Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৫৫

সুস্থ চুলের দাওয়া

নূরজাহান জেবিন

সুস্থ চুলের দাওয়া
মডেল : কানিজ ফাতেমা
♦ ‘ভিটামিন ই’ জাতীয় খাবার চুলের হেয়ার স্ক্যাল্প ভালো রাখে। 
♦  প্রোটিন ও বিটা ক্যারোটিন চুলের কোষ গঠন এবং গোড়া মজবুত করে।
♦  ওমেহা থ্রি জাতীয় খাবার চুলকে গোড়া থেকে বাড়ায় এবং চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

 

চুল পড়ে যাচ্ছে! জৌলুসতা হারাচ্ছে রুক্ষতায়! মনে হচ্ছে চুলের তেলের বিজ্ঞাপন? নাহ, অযতœ এবং অবহেলায় আমাদের আদুরে চুলগুলোর হালও ঠিক এমনটাই হয়। রোজ তেল আর শ্যাম্পু ব্যবহার না হলে বিউটি পার্লারের হেয়ার স্পা ও হেয়ার প্যাকেও ফলাফল শূন্য। ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটছে বুঝে উঠতে পারছেন না? তাহলে মাথা ঠাণ্ডা করে একটু ভাবুন। আপনার সাধের চুল ঠিকঠাক পুষ্টি পাচ্ছে তো? গাছ যেমন শিকড় দিয়ে মাটি থেকে জল শুষে  খাবার পায়, চুলও তেমন চুলের গোড়া থেকে তার খাবার পায়। তাই জরুরি হলো চুলের বৃদ্ধি বা গ্রোথ যেন ভালো হয় তার ব্যবস্থা করা। এজন্য শুধু বাইরের ট্রিটমেন্টই সমাধান নয়। ভিতর থেকেও প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। চলুন দেখে নিই, প্রতিদিন কী-কী খাবার চুলের জন্য পুষ্টিকর।

 

কেমন খাবার খাবেন :

চুলের গ্রোথের জন্য প্রয়োজন প্রোটিন, ফ্যাট, জিঙ্ক, ভিটামিন সি ইত্যাদি। তার মধ্যে চুলের প্রধান পুষ্টি হলো প্রোটিন। যার জোগান দেয় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। তাই প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে রাখতে পারেন মাছ, মাংস, ডিম, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি। মসুর, রাজমা, ছোলা ইত্যাদি ডালও খেতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। এটা চুলের কেরাটিন গঠনে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখে। চুল পড়া কমে যায় অনেকাংশে। বিশেষজ্ঞ কিংবা চিকিৎসক বরাবরই ফ্যাট জাতীয় খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কেননা সব রকম ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়।  কিন্তু একমাত্র ওমেগা থ্রি ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য ভালো। এই ফ্যাট আমাদের শরীরে ভিটামিন এবং খনিজের কার্যকারিতা বাড়ায়। ওমেগা থ্রি ফ্যাট জাতীয় খাবার (মাছের তেল) চুলের গোড়া থেকে গ্রোথ বাড়ায় এবং চুলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। এ ছাড়া মাছ এবং এর তেলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর ওমেগা থ্রি চুলের একান্ত আবশ্যিক উপাদান। পাশাপাশি মজবুত এবং সিল্কি চুল গঠনে আয়রন আর জিঙ্কও খুব দরকারি উপাদান। আয়রন আমাদের রক্তে ও কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফলে শরীরের রক্তসঞ্চালন ঠিকঠাক থাকে। তাই রোজ আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ডাল, রাজমা, ছোলা, মাংস ইত্যাদি খেতে পারেন। জিঙ্ক হেয়ার কোষ ভালো রাখে এবং স্ক্যাল্পের অয়েল গ্ল্যান্ড থেকে তেল নিঃসৃত করতে সাহায্য করে। ফলে চুলে রুক্ষতার সমস্যা থাকে না। এ ছাড়া প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে রাখুন ফলের রস। শাক-সবজির ভাণ্ডারে রাখুন পালং শাক, লঙ্কা ইত্যাদি। এসব ফল ও সবজিতে ভিটামিন সি থাকে, যা কোলাজেন তৈরি করতে পারে এবং শরীরে আয়রনের চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করে। জানি অনেকেরই এসব খাবার খেতে হয়তো খুব একটা ভালো লাগবে না। কিন্তু চুলের বৃদ্ধির জন্য শাক-সবজি খুব উপকারী।

 

কী কী খাবেন?

ডিম তো সবারই প্রিয়। প্রতিদিন একটা ডিম খেয়ে নিন। ডিমে থাকা বায়োটিন চুুলের আগা ফাটা রিপেয়ার করে, গোড়ায় গিয়ে চুলের পুষ্টি জোগায়। চুলকে ঝলমলে করে গড়ে তুলতে কাজু, পেস্তা, আমন্ড বা আখরোট যে কোনো বাদামই খেতে পারেন। চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বিনস (মটরশুঁটি) খেতে পারেন। এ ছাড়া চুলকে ভিতর থেকে মজবুত রাখতে বেশি বেশি মিষ্টি আলু খেতে পারেন। মিষ্টি আলু খেতে যতটা মিষ্টি, ততটাই কাজেরও। এর বিটা ক্যারোটিন চুলের নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, চুলের বৃদ্ধি ধরে থাকতে শুধু নয়, চুলের ডগা ফাটা, চুল পড়া বন্ধ করতেও খুব দরকারি হলো ভিটামিন সি। আর এর শতভাগ পূরণ করতে সাহায্য করবে গোলমরিচ। এবং চুলে ভিটামিন ই সরবরাহ করতে চোখ বন্ধ করে অ্যাভাকোডা খেতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে ‘ভিটামিন ই’ নিলে চুলের গ্রোথ ৩৪.৫% মতো বেড়ে যায়। এটি চুলের ফলিকল শক্ত করে।


আপনার মন্তব্য