

ভ্যালেন্টাইন্স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি এলে এ দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী বয়ে যায় একটিই উৎসব জ্বর।

ভালোবাসার জোয়ারে ভাসে সবাই। তাত্পর্যময় এই দিনের ইতিহাস সাক্ষী দেয় প্রেমিক প্রেমিকার অনন্ত ভালোবাসাকে। আর তাই তো বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের মূল নায়ক নায়িকাকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিতে ভোলে না এ যুগের প্রেমিক যুগলরা।

 

ভালোবাসা, সম্পর্কটি পুরোটায় মোড়া আবেগধর্মী শর্তে। এ সম্পর্কের গভীরতাও যেন অতলস্পর্শী। হাজারো মানুষের ভিড়ে বিশেষ একজনের সঙ্গে নিজের সব আবেগ, অনুভূতি, দুঃখ, কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার এ এক অপার আনন্দ। প্রেমের মিলনাত্মক পরিণতিতে শরীরের ব্যাপারটি ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করার সাধ্য কার।

 

কিছুকাল আগ পর্যন্ত যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজলভ্য ছিল না তখনো প্রেম ছিল দুরন্ত। নিজের গতিপথে থেকেছে স্বতন্ত্র। কোনো বাধা তাদের দমাতে পারেনি। চিঠি, চিরকুটে যোগাযোগ আর কালেভদ্রে দুয়েকবার দেখা হওয়া ছিল পরম আরাধ্য। সে ভালোবাসার জন্য হয়েছে অনেক ত্যাগ। ঘটেছে স্মরণীয় অনেক ঘটনা। প্রেম পাগল যুগল ভবিষ্যৎ ভাবনা না ভেবেই করেছে অনেক কিছু। আজ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ভালোবাসার ধরন বদলেছে কিছুটা। তারপরও ভালোবাসার আবেদন কমেনি এতটুকু। একজন আরেকজনের জন্য এখনো নিয়ে চলেছে অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। তাদের এই প্রচেষ্টায় হয়তো বাঁচিয়ে রেখেছে ভালোবাসার বিমূর্ত প্রতীককে। যুগে যুগে ভালোবাসা দিবস সবার মননে হয়েছে অক্ষয়।

 

বছর ঘুরে একবার আসা বিশেষ এই দিনে সবাই তাদের কাছের মানুষটিকে কাছে পেতে চায়। তাকে খুশি করার জন্য থাকে নানা ধরনের পরিকল্পনা ও আয়োজন। আপনিও নিশ্চয় এর ব্যতিক্রম নন। এরই মধ্যে পরিকল্পনা নিয়েছেন ভালোবাসা দিবসে পছন্দের মানুষটির জন্য আপনি কি করবেন। প্রথমত তাকে খুশি করতে এমন কোনো আচরণ যা তাকে আবেগাপ্লুত করে, দৃঢ়তা পায়। কিছু উপহার দেওয়া তাকে খুশি করতে আর সর্বোপরি তার সামনে সুন্দরভাবে উপস্থিত হওয়া।

 

কারও কাছে এসব আয়োজন কিছুটা বাড়াবাড়ি। অথচ বিশেষ দিনে বিশেষ মানুষটির জন্য কিছু করার আবেদন বিফলে যায় না। একটু হলেও দোলায়িত করে হৃদয়ের কোনায় জমে থাকা তরল ভালোবাসাকে। আপনিও চাইলে ভালোবাসার এই দিনে এক অনন্যভাবে চমকে দিতে পারেন আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে। দেখবেন প্রিয় মানুষটি একে দারুণ উপভোগ করবে। তাকে আনন্দিত করে আপনিও কম তৃপ্ত হবেন না।

 

বছরজুড়ে থাকে নানা কাজের চাপ। বিশেষ এই দিনে ব্যস্ততা থেকে ছুটি নিয়ে প্রিয়জনকে সময় দিতে পারেন। আর সাধ্যের মধ্যে রাখতে পারেন পরিপূর্ণ একটি আয়োজন। কারণ নিজের অবহেলায় পরিকল্পনা থেকে কিছু বাদ গেলে পুরো ব্যাপারটি খাপছাড়া লাগবে। সেজন্য প্রতিটি বিষয়ে দরকার বিশেষ সচেতনতা। বিশেষ এই দিনে প্রিয় মানুষটির সান্নিধ্যে যেতে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে তা হলো পোশাক নির্বাচন। তার সামনে কীভাবে উপস্থিত হবেন? দিনের বিশিষ্টতায় কী রঙের পোশাক মানানসই। এসব নিয়ে হয়তো ভেবেছেন কিংবা কিছুই ভাবেননি। প্রেমে আস্থা থাকায় ভাবছেন তার সামনে আলাদা করে উপস্থিত হওয়ার কী আছে? কিন্তু এই বিশেষ দিনে বিশেষভাবে তৈরি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়। অনেক যুগল আবার একই রঙের পোশাক কিনে নেন আগেভাগেই। তারপর দুজনের একই পোশাকে উপস্থিতি আলাদা ভাবার্থ সৃষ্টি করবে।

 

ভালোবাসার সঙ্গে গোলাপি রঙের জোর সম্পর্ক থাকায় পোশাকটি বেছে নিতে পারেন এই রঙে। প্রিয় মানুষটির পছন্দের কোনো রং থাকলে সেটিকেও প্রাধান্য দিতে পারেন। লাল পোশাকেরও থাকে দারুণ আবেদন। এই দিনে মেয়েরা পরতে পারেন শাড়ি, সালোয়ার কামিজ অথবা ট্রেন্ডি কোনো পোশাক। ছেলেদের জন্য শার্ট, পাঞ্জাবি বেশ মানানসই। তবে সবটাই বেছে নিতে হবে নিজের গড়ন ও অভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। ঝলমলে রোদ, হালকা শীত, বসন্ত সর্বোপরি প্রেমকে মাথায় রেখে নিজেকে উপস্থাপন করায় ভালো। ভালোবাসাময় বিশেষ এই দিনে সুন্দর সাজে উপস্থিত হয়ে চমকে দিন প্রিয় মানুষটিকে। দেখবেন এতে আপনার ভালোবাসার মানুষটি দারুণ খুশি হবে।

 

 

কাছে আসার গল্প

পছন্দের মানুষটি নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন যেকোনো দিন। কিন্তু বিশেষ দিনে ঘোরাঘুরি তৈরি করবে নতুন ভাবার্থ। অবশ্য কাছের মানুষটি সঙ্গে থাকলে সবই ভালো লাগে। তবুও তার পছন্দের কোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে ভালোলাগা আরও বাড়বে। যতক্ষণ আপনি তার সামনে থাকছেন মনোযোগটি থাকুক তার প্রতিই। একজনের সঙ্গে অপরের আত্মিক টান সৃষ্টির মোক্ষম সুযোগ হতে পারে। বিশেষ অথবা ঐতিহ্যবাহী কোনো যানবাহনে ঘোরা হতে পারে আপনাদের জন্য স্মৃতিময়।

 

ভালোবাসা অনিশ্বেষ। এই অমোঘ সত্যকে ধারণ করে বিশেষ দিনে ভালোবাসাকেও করতে পারেন সংজ্ঞায়িত। এ দিনে দুজনে মিলে শপথ নিতে পারেন নতুনভাবে পথচলার। একে অন্যকে সম্মানের স্থানে রেখে ভালোবাসা আরও মজবুত করার। এতে আগামী দিনগুলো হবে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।

অনেক কথা মুখে বলা হয়ে ওঠে না। আজকের এই বিশেষ দিনে মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখে ফেলুন চিঠি। সেকেলে রীতিতে ভালোবাসার এই প্রকাশ কিছুটা হাসির খোরাকও জোগাতে পারে দুজনের। কিন্তু এটাই হতে পারে প্রিয় মানুষটির জন্য চমক। অল্প কথায় সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা চিঠিটি দিতে পারেন সুন্দর একটি খামে। নিজ হাতে তৈরি করলে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়ে যাবে।

 

অনেকে হয়তো ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষকে প্রথম না বলা কথা বলবে। তাদের উত্তেজনা অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই। সেজন্য রোমান্টিক রাতের খাবারের পরিকল্পনা দারুণ কাজে দেবে। এ ছাড়াও প্রেমিক যুগল বা নব দম্পতিদের জন্যও ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের উপযোগিতা কিন্তু কম নয়। তবে একেবারেই যদি এত আনুষ্ঠানিকতা না করতে চান মনোরম পরিবেশ বেষ্টিত কোনো রেস্টুরেন্টে বসতে পারেন মনের মানুষটির সঙ্গে। বলতে পারেন ভালো লাগার কথা। এতে দুজনের সম্পর্কে দুজনের আস্থা বাড়ে। সম্পর্ক হয় মজবুত।

 

প্রিয় মানুষটিকে চমকে দিতে বিশেষ কোনো স্থানে করতে পারেন আনন্দ আয়োজন। সে জায়গাটি সাজাতে পারেন ভালোবাসাময় স্বর্গরাজ্যে। পাশ থেকে ভেসে আসতে পারে সুমধুর গান। আর মজার সব খাবার তো থাকতেই পারে। কিছু না জানিয়ে আপনার এই আয়োজন তাকে অভিভূত করবেই। ভৌগোলিক দূরত্ব মনের টানের কাছে কিছুই না। এমন দিনে যারা নিতান্তই দূরে অবস্থান করবেন তাদের জন্য ভরসা হতে পারে ফোন আর ফেসবুক। নিয়মিত আপডেট দেওয়া, কথা বলা, কিছু সময় পর পর ছোট বার্তা পাঠানো একে অন্যের উপস্থিতি জানান দেবে। ভালোবাসা দিবসের এই আনন্দকে বহাল রাখতে মাঝে মাঝেই হতে পারে এমন কিছু সারপ্রাইজিং ট্যুর। এভাবেই রচিত হবে আপনাদের কাছে আসার গল্প।

 

ভালোবাসার যত্ন

একটি ফলদায়ী গাছের ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যত্নের প্রয়োজন তেমনি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই। ভালোলাগা, আস্থা, ভরসা, সর্বোপরি কাউকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে দরকার হয় সম্পর্কের উন্নয়ন। আর সে সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করে ভালোবাসা নামক অদৃশ্য রশি। তাইতো ভালোবাসাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তার যত্নের প্রয়োজন।

 

ভালোবাসা একমুখী নয়। সে আপনাকে ভালবেসে সব দায়িত্ব পালন করে যাবে আর আপনি তা উপভোগ করবেন এটা ঠিক নয়। আপনিও কিছু দায়িত্ব নিন। কাছের মানুষটির প্রয়োজন বুঝে কাজ করাটাও আপনার দায়িত্ব।

 

মানুষ ভুল ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। ভালোবাসার মানুষের আচরণে কোনো ত্রুটি দেখা দিলেও বড় করে দেখা ঠিক নয়। তাকে ভুল হলে বুঝিয়ে বলুন। তার সঙ্গে সমঝোতা না করে নিজের মনে রাগ পুষে রাখা একদম ঠিক হবে না। আপনার কোনো ত্রুটি সে ধরিয়ে দিলে আপনাকেও শুধরে নিতে হবে।  

বিভিন্ন কথার মাঝে ভিন্ন মত আসতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে দুজনেরই উচিত ঝগড়া এড়িয়ে চলা। মনে রাখতে হবে ঝগড়া কোনো সমস্যার সমাধান নয়।

 

ঘুম থেকে উঠে অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা কাজের সময় অন্য সাধারণ কথার মাঝে একবার ছোট্ট করে বলুন ভালোবাসি। হঠাৎ এমন কথা চমত্কৃত হওয়া ছাড়া উপায় কি বলুন? এমন সময় প্রিয় মানুষটির হাস্যোজ্জ্বল মুখটি আপনাকেও খুশি করবে নিশ্চিত।

 

ছোটখাটো যে কোনো সফলতায় আপনার সঙ্গীকে স্বীকৃতি দিন। ভালো কাজের জন্য আপনার দেওয়া ধন্যবাদ তাকে খুশি করবে। ভালো কাজের প্রতি আপনার দেওয়া উৎসাহও তার জন্য কম নয়।

 

অনেক সময় দেখা যায় আপনার সঙ্গী এমন কোনো কাজ করে বসেছে যা মোটেও মানতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে তাকে ভালো মন্দের পার্থক্য বুঝিয়ে বলুন। আপনার সামাজিক, পারিবারিক অবস্থান থেকে কাজটি কতটুকু গ্রহণযোগ্য তা ভালো করে বুঝিয়ে দিলে তিনি অবশ্যই মানবেন। এতে উভয়ের প্রতি ধারণা স্বচ্ছ হবে।

 

অ্যানিভার্সারি, জন্মদিন বা বিশেষ কোনো দিবসে কাছের মানুষকে উইস করা একদমই ভোলা নয়। সে আপনার হয়ে গেছে ভেবে উইস করা থেকে বিরত থাকা বোকামি। কারণ ছোট ছোট এসব খুশি সম্পর্ককে ভালো রাখতে যথেষ্ট। আর এড়িয়ে যাওয়াটা এক সময় ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।

 

মাঝে মাঝে ছোট উপহার দিন পছন্দের মানুষটিকে। হোক সে খুব স্বল্প মূল্যের। তবু উপহার তো উপহারই। যেকোনো বয়সেই উপহার মানুষকে আন্দোলিত করে।

 

এ ছাড়াও তার কাজের সময় সাহায্য করাটা আপনার প্রতি আস্থা তৈরি করবে। ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিলেও কাজ করবে শ্রদ্ধা আর বিনয়। তাই ভালোবেসে ভালোবাসার যত্ন নিতে হবে, জয় করতে হবে হৃদয়।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow