Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:৫৬
আভিজাত্যে বেল্ট
আভিজাত্যে বেল্ট
♦ মডেল : বাপ্পা ও জুয়েল ♦ পোশাক ও বেল্ট : ইজি ♦ ছবি : আতিক

ফ্যাশন ব্যাপারটা শুধু পোশাকই নয় ফ্যাশনেবল অনুষঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ। বেল্ট এমন একটি অনুষঙ্গ যা সাধারণ পোশাকের চেহারাও বদলে দিতে পারে।

প্রয়োজনের খাতিরে তো বটেই, স্মার্টলুক আনতে চাই বেল্ট। জিন্স কিংবা ফরমাল, যে কোনো প্যান্টের সঙ্গেই স্মার্টলুক আনে বেল্ট। লিখেছেন— আবদুল কাদের

 

একটু এলোমেলো বাহারি ঢঙে সাজসজ্জার পোশাক যে তারুণ্যের ফ্যাশনে ঠাঁই করে নিয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাহারি বেল্টের সমাহার। বাংলায় কোমরবন্ধনী বলা হলেও, মূলত ঢিলেঢালা পোশাকের ফিটিংটা ঠিক করতেই এর ব্যবহার। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে তা এখন হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ।

 

প্রাচীন যুগ থেকেই মানুষ চামড়া ব্যবহার করত। কালের বিবর্তনে সেই চামড়া আধুনিকতার ছোঁয়ায় রূপ নিয়েছে লেদার শিল্পে। রাতারাতি ভোল পাল্টে হয়ে উঠেছে ব্যবহার যোগ্য স্টাইলিশ স্টেটমেন্ট।

আর ফ্যাশনেও এনেছে বৈচিত্র্য। সেই লেদার দিয়ে এখন তৈরি করা হচ্ছে বাহারি সব বেল্ট। যদিও লেদার বহুকাল আগে থেকেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তবে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, আগে শুধু প্রয়োজনেই বেল্ট ব্যবহার করা হতো এখন বেল্ট ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গ।   

 

ইজি ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘বেল্ট এখন ফ্যাশনের অন্যতম স্টেটমেন্ট এবং ফরমাল কিংবা ক্যাজুয়াল দুই ধরনের লুকের সঙ্গেই মানায়। তা ছাড়া এখন তরুণীদের অনেকেই এখন ফ্যাশনে বেল্টের ব্যবহার করছে। যত যাই হোক বেল্ট অনুষঙ্গটি হওয়া চাই মানানসই ও আরামদায়ক। শার্ট ও প্যান্টের রঙে মিল রেখে যেমন পরা যায়, তেমনি শার্ট ও প্যান্টের রঙের বিপরীত রঙেও বেল্ট পরা যায়। বাজারের নানা রকমফের বেল্টের মধ্যে দামে একটু বেশি হলেও লেদারের বেল্ট তারুণ্যের চাহিদার শীর্ষে। ’

 

তারুণ্যের কথা মাথায় রেখে তাই তো বেল্টের প্যাটার্ন ও ডিজাইনে এসেছে পরিবর্তন। নামিদামি ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা যায় ভারী জমকালো বেল্টও। চামড়ার বেল্টের চল তো অনেক আগে থেকেই। কয়েক বছরে সঙ্গে যোগ হয়েছে পাট, কাপড়, সিনথেটিক এবং সুতার বেল্ট। নতুন এসেছে স্টিলের রিং, পুঁতি, বোতাম, দড়ি কিংবা পাথরের নানা বাহারি ডিজাইনের বেল্ট। দেখতে একটু ভিন্ন হওয়াতে তারুণ্যের পছন্দও এসব বেল্ট। চোখ জুড়ানো পাথর বসানো চেইন, চামড়া, প্লাস্টিকের তৈরি বেল্টগুলোও বর্তমানে তারুণ্যের মন জয় করেছে। তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কোমরবন্ধনী হিসেবে বেছে নিতে পারেন রুপার হালকা নকশার বেল্ট।

 

স্মার্টলুকের জন্য ভালো পোশাকের সঙ্গে মানানসই একটি বেল্ট যেমন ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে, তেমনি ফ্যাশনসচেতন হিসেবেও হাজির করে। ফরমাল লুক ছাড়াও ক্যাজুয়াল লুকেও বেল্ট বেশ মানিয়ে যায়। তবে ফরমালের ক্ষেত্রে জুতার রং এবং বেল্টের রং এক হলে ভালো। তবে ধাতব বকলেসটি বেশি চকচকে হলে বেমানান। আবার ক্যাজুয়াল লুকে বেল্টের ধাতব বকলেসটি একটু বড় এবং চকচকে হলে বেশ মানাবে। বাহারি ডিজাইনের বেল্ট ক্যাজুয়াল পোশাকে মানিয়ে যায় সহজেই। রঙের ক্ষেত্রে জিন্স কিংবা টি-শার্টের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন। চাইলে কনভারস, স্নিকার কিংবা লোফারের সঙ্গেও মিলিয়ে নিতে পারেন। ফরমাল লুকের জন্য একরঙা চকচকে বেল্টই মানানসই। তবে ক্যাজুয়াল লুকে বেছে নিতে পারেন হাল্কা বাদামি, সাদা কিংবা চকচকে যে কোনো রং।

 

শারীরিক গঠন অনুযায়ী সঠিক জায়গামতো বেল্ট পরাটাও দরকার। যারা একটু মোটা, তাদের বেল্ট কখনোই কোমরের নিচে পরা উচিত নয়। আবার যারা চিকন তাদের সবকিছুতেই ষোলোআনা। কোমরের ওপরের অংশে, মাঝামাঝি অথবা নিচের দিকে সব জায়গায় পরতে পারেন। আবার বেল্টের শেষ অংশটুকু খুব বেশি লম্বা না রাখাই ভালো। যতটুকু প্যান্টের লুপের সঙ্গে মানায় ততটুকুই রাখুন।

 

বাজারে রকমফের বেল্টের সমাহার। রেক্সিন, লেদার এবং কাপড়ের বেল্টের চাহিদাই বেশি। নরমাল প্যান্টের সঙ্গে চামড়া বা রেক্সিনের চিকন বেল্ট মানানসই। তবে যাদের কোমর একটু চওড়া তারা চওড়া বেল্ট বেছে নিতে পারেন। উন্নত মানের বেল্টগুলো সাধারণত লেদারের হয়ে থাকে। রেক্সিনের চেয়ে লেদারের বেল্ট অনেক বেশি স্থায়ী। চামড়ার বেল্টগুলোর মধ্যে রয়েছে বেণি, সাইড বিট প্যাটার্ন, কালার ম্যাট বেল্ট, বিট সেট ইত্যাদি।

বাজারে অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের বেল্ট পাওয়া যায়। দাম কমবেশি হলেই যে বেল্ট ভালোমন্দ হবে এমনটিও নয়। বেল্ট ও বকলেসের ডিজাইন ভিন্নতার কারণে দামের পার্থক্য হয়। বেল্ট কেনার ক্ষেত্রে বুঝেশুনে কেনা ভালো। চামড়ার বেল্ট পাবেন ২৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। রেক্সিনের বেল্ট পাবেন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আর কাপড়ের বেল্ট পাবেন ২০০ থেকে ৬০০ টাকায়। বাটা, অ্যাপেক্স, আড়ং, জেন্টলপার্ক, এক্সটেসি, ইনফিনিটি, ট্রাস্টমার্টসহ বেশ কিছু ব্র্যান্ডের শোরুমে বাহারি ডিজাইনের এসব বেল্ট পাবেন। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নাভানা টাওয়ার, এলিফেন্ট রোড, গুলিস্তান, বঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন মার্কেটে বেল্টের অনেক দোকান পাবেন।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow