Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৭
ইফতারে থাকতে হবে ফল-মূল
ডা. এম. শমশের আলী
ইফতারে থাকতে হবে ফল-মূল

রোজাদারদের বেশ কিছু খাদ্য গ্রহণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। অনেক রোজাদার রমজান মাসে তাদের কায়িক শ্রমের পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়ে কিছুটা অলস জীবনধারা পালন করতে থাকেন, যা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বৈকি। রমজানে বছরের অন্যান্য সময়ের মতো কর্মচাঞ্চল্যতা বজায় রাখতে হবে। রমজান মাসে রোজদাররা অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ও শক্তিদায়ক খাদ্যবস্তু দ্বারা আহার সম্পন্ন করে থাকেন। যেমন রমজান মাসে তেল, চিনি, মিষ্টি ও পাকা ফল খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তেল, চিনি, মিষ্টি ও পাকাজাতীয় ফলে ক্যালরির (শক্তির) পরিমাণ বেশি থাকায় এসব খাদ্যবস্তু অধিক পরিমাণ গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি ঘটে থাকে। তাই রমজান মাসে খাদ্যবস্তু গ্রহণে একটু হিসাবী হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ইফতারের সময় বেশি করে পানি গ্রহণ স্বাস্থ্যসম্মত, কারণ সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানির অনেক ঘাটতি দেখা দেয়। এছাড়া ইফতারে থাকতে হবে শসা, খিরা, পেয়ারা, তরমুজ, টমেটো, নাশপাতির মতো ফল। এছাড়া বেশি পরিমাণে তৈলাক্ত খাদ্যবস্তু, মুড়ি, জিলাপি, ফিরনি, পায়েস, পাকা আম, কাঁঠাল ইত্যাদির পরিমাণ একটু কম করে গ্রহণ করতে হবে। রাতের খাবার সহজপাচ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়, কারণ রাতের খাবার ও সেহরির মাঝে সময় খুব কম হওয়ায় সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণের ফলে সেহরির খাবারের সময় ক্ষুধা থাকে এবং সেহরিতে একটু বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা যায়। রাতের খাবারে ভাত, মাছ, সবজি ও ডালজাতীয় খাদ্য স্বাস্থ্যসম্মত। রাতের খাবার রাত ১০-১১টার মধ্যে খেয়ে ফেলা ভালো। সেহরির খাবার একটু দেরিতে গ্রহণ করা ভালো। সেহরিতে এমন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত যেসব খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডালজাতীয় খাদ্যবস্তু। সেহরিতে ভাত রুটি ও মিষ্টিজাতীয় খাদ্যবস্তু কম পরিমাণে গ্রহণ করে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও সবজির পরিমাণ বেশি গ্রহণ করলে দিনের বেলায় রোজাদার ব্যক্তিরা কর্মচঞ্চল থাকতে পারবেন এবং রোজায় ওজন বৃদ্ধি রহিত করতে পারবেন। রমজান মাসে অনেকেই শাকসবজি গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যেটা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। মনে রাখতে হবে যে, কী ধরনের খাদ্যবস্তু ওজন বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে যেমন- ভাত, রুটি, আলু, চিঁড়া, মুড়ি, বিস্কুট, মিষ্টি দধি, সেমাই, সুজি, ফিরনি, পায়েশ, কেক, পাউরুটি, নুডলস, চিনি, তেল ও তৈলাক্ত খাবার, সফ্ট ড্রিংকস, বোতলজাত ফলের রস। তাই এসব খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করলেই রমজানে ওজন বৃদ্ধি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। তাই খাদ্য গ্রহণে সতর্ক হতে হবে।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট, (কার্ডিওলজি)

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা।




up-arrow