Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৫
অন্দরে সবুজের সমারোহ
নূরজাহান জেবিন
অন্দরে সবুজের সমারোহ
ছবি : ইন্টারনেট

ইট-কংক্রিটের শহরে সবুজের সমারোহ পাওয়া দুষ্কর। শহুরে দেয়ালের বাইরে যে একটু প্রাণ খুলে শ্বাস নেওয়া যাবে তার ফুরসতও নেই।

চাইলে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন ছোটখাটো সবুজের বাগান। অন্দরে ছোট ছোট গাছ কিংবা ইনডোর প্লান্ট শুধু অন্দরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না অন্দরে আপনার ঘরকে করে তোলে সবুজের বাগান।

 

সবুজ মানেই শৌখিনতা আর শান্তি। ইট-কংক্রিটের শহরে সবুজের ছোঁয়া পাওয়াটা দুষ্কর। তার ওপর বায়ু দূষণে রাজধানীবাসীর নাকাল অবস্থা। চার দেয়ালের বাইরে মন ভরে শ্বাস নেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্ট ইনস্টিটিউট ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মিট্রক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হালের ঢাকার চিত্র। বায়ু দূষণের শহুরে তালিকায় ঢাকা রয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে। এতে একটু হলেও নড়েচড়ে বসেছেন পরিবেশবিদরা। আসলে পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ শহর তৈরিতে শুধু সরকারই নয়, সাধারণকেও পাশে এগিয়ে আসতে হবে। চাইলে আপনার নিজের বাড়িতেই ছোট ছোট গাছ বা ইনডোর প্ল্যান্ট লাগাতে পারেন। ছোট্ট সবুজের সমারোহ জোগাবে প্রশান্তি ও বিশুদ্ধ অক্সিজেন।

 

সবুজ রং ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। কারণ সবুজ মানেই বৃক্ষ আর বৃক্ষ মানেই জীবন। যার জন্য আমরা প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারি, যার ছায়ায় গিয়ে দাঁড়ালে মেলে কেবল প্রশান্তি। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বেড়ে যাওয়ায় এখন আর বাইরে বের হলে মন ভরে শ্বাস  নেওয়া যায় না। চাইলে বাড়িতেই ছোট ছোট গাছ বা ইনডোর প্ল্যান্ট লাগাতে পারেন। গাছ শুধু মনই ভালো করে না, সারাদিনের ক্লান্তি-অবসাদও দূর করে দেয়। কীভাবে সাজাবেন অন্দরের বাগান।  

 

ঘরে ইনডোর প্ল্যান্ট কিংবা ছোট ছোট ফুলেল গাছ ঘরের শোভা বাড়িয়ে তুলবে কয়েকগুণ। ইনডোর প্ল্যান্ট করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় না রাখলেই নয়। প্রথমেই ঘরের আয়তন বুঝে প্ল্যান করুন কীভাবে কোথায় গাছের টব রাখবেন। বড় ফ্ল্যাট হলে আসবাবের পাশে শো-পিসের মতো দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন ছোট্ট প্ল্যান্টার। তবে ছোট ফ্ল্যাটে এই অপশন বাদ দিয়ে প্ল্যান্টার ঝোলানোর ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় টব, প্ল্যান্টার আগে থেকেই ঠিক করে নিন কীভাবে কোথায় কোন ধরনের গাছ রাখবেন। ঘরের কোণটি করে তুলতে পারেন গ্রিন কর্নার। এজন্য বড় এরিকা পামে মেরি পামার বা লতানো অ্যাসপ্যারাগাস রাখতে পারেন। আপনার ঘরের অন্দর ক্ল্যাসিক বা মডার্ন যাই হোক না কেন, গাছের ব্যবহার ভিন্নতা এনে দেবেই। তা ছাড়া চোখের শান্তিতে সবুজের বিকল্প নেই। অন্দরে কাঠের মেঝে, মার্বেল টবের অ্যান্টিক টেবিল। টেরাকোটার হিউজ পটে গাছের উচ্চতা প্রায় সিলিং ছুঁই ছুঁই। ঘরে যদি পিলার থাকে তাকে জড়িয়ে দিন লতাগুল্ম জাতীয় গাছ। লিভিং রুম এবং ডাইনিংয়ের মাঝখানের জায়গাটায় ইনডোর প্ল্যান্ট। বারান্দায় হাসনাহেনা, বেলি কিংবা মাধবী লতা।

 

ড্রইংরুমে সোফার পাশে টবে পাতাবাহার, ঝাউ জাতীয় নানা গাছ। তার ওপর ঝোলানো প্ল্যান্টারে ফুলসহ লতা। রান্নাঘরের শিল্পেও  শৈল্পিকতা ফুটিয়ে তুলতে জানালায় ছোট্ট পরিসরে মানিপ্ল্যান্ট কিংবা দেয়ালে লতানো প্ল্যান্টে। লিভিংরুমে কোণে খাটের পাশে ছোট্ট টেবিলে টব কিংবা কাচের ফুলদানিতে ছোট্ট ছোট্ট গাছ। জানালায় পর্দার পাশে দেয়ালে জোড়া গাছ অন্দরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবেই। প্রকৃতিপ্রেমী হোন বা না হোন, অন্দর সাজে গাছের ব্যবহার মনকে করে স্নিগ্ধময়।

এ ছাড়া ঘরে ঢুকতে, সিঁড়ির কোণে, দেয়ালে গাছ দিয়ে সাজান, যা সবকিছুকে ছাপিয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ উপহার দেবে।

 

ইন্ডোর প্ল্যান্টের জন্য  গাছের উপযোগী টব ব্যবহার করুন। গাছের ডাল, পাতা নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। মাঝে মাঝে স্প্রে করে, স্পঞ্জ ভিজিয়ে পাতা পরিষ্কার করা যেতে পারে। মাটির উর্বরতায় গোবর সার দিলেও কখনোই কাঁচা গোবর নয়। ঘর ময়লা করতে না চাইলে বাইরে নিয়ে গিয়ে পরিষ্কার করে, মাটি খুঁড়ে, পানি দেওয়ার প্রয়োজন হলে পানি দিয়ে এনে আবার জায়গায় রাখুন। ইনডোর প্ল্যান্ট তাজা রাখতে কিছুদিন পরপর বাইরের হালকা রোদে দু-এক দিন রেখে ঘরে নিয়ে আসুন। গাছ দুর্বল হয়ে পড়লে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই ব্যবহার বিধি জেনে নিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow