Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:৪৪
অ্যালার্জি ও ভ্যাকসিনের সম্পর্ক
অ্যালার্জি ও ভ্যাকসিনের সম্পর্ক

বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি লোক শ্বাসনালির সচরাচর সমস্যা-অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়। তাদের ৯০% এরও বেশি অত্যাধুনিক চিকিৎসা পায় না এবং অনেক

রোগী মারা যায়।

অথচ অ্যাজমার দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা নিলে যে কোনো রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : অ্যালার্জি দ্রব্যাদি এড়িয়ে চলা ও ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিনও অ্যাজমা রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। অ্যালার্জি ভ্যাকসিনের মূল উদ্দেশ্য হলো যে অ্যালারজেন দ্বারা অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা হচ্ছে সেই অ্যালারজেন স্বল্পমাত্রায় প্রয়োগ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে ওই অ্যালারজেন দ্বারা রোগী শ্বাসকষ্টে বা অ্যাজমাতে যেন আক্রান্ত না হয়।

কীভাবে কাজ করে : ১. রক্তের আইজিই (যা অ্যালার্জির জন্য মূলত দায়ী) তাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। ২. রক্তে আইজিজি এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা অ্যালার্জি প্রতিরোধ করে। ৩. মাস্ট সেল, হিস্টামিন নিঃসরণ কমায়।

কোন বয়সে : কোনো কোনো ইমুনোথেরাপিস্ট মনে করেন ১-২ বছর বয়স থেকেই এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। তবে মাইট অ্যালার্জির ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের নিচের বাচ্চাদের ইমুনোথেরাপির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইমুনোথেরাপি সফলতা প্রমাণিত, তবে অল্প বয়সে ইমুনোথেরাপি রোগ মুক্তির ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান নিয়ামক। যেসব অ্যালারজেন অ্যালার্জি রোগের কারণ তা নিরূপণ পরবর্তী সময়ে ইমুনোথেরাপির জন্য নির্ধারণ করা হয়। ইমুনোথেরাপি শুরুর আগে মারাত্মকভাবে রোগাক্রান্ত

রোগীদের ওষুধ ব্যবহারে স্বাভাবিক অবস্থায় আনার পরই ইমুনোথেরাপি শুরু করা সম্ভব।

ভ্যাকসিন চিকিৎসার সুবিধা :

১. ইমুনোথেরাপি ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহকে কমানোর চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হওয়ার পথকে বাধার সৃষ্টি করে। ২. অ্যালার্জিজনিত রোগ থেকে জটিল রোগ হওয়ার পথকে বাধা দেয় অর্থাৎ যেসব রোগী অ্যালার্জিজনিত সর্দিতে ভোগেন, তাদের যাতে অ্যাজমা না হয়, সেই পথকে বন্ধ করে। ৩. প্রাথমিক অবস্থায় রোগের অতিসংবেদনশীলতা কম থাকায় ইমুনোথেরাপি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও কম থাকে। আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রতিকার নয় প্রতিরোধ উত্তম। তাই প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা নিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস, দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার, ঢাকা। ফোন : ০১৭২১৮৬৮৬০৬

এই পাতার আরো খবর
up-arrow