Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১০ জুন, ২০১৬ ২৩:১০
হৃদরোগীদের জন্য রোজা
ডা. কামাল পাশা
হৃদরোগীদের জন্য রোজা

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। প্রতিবছর বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মুসলমান রোজা পালন করে থাকেন। এ বছর আমাদের দেশে রোজাদারদের দিনে ১৫ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। এর ফলে কিছু কিছু রোগীর জন্য রোজা পালন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হৃদরোগ এর মধ্যে অন্যতম। হৃদরোগীদের মনে একটি প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই আসতে পারে, আমি কি রোজা রাখতে পারব? তাদের এ প্রশ্নের উত্তর সীমিত পরিসরে যতদূর সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করছি। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ ইত্যাদি সমস্যার জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের রোজা রাখা-না রাখার বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয় বরং বৈজ্ঞানিক থেকে বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়। তাই এ বিষয়ে জানতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ : ঘন ঘন রক্তচাপ উঠানামা করলে রোজা শুরুর অন্তত সপ্তাহখানেক আগেই উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ওষুধ খেয়ে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে তাদের রোজা পালনে কোনো সমস্যা নেই।

ইস্কেমিক হৃদরোগ ও হার্ট ফেইলিউর : হার্টের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে থাকলে, ঘন ঘন বুকে ব্যথা/শ্বাসকষ্ট হলে, যাদের হার্ট ফেইলিউর এবং সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন হলে এর জন্য যদি উচ্চমাত্রায় মূত্রবর্ধক (Diuretic) ওষুধ খেতে হয়— এদের জন্য রোজা পালন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের পর এবং হার্ট সার্জারির পর অন্তত ছয় সপ্তাহ রোজা পালন থেকে বিরত থাকতে হবে। কিন্তু স্টেন্টিং বা হার্টের রক্তনালিতে রিং বসানোর পর রোজা পালনে বাধা নেই।

ভাল্বের সমস্যা : ভাল্ব অত্যন্ত চিকন হয়ে যাওয়া বা অত্যধিক Leak হওয়া (Incom petence)- যদি মাঝারি থেকে মারাত্মক হয়ে থাকে এবং ওষুধ সেবনের পরও উপসর্গ পুরোপুরি দূর হয় না, তাদের রোজা পালন সমীচীন হবে না।

ওষুধ : যারা narfarin বা anti-coogulant

জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকেন, তাদের জন্য রোজা পালন ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের হার্টের সমস্যা এমন পর্যায়ে আছে যার জন্য তাদের ঘন ঘন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে Follow-up এ আসতে হয় তাদের জন্য

রোজা পালন সমস্যা তৈরি করতে পারে। আর যেসব হৃদরোগী Stable আছেন, অর্থাৎ ওষুধ সেবন করে যারা ভালো আছেন অর্থাৎ symptom বিহীন আছেন, তাদের রোজা পালনে কোনো বাধা নেই।

লেখক : চিফ কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।




up-arrow