Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৩
ব্রণ : টিনএজারদের সমস্যা
ব্রণ : টিনএজারদের সমস্যা

ব্রণ টিনএজারদের সাধারণ সমস্যা। ত্বকের ভিতর অবস্থিত সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামক এক প্রকার তৈলাক্ত পদার্থ বের হয় এবং লোমকূপের গোড়া দিয়ে ত্বকে এসে পৌঁছে।

সেবাম উত্পাদন বেড়ে গেলে এবং এর নির্গমনের পথ বন্ধ হলে ব্রণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। প্রোপাইনো ব্যাকটেরিয়াম হচ্ছে ব্রণের জীবাণুর নাম। এন্ড্রোজেন হরমোনের কারণে ব্রণ বেশি হয়। এন্ড্রোজেনের প্রভাবে সেবাম নিঃসরণ বেড়ে যায়। টিনএজারদের শরীরে এই হরমোনের কার্যকারিতা বেশি হয়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও মাথায় খুশকি আছে তাদের ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। কিছু ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িও ব্রণের তীব্রতা বাড়ায়। ব্রণ দেখতে বিভিন্ন রকম হতে পারে। গুটি গুটি, দানাদার, লালচে গোটা, পুঁজসহ দানা, বড় চাকা ইত্যাদি হতে পারে। ব্রণের চিকিৎসা না হলে কালো দাগ পড়তে পারে। এ ছাড়া মুখে ছোট ছোট ক্ষত বা গর্ত সৃষ্টি হতে পারে। সৌন্দর্যহানি ও মানসিক নানা ভোগান্তির শিকার হয় ব্রণের রোগীরা। ব্রণের হাত থেকে রেহাই পেতে চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। ব্রণের চিকিৎসা অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে ব্রণের চিকিৎসা নিলে ব্রণ ভালো হবে। তবে এরপরে আর কখনো ব্রণ উঠবে না এমন বলা যায় না। মুখ পরিষ্কার রাখা বা ত্বক সঠিক নিয়মে পরিষ্কার করা ব্রণের রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। সঠিক সাবান দিয়ে দিনে দু’তিনবার মুখ ধুতে হবে। ব্রণের কালো দাগের রয়েছে আলাদা চিকিৎসা। ব্রণের চিকিৎসার পাশাপাশি আগের ব্রণের কালো দাগ নির্মূলের জন্যও চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। ব্রণ হলে হাত দিয়ে খুঁটবেন না। মাতৃত্বকালীন অনেকের ব্রণ হয়। যারা অতিরিক্ত কসমেটিকস বা কম দামি কসমেটিকস ব্যবহার করেন তাদের ত্বকও ব্রণে আক্রান্ত হতে পারে। ব্রণ থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় মুখকে তৈলাক্তমুক্ত রাখা। পানি পান সুস্থতা নিশ্চিত করে। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে আপনার ত্বকে ব্রণের প্রকোপ কমবে। ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি তৈলাক্ত ও চর্বিজাতীয় খাবার কম খাবেন, এর পরিবর্তে মৌসুমি ফল ও শাক-সবজি বেশি করে খাবেন।

অনিদ্রা ও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রভাব আমাদের শরীরেও পড়ে। এ সময় মুখে ব্রণ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই রাত জেগে থাকা বা অনিয়মিত লাইফ স্টাইল ও খাবার দাবার পরিহার করতে হবে।

ডা. দিদারুল আহসান, ত্বক বিশেষজ্ঞ, আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow