Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০২
ডেন্টাল ক্রাউনের প্রয়োজনীয়তা ও পরিচর্যা
ডেন্টাল ক্রাউনের প্রয়োজনীয়তা ও পরিচর্যা

ডেন্টাল ক্রাউন বা ক্যাপ সম্পর্কে আমাদের কিছুটা ধারণা তো অবশ্যই আছে! ত্রুটিপূর্ণ দাঁতকে স্বাভাবিক রাখার জন্য চিকিৎসকরা ক্রাউন বা ক্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাধারণত দাঁতে প্রদাহজনিত রোগ হলে সেই দাঁতে রুট ক্যানেল করার পর দাঁতটিকে স্বাভাবিক ও আবার যেন ভেঙে না যায় সে কারণে দাঁতে ক্যাপ পরানোর প্রয়োজন পরে।

এ ছাড়া বিভিন্ন আঘাতে দাঁত ভেঙে যায় বা ফেটে যায় অথবা দাঁতের রং কালো হয়ে যায়। তখন দাঁতে ক্যাপ লাগানো জরুরি হয়ে পড়ে। দাঁতে শুধু ক্যাপ লাগালেই হবে না ক্যাপের সঙ্গে দাঁতের রঙের মিল থাকতে হবে। তা না হলে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হবে। তবে ক্যাপ লাগানো প্রক্রিয়া খুব সহজ কিছু নয়। অনেক সময় ক্যাপ লাগানোর পর নানা জটিলতা দেখা যায়। রুট ক্যানেল সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়াকে এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। অনেক সময় দাঁত সেপ অনুযায়ী কাটার সময় অসচেতন থাকলে মাড়িতে আঘাত লাগে। এ জন্য দাঁতে শিরশির অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এখান থেকে ডেন্টাল ক্যারিজ বা প্রদাহজনিত রোগ দেখা দিতে পারে।   অনেক সময় অসতর্কতায় ক্যাপের মেকানিক্যাল লক নষ্ট হয়ে যায়। এতে ক্যাপ লাগানোর ব্যবহৃত উপাদানের মৌলিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে অনেক সময় ক্যাপটি দাঁত থেকে খুলে যায়। ডেন্টাল ক্রাউন বা ক্যাপ ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি। ফলে পাশের দাঁতে খাবার জমে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। পরবর্তীতে দাঁত ও মাড়িতে রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্যাপ পরানো দাঁতের পাশের মাড়ি ধীরে ধীরে সরে যায়। এতে দাঁতের গোড়ার শক্তি কমে যায়। এক সময় দাঁত পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। আধুনিক ক্যাপের উপরিভাগ পরচিলিন দিয়ে তৈরি করা হয়। ফলে তা দাঁতের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। যদি কোনো কারণে তা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ক্যাপের উপরিভাগে ফাটল ধরে। এক সময় ফাটা অংশটি ধারালো হওয়ার কারণে জিহ্বা বা মুখের ভিতরের অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নানা প্রদাহ রোগ দেখা দিতে পারে।

 

সতর্কতা ও পরিচর্যা

আমরা সাধারণত দাঁতে ব্যথা না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে চাই না। দাঁতে ক্যাপ লাগানোর পর থেকে বিশেষ যত্ন অপরিহার্য। প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি ম্যাসাজ করুন। এতে মাড়ি ভালো থাকবে, দাঁতের গোড়া মজবুত হবে। দুই দাঁতের মাঝখানে ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করুন। ফলে দাঁতের মাঝে খাবার জমার ভয় থাকবে না। ডেন্টাল ক্যারিস বা মাড়ির প্রদাহজনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। প্রতিদিন একবার লবণ গরম পানি দিয়ে কুলি করুন। এতে খাবারের অবশিষ্ট কণা বের হওয়াসহ দাঁত ও মাড়ির নানাবিধ সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাবেন। কখনো অসতর্কতায় ক্যাপ খুলে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow