Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:৪৩
ব্যথা হলো অসুখের সংকেত
ব্যথা হলো অসুখের সংকেত

আমাদের শরীরে কোনো কারণে প্রদাহ সৃষ্টি হলে ব্যথা হয়। ব্যথা একটি জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া যা শরীর থেকে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সিগনাল পৌঁছে দেয় যা আমরা অনুভব করতে পারি। শরীরে প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হরমোন বিদ্যমান যা ছোটখাটো ব্যথাকে আমাদের মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছতে দেয় না। অর্থাৎ যে ব্যথা আমরা অনুভব করি তা অতি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ব্যথানাশকের কাজ হলো স্নায়ুকে ব্লক করে দিয়ে ব্যথার অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছতে না দেওয়া। তাই ব্যথানাশক সেবন ব্যথার প্রকৃত কারণকে আড়াল করতে পারে।

ব্যথার কারণ নির্ণয় : প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যথার কারণ নির্ণয় করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো যায়। যেমন ধরুন কোমর ব্যথা। আমাদের বেশির ভাগ তীব্র কোমর ব্যথা রোগীই রোগ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, কোমরে তীব্র ব্যথা হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই হালকা ব্যথা অনুভূত হতো যা তিনি ব্যথানাশক সেবন করে দমিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু এখন আর ব্যথানাশকে কাজ হচ্ছে না। এসব ক্ষেত্রে এমআরআই  করে দেখা যায় রোগীটি জটিল ধরনের ডিস্ক প্রলাপ্স বা পিএলআইডিতে আক্রান্ত। অর্থাৎ দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ডিস্কটি বের হয়ে স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করার আগে বারবার ব্যথা তৈরি করে শরীরকে সংকেত দিয়েছে। এক্ষেত্রে রোগী ব্যথানাশক সেবন করে দমিয়ে না দিলে হয়তো প্রলাপ্স প্রতিহত করা যেত।

ব্যথানাশকের বিকল্প কি : ব্যথার কারণ নির্ণয় হলো ব্যথার চিকিৎসার মূল স্তম্ভ। কারণ নির্ণয় করতে পারলে নানা ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায় যে, ব্যথাকে অবহেলা না করে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে।

ডা. মোহাম্মদ আলী

বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow