Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৮
গর্ভবতীদের রোজা
ডা. রুশদানা রহমান তমা
গর্ভবতীদের রোজা

অনেক গবেষণার পর এটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি রোজা গর্ভস্থ বাচ্চার ক্ষতি করে কি করে না। ইসলাম ধর্ম গর্ভবতী নারীদের  রোজা রাখতে বাধ্য করে না ।

  গর্ভবতীরা পরবর্তীতে এই রোজাগুলো কাজা রোজা হিসেবে রাখতে পারে। তবে গর্ভবতীদের  কেউ যদি রোজা রাখতে চায়, সে যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে ও গর্ভজনিত কোনো জটিলতা না থাকে তাহলে সে রোজা রাখতে পারবে। কিছু কিছু গবেষণায়  দেখা গেছে গর্ভাবস্থার প্রথম ও শেষ তিন মাস রোজা রাখলে বাচ্চার উচ্চতা ও ওজন কিছুটা কম হতে পারে, তবে তা খুবই সামান্য। রোজায় বাচ্চার ওপর কি প্রভাব  ফেলবে তা নির্ভর করে- ১) গর্ভধারণের পূর্বে মহিলার ওজন ও স্বাস্থ্য কেমন ছিল, ২) গর্ভাবস্থার কোন পর্যায়ে আছে, ৩) দিনে কত ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে তার উপর। গর্ভবতীরা নিজেরাই বিচার করতে পারবে তারা রোজা রাখতে কতটা সমর্থ । রোজা রাখতে হলে একজন গর্ভবতীর যেসব বিষয় মানতে হবে তা হল-১) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে তার ডায়বেটিস, উচ্চরক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, হার্টের সমস্যা আছে কিনা  সেগুলো নির্ণয় করতে হবে কারণ রোজা রাখলে এগুলোর জটিলতা বাড়তে পারে।   কারও ওজন ও লাইফস্টাইল যদি সুস্থ স্বাভাবিক হয় যাতে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি জমা আছে যা বাচ্চাকে সাপ্লাই দিতে পারবে তার জন্য রোজা নিরাপদ।   ২) খুব বেশি পরিশ্রম হয় এমন কাজ করা যাবে না। ৩) চা,কফি, কোলা, গ্রিন টি এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এরা  পানিশূন্যতা করতে পারে। ৪) কর্মজীবী মহিলাদের কাজের চাপ কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়াতে হবে।   সেহরি ও ইফতারের

সময়— ১) স্বাস্থ্য সম্মত খাবার ও প্রচুর পানি খেতে হবে (সব মিলিয়ে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লিটার পানি), ফলের রসও খাওয়া যেতে পারে। ২) ধীরে এনার্জি রিলিজ করে এমন খাবার যেমন- ভাত ,ডাল, আলু ইত্যাদি খেতে হবে যা অনেক সময় ধরে শক্তি দেবে, ২) প্রোটিন জাতীয় খাবার  যেমন মাংস, ডিম, মাছ খেতে হবে যা বাচ্চার বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

লেখক : গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow