Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:২৯
সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা
সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সেবা

১৯৯২ সাল থেকে ১৫০টি দেশের সমন্বয়ে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেল্্থ- এর উদ্যোগে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

এবারের প্রতিপাদ্য: ‘মানসিক স্বাস্থ্যে মর্যাদাবোধ-সবার জন্য প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা’।

প্রথম ধাপে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা দরকার কেন— কারণ রোগীদের ভোগান্তি শুরু হয় প্রথম ধাপ থেকেই যাকে আমরা বলি ফার্স্ট কন্টাক্ট। ফার্স্ট কন্টাক্ট হতে পারে কবিরাজ ও লোকাল পরামর্শদাতা। এছাড়া জিন-ভূতের আসর ও আলগা দোষে আক্রান্ত হয়েছে মনে করে হিস্টেরিয়া রোগীর অভিভাবকরা ‘লোকাল হিলার’-এর কাছে শরণাপন্ন হচ্ছে। গ্রামে-গঞ্জে ও শহরে সর্বত্র অজস্র ফকির, কবিরাজ, তাবিজ-কবজওয়ালাদের দৌরাত্ম্য যেহেতু বেশি গার্জেনরা তাদের কাছেই প্রথমে ধর্ণা দেয়। আর এ সুযোগে রোগের ভুল ব্যাখ্যা শুনে আত্মীয়-স্বজনরা মুগ্ধ হয়ে যায়। আর সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। প্যানিক ডিজঅর্ডার, শুচিবায়ু ও গুরুতর অ্যাংজাইটি রোগীরা বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্ণা দিচ্ছে আর দিনের পর দিন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা (ইসিজি, ইকো) করে চিকিত্সার ফাইল বড় করছে। এর ফলে রোগীদের মাথায় বড় অসুখের আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। ফলে প্যানিক ডিজঅর্ডার রোগী আরও প্যানিক হচ্ছে। এভাবে রোগীরা সঠিক চিকিত্সার আড়ালে থেকেই যাচ্ছে। অথচ রোগীরা সেবা চায়, ভালো হতে চায়, সঠিক চিকিত্সা নিতে চায়, কিন্তু সমস্যা হলো সার্ভিস ডেলিভারি সিস্টেমের মধ্যে। তাই ফার্স্ট কন্টাক্ট পার্সন- এর ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

তাই রোগীকে নিজের আত্মীয়ের মতো ভাবা, রোগীর কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করা, যদিও মনে হয় খুব ক্ষুদ্র বিষয় কিন্তু এর প্রভাব হতে পারে অনেক বড়।

ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন

সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow