Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০০
মনোবিদের মখোমুখি
তারানা আনিস
চাইল্ড সাইকোলজিস্ট এ্যাপোলো হসপিটালস, ঢাকা
মনোবিদের মখোমুখি

বাবা-মা প্রতিবন্ধী সন্তানকে মেনে নিতে বাধ্য হলেও মানসিকভাবে হন হতাশাগ্রস্ত। চারদিকে সব ছেলেমেয়ে স্বাভাবিক, শুধু আমারটিই কেন অস্বাভাবিক? এমন প্রশ্নের বেড়াজাল থেকে বেরোতে পারেন না অনেকেই।

বাচ্চাটির প্রতিবন্ধকতার জন্য স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দায়ীও করেন।

 

সমস্যা

আমি ঢাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করি। আমার তিনটি ছেলে আছে। বড় ছেলে ও ছোট ছেলেটা স্বাভাবিক। কিন্তু মেজো ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। ওর বয়স ১৫ বছর। বড় ছেলেটা সম্পূর্ণ মায়ের বাধ্যগত। ছোট ছেলেটার বয়স ১৩। ছোট ছেলেটা ওর মায়ের কথা শুনতে চায় না। পড়াশোনা নিয়ে ওদের মধ্যে প্রচণ্ড অশান্তি হচ্ছে। মাধ্যমিকের আগে আমার স্ত্রী তার টিভি দেখা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা সে একেবারেই মানতে পারেনি। ছোট ছেলে পড়াশোনায় খুব একটা ভালো নয়, কিন্তু এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। পড়াশোনার চেয়ে টিভি দেখতেই বেশি আগ্রহী। নিজের মাকে শত্রু মনে করে এবং সব কিছু নিজে করতে চায়। ওর ধারণা যে আমরা তার অন্য দুই ভাইকে বেশি গুরুত্ব দিই। এমনকি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এই পরিস্থিতিতে কী করব?

— মনিম আবদুল্লাহ, মানিকনগর

 

সমাধান

আপনার মেজো ছেলেটি মানসিক প্রতিবন্ধী, তারই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ছোট ছেলের ওপর।   কৈশোরে এমনিতেই মনের ওপর চাপ থাকে বেশি, তার ওপর মেজো ভাই মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারে সম্পর্কের টানাপড়েনের সম্মিলিত চাপ হয়তো নিতে পারছে না আপনার ছোট ছেলেটি। অতিরিক্ত মানসিক চাপে তার পড়াশোনায় অনীহা এবং অমনোযোগ। ভাইয়ের প্রতি বাবা-মায়ের বাড়তি মনোযোগের কারণে সে যে অবহেলিত এমন অভিযোগ মোটেই ফেলে দেওয়ার নয়। পরিবারে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুর জন্ম হলে কিছু ঘটনা পরপর ঘটে। যেমন শিশুটি আর পাঁচটি স্বাভাবিক শিশুর চেয়ে আলাদা। তা বুঝতেই বাবা-মায়ের কয়েক বছর লেগে যায়। অনেক বাবা-মাই সন্তানকে প্রতিবন্ধী হিসেবে মেনে নিতে গিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বাচ্চাটির প্রতিবন্ধকতার জন্য স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দায়ী করছেন অথবা বউমাকে শাশুড়ির লাঞ্ছনা সইতে হচ্ছে এমন ঘটনা বিরল নয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও কখনো কখনো অবনতি ঘটে। শিশুটিকে স্পেশাল স্কুলে দেওয়া হলেও তার প্রতি অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয় বাবা-মাকে। ফলে তার সব কাজ করে দেওয়া, সব সময় তার ওপর নজরদারি করা এসব চলতেই থাকে। এমন শিশু-কিশোরদের ভাইবোনদের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, একই পরিবারে প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের সঙ্গে বড় হতে গিয়ে তারা নিজেদের অবহেলিত বলে মনে করছে। বড়টির চাহিদা মেটাতে গিয়ে ছোটটির দিকে নজর না দেওয়া, তার সুখ-আহ্লাদকে গুরুত্ব না দেওয়া, এসব তাদের মনে হতাশা আর আক্রোশ তৈরি করে। অনেক সময় বাবা-মাও এই আক্রোশের শিকার হন। একই ঘটনা ঘটছে আপনার ছোট ছেলের ক্ষেত্রে। শৈশব থেকেই সে মেজো ভাইয়ের তুলনায় কম গুরুত্ব পাওয়া এবং অবহেলিত হয়ে থাকার যন্ত্রণা কৈশোরে এসে প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে। বঞ্চনার প্রতিবাদ হিসেবেই ও পড়াশোনা বন্ধ করেছে। সারাক্ষণ টিভির অনুষ্ঠানে ডুবে থাকছে, নিজের মাকে শত্রু হিসেবে মনে করছে। ওর প্রতি যে সত্যিই আপনারা যথেষ্ট নজর দেননি সেটা অনুভব করতে পারলে হয়তো অবস্থার উন্নতি হতে পারে। শুধু ওকে খুশি করার জন্য কিছু একটা করুন, ওর ১৫ কিংবা ১৬ বছরের জন্মদিনটা বড় করে সেলিব্রেট করুন। ওর যে বিষয়ে আগ্রহ আছে তাতে উৎসাহ দেখান, ওর ভালো কাজের প্রশংসা করুন এবং ওর মাকে সমালোচনা করতে বারণ করুন। কৈশোরে আবেগ-প্রবণতা বাড়ে, আপনার স্ত্রী যদি ছোট ছেলেটির ক্ষেত্রে একটু স্পেস দেন, তাতেও সুফল মিলবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow