Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৮
কোরবানি ঈদের ডাইনিং টেবিল
চর্বি-ঘিয়ের মিলনমেলা
ডা. সজল আশফাক
চর্বি-ঘিয়ের মিলনমেলা

কোলেস্টেরল এবং কোরবানির ঈদ। এ দুয়ের মাঝে একটা নীরব সম্পর্ক রয়েছে। কোরবানি মানেই খাবার দাবারের ক্ষেত্রে বাড়তি চর্বির উপস্থিতি। লালমাংস, পোলাও এবং চর্বি-ঘি এর মিলনমেলা হচ্ছে কোরবানি ঈদের ডাইনিং টেবিল। শুধু কোরবানিই নয়, যে কোনো নিমন্ত্রণের ভোজনপর্বেও একই দৃশ্য চোখে পড়বে। তাই যেকোনো নিমন্ত্রণ মানেই চর্বিযুক্ত খাবারের বিপুল সমাহার। খাওয়ার পর এই চর্বি বাসা বাঁধে মানুষের রক্তে, বেড়ে যায় রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা। কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি থাকা মানেই রক্তে শত্রুর সঙ্গে বসবাস। রক্তের বাড়তি কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশিকে নির্জীব মৃতাবস্থায় নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। আর এ কারণেই কোরবানির ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কাছে কোলেস্টেরল একটি ভীতিকর উপাদান। বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছানোর পর রক্তের কোলেস্টেরল মাত্রা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ কোলেস্টেরল নীরবে আপনার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। মানুষের শরীরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী দুটি অঙ্গের অসুস্থতার জন্যই কোলেস্টেরলকে দায়ী করা যায়। হৃৎপিণ্ডের হার্ট অ্যাটাক এবং মস্তিষ্কের স্ট্রোক এ দুয়ের জন্য অনেক সময়েই কোলেস্টেরলকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়েই অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ কেউ রক্তে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ২০০ মি. গ্রা/ ডিএল থাকলেই সেটাকে নিরাপদ বলে মনে করেন। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ মি. গ্রা/ ডিএল বা তার নিচে হলে তাকে নিরাপদ মাত্রা বলা যায়। সাধারণতভাবে নিরাপদ মাত্রার কোলেস্টেরল থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক দেখা যায় না। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-২০০ থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কোলেস্টেরল মাত্রা ৩০০ এর চেয়ে দ্বিগুণ বেশি হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ১৬ বছর মেয়াদি আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে যেসব লোকের কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০-২০০ এর মধ্যে তাদের প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই কোলেস্টেরল নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়াটাই আসল কাজ। সেই সঙ্গে কোলেস্টেরল মাত্রা কমানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা ১৫০ এর বেশি হলেই ধমনীর অভ্যন্তরীণ দেয়ালে তা জমতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে পুঞ্জীভূত হয়ে প্লাক বা পিণ্ডের মতো হয়ে সেখানে লেগে থাকে। ফলে রক্ত প্রবাহের পথ সংকীর্ণ হয়ে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। এভাবে রক্তনালি বিশেষ করে ধমনীর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা হৃৎপিণ্ডে ঘটলেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। কোলেস্টেরল মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনাকে সিঁড়ির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ থেকে যত উপরে উঠবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তত বেশি বাড়বে। কিন্তু কোলেস্টেরল মাত্রার এ র্ঊর্ধ্বগতিকে রোধ করা সম্ভব বা কমিয়ে আনাও সম্ভব। শুধু টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা সম্পর্কে ধারণা নিলেই চলবে না সেই সঙ্গে সার্বিক কোলেস্টেরল সম্পর্কেও ধারণা রাখতে হবে। তবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে হলে টোটাল কোলেস্টেরল মাত্রা ১৫০ এর নিচে রাখতে হবে। তাই ঈদের খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ করে কোলেস্টেরেল নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow