Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:৪২
ঈদে রিচফুড ও হাইপ্রেসার
ডা. এম শমশের আলী
ঈদে রিচফুড ও হাইপ্রেসার

খাদ্যবস্তু ভোজন সম্পর্কে সমাজে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা বিদ্যমান আছে। অনেকে বলে রিচফুড মানে পোলাও-কোরমা বা ওই জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।

অনেকে বলেন ডিম-দুধ খাওয়ার পরবর্তীতে রক্তচাপ বা প্রেসার বৃদ্ধি পায়। আবার অনেকে মনে করেন প্রেসার লো হলে ডিম-দুধ খেলে প্রেসার বেড়ে নরমাল (স্বাভাবিক) হয়। অনেকের ধারণা গরুর মাংস খেলে তাত্ক্ষণিকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। এসব ভাবনা-চিন্তা নিতান্তই অমূলক। রিচফুড, ডিম-দুধ খেলে এবং তৈলাক্ত গরু-খাসি বা অন্যান্য প্রাণীর মাংস খেলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়, তবে তা তাত্ক্ষণিক রক্তচাপ বৃদ্ধি না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে এসব খাদ্যবস্তু গ্রহণ করলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। উচ্চরক্তচাপ দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাসের ফসল। এ ধরনের খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যার ফলশ্রুতিতে রক্তনালিতে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এসব খাদ্যবস্তু নিয়মিত গ্রহণ করলে ওজনাধিক্য ঘটে থাকে মানে শারীরিক ওজন বৃদ্ধি পেয়ে ব্যক্তি মোটাসোঁটা হয়ে যায়, শরীরে অধিক চর্বি জমা হয়েও মানুষ মোটাসোঁটা হয়ে যেতে পারে। শারীরিক ওজন বৃদ্ধির ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের মধ্যে অনেকেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ডায়াবেটিস উচ্চরক্তচাপের একটি প্রধান কারণ। খাদ্য গ্রহণে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া। পোলাও, কোরমা, কাবাব, বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, তেহারি, মোরগ পোলাও, জর্দা, মাংসের রেজালা, ভুনা মাংস, ঘি, দই, মিষ্টি, ছানা, মাখনের তৈরি খাবার গ্রহণের ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তবে এসব খাবার পরিমিত মাত্রার চেয়ে বেশি গ্রহণ করলে বা খেলে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অস্বস্তি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তে সুগার বৃদ্ধি এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তাই ডায়াবেটিস হৃদরোগীরা ও উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ আচার অনুষ্ঠানে কদাচিৎ পরিমিত মাত্রায় এসব খাদ্যবস্তু খেতে পারবেন। পরিমিত মাত্রায় রিচফুড খেলে তাত্ক্ষণিকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। তবে অতিভোজন রক্তচাপ বৃদ্ধি করবে।   ঈদে রিচফুড খাওয়া ঈদের আনুষ্ঠানিকতারই একটি অংশ বটে। যারা উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে, ঈদে এক-দুই বেলায় পরিমিত মাত্রায় রিচফুড খেতে পারবেন। এতে রক্তচাপ বৃদ্ধির খুব বেশি সুযোগ নেই। তবে অত্যধিক লবণযুক্ত খাবার যেমন লবণযুক্ত পনির, চাটনি, জাঙ্কফুড ইত্যাদি খাদ্য বেশি খেলে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। বলে রাখা ভালো যে, যারা উচ্চরক্তচাপে ভুগছেন তারা রিচফুডের চেয়ে অতিমাত্রায় লবণযুক্ত খাবার পরিহার করবেন, অতি ভোজন পরিহার করবেন। যারা নিয়মিত উচ্চরক্তচাপের মেডিসিন গ্রহণ করছেন তারা

ঈদের সময়ে ভুলেও ওইসব মেডিসিন গ্রহণ করতে ভুল করবেন না।

লেখক : সিনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow