Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ২১:৪২
এই সময়ে টি-শার্ট
এই সময়ে টি-শার্ট
► মডেল : সজীব খান ও লাবণ্য রোজ ► পোশাক : পিজিয়ন ► মেকআপ ওভার : ওমেন্স ওয়ার্ল্ড ► ছবি : নাফিস শাহরিয়ার

ফ্যাশন ব্যাপারটি চলমান। আসলে ফ্যাশনে আজ যা আউট অব ট্রেন্ড কাল তা-ই ফ্যাশনে ইন।

কিছুকাল আগেও টি-শার্টের ফ্যাশনে একরঙার আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু আজ তা একটু বেমানান। টি-শার্টের হাল ফ্যাশনে প্রিন্টের স্টাইলের কদর এখন তুঙ্গে। ঋতুরাজ বসন্ত যত সামনে এগোচ্ছে, টি-শার্টের কদর ততই বাড়ছে। জানাচ্ছেন— আবদুল কাদের

 

শীত তো চলেই গেল। বসন্তের এই আয়েশি আবহাওয়া হাল্কা গরম হাল্কা শীতের আমেজ। ভারী পোশাক এই সময়ে একেবারেই বেমানান। এমন দিনে সবচাইতে জনপ্রিয় পোশাক কী? একবারেই বলে দেওয়া যায় টি-শার্ট। নতুন বছরে টি-শার্টের নকশায় রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। বিভিন্ন ফ্যাশন তাদের টি-শার্টের পসরায় যোগ করেছে প্রিন্টেড কালারফুল কালেকশন।

 

এই সময়ের আরামদায়ক এই পোশাকে হাওয়া-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও দারুণ। ডিজাইনাররা টি-শার্টগুলো তৈরি করেন প্রায় স্লিমফিট স্টাইলে। বয়স যাই হোক, এমন টি-শার্টে ফ্যাশনেবল লুক খুব সহজেই মেলে। এটি এমন পোশাক যা সব সময়ই ভীষণ রকম ট্রেন্ডের মধ্যে ইন। সাধারণত টি-শার্টে বোতাম বা কলার হয় না। গোল গলা কিংবা ভি-নেকে বেশ আকর্ষণীয় দেখায়। পোলো শার্ট বা অন্যান্য কলারযুক্ত শার্ট আসলে টি-শার্ট নয়। এ ধরনের শার্টের হাতা কাঁধের পাশ দিয়ে সামান্য একটু বাড়তি থাকে।

 

সাধারণত টি-শার্ট সুতি কাপড়ে তৈরি হলেও অন্য উপাদানের মিশ্রণও থাকে। ফ্যাশনে গোল গলা, কিংবা ভি-নেক, সব রকমের টি-শার্টই বারোমাসী ফ্যাশন। সাধারণত সুতি কাপড়ের তৈরি হলেও দেখতে বেশ গর্জিয়াস। তবে টি-শার্ট পরার ক্ষেত্রে কোন রঙে নিজেকে মানাবে সেটা বুঝে নেওয়া জরুরি। কিছুকাল আগেও টি-শার্টের ফ্যাশনে একরঙার আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো, কিন্তু আজ তা একটু বেমানান। টি-শার্টের হাল ফ্যাশনে প্রিন্টের স্টাইলের কদর তুঙ্গে। পাশাপাশি একরঙা ও চেকের কদরও আছে।

 

এ প্রসঙ্গে পিজিয়নের ডিজাইনার ও কর্ণধার রাজিব ফেরদৌস বলেন, ‘গতানুগতিক ধারার বাইরে ওয়েস্টার্ন থিমের টি-শার্টের জনপ্রিয়তাই তারুণ্যের মাঝে বেশি। আবার টি-শার্ট একটু ফিটিং না হলে যেন ফ্যাশনটি জমে ওঠে না। তাই তো এবারের টি-শার্টগুলো তৈরি করা হয়েছে স্লিম ফিটেড করে। আর প্রিন্টেড স্টাইলের এসব টি-শার্টগুলোর থিম বেশ মজার। একটু ওয়েস্টার্ন লুক আনতেই টি-শার্টে করা হয়েছে ভিন্ন কাপড়ের ব্যবহার। টি-শার্টের ছাপাও এবার বেশ বড় ও রংচঙে যা অনায়াসেই স্মার্টলুক দেয়। ’

টি-শার্টের ওপর লেখা ‘রও’ আর ওয়ান লাইনার কিন্তু ভীষণ রকম হিট। ছোট বড় বিদেশি ডিজাইন আর স্লোগানে ভরপুর টি-শার্টের রমরমা। তার সঙ্গেই আছে বিভিন্ন কার্টুন। নানারকম পকেট দেওয়া টি-শার্টের কদরও বেশ। টি-শার্টে এখন নতুনত্ব হচ্ছে হাফ হাতার নিচের দিকে ও কলারে ভিন্ন কাপড়ের ব্যবহার। এসব ছাড়াও ফতুয়া গলার টি-শার্টও এখন বেশ চলছে। যেগুলোর হাতা বা নিচের দিকে পাইপিং দেওয়ায় এসেছে নতুনত্ব। কাঁধে বা হাতায় একাধিক মোটা সেলাই দেখা যাচ্ছে। নিচের দিকে সম্পূর্ণ গোল কাট। ক্যাজুয়াল লুকে টি-শার্টের সঙ্গে জিন্স, গ্যাবার্ডিন বা সুতি প্যান্ট বেশ মানায়। জুতার পাশাপাশি স্যান্ডেলও পরতে পারেন। বেশি তাপ শোষণ করে বলে গরমের সময়টাতে কালো রং এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বরং বসন্তের এই সময়টাতে বেছে নিতে পারেন একটু বর্ণিল তবে আরামদায়ক রং। টি-শার্টে কালো ছাড়াও অন্যান্য রঙের বৈচিত্র্য রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন বাসন্তী, নীল, সবুজ, ছাই, ফিরোজা, গোলাপি, সুরমা, জলপাই, কমলা ও লালচে ধরনের রংগুলো। ফেব্রিকের ক্ষেত্রে ফুল কটন, মিক্সড কটনই ট্রেন্ড।

 

আজকাল সামার ব্লেজার-জ্যাকেটের সঙ্গে টি-শার্ট পরতে পারেন। তবে ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে টি-শার্ট ভালো লাগবে না। একই রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট পরলেও ভালো লাগবে না। পোশাক নির্বাচনে কনট্রাস্ট বা দুটো ভিন্ন হলেই ভালো লাগবে। নগরীর বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও শপিং মলগুলোতে পাওয়া যাবে দেশি-বিদেশি ফ্যাশনেবল টি-শার্ট। একটু ভালো মানের টি-শার্ট কিনতে যেতে পারে দেশি ও বিদেশি ফ্যাশন হাউসগুলোয়। ব্লক, বাটিক, স্ক্রিনপ্রিন্টসহ প্রতিটি টি-শার্ট যেন একেকটি রং-তুলির ক্যানভাস। গরমে স্টেচিং নিট কাপড়ের টি-শার্টই আরামদায়ক।

 

টি-শার্টের দামই নির্ভর করে ফেব্রিক, ডিজাইন ও ব্র্যান্ডের ওপর। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে টি-শার্ট পেয়ে যাবেন ৪৫০ থেকে ১৮০০ টাকায়, ব্র্যান্ডের টি-শার্ট পাবেন ৮০০ থেকে ৩৬০০ টাকায়।

এই পাতার আরো খবর
সর্বাধিক পঠিত
up-arrow