Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৯
মাতৃদুগ্ধের গুণাগুণ
ডা. নওশীন শারমীন পূরবী
মাতৃদুগ্ধের গুণাগুণ

মায়ের দুধের অবদান অপরিসীম। এটি এমনই এক সুষম খাদ্য যা প্রথম ছয় মাস খাওয়ালে সে সময়ে অন্য কোনো খাবার, পানীয়, মধু, চালের গুঁড়ার সুজি, চিনির পানি, এমনকি সাধারণ পানি,  কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই। মাতৃস্তনে প্রথম যে দুধ আসে তার নাম শাল দুধ। এটি হালকা হলুদ বর্ণের, আঠালো, পরিমাণে কম। এটি শিশুর প্রথম খাবার এবং প্রথম টিকা হিসেবে কাজ করে। এতে প্রচুর প্রোটিন ও ভিটামিন থাকে। পরিমাণে কম হলেও এতে আছে Growth Factor যা শরীরকে সুগঠিত করে। আছে এমন সব উপাদান যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করে। ফলে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কানপাকা, মেনিনজাইটিস, অ্যালার্জি বা একজিমা কম হয় বা হলেও তাড়াতাড়ি আরোগ্য লাভ করে। শাল দুধ অনেকটা জোলাপের মতো কাজ করে। পেট পরিষ্কার করে ফলে শিশুর জন্ডিস কম হয়। ভিটামিন এ থাকার কারণে অন্ধত্ব দূর হয়। শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়িয়ে হাড়ের গঠন মজবুত করে। মুখ মণ্ডলের হাড় সুগঠিত হয়। এ ছাড়া শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে শিশুর IQ বা বুদ্ধি ধার ১০ মাত্রা বৃদ্ধি করে। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যদি বাচ্চাকে মায়ের বুকের দুধ দেওয়া যায়, তবে গর্ভফুল তাড়াতাড়ি পড়ে যায় এবং প্রসব-পরবর্তী রক্তপাত কম হয়। ফলে মায়ের রক্ত স্বল্পতা তৈরি হয় না এবং জরায়ু খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়। প্রসবের পরবর্তী আধ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ দিলে তাদের দুধ তৈরি ও দুধ খাওয়াতে পরবর্তীতে অসুবিধা কম হয় এবং  অনেক দিন পর্যন্ত বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারেন।

লেখক : গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ, পূরবী’স কেয়ার, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow