Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:২৭
জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়
ডা. নুসরাত জাহান
জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধে করণীয়

পিআইডি (পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ) হচ্ছে জরায়ু এবং ডিম্বনালিতে জীবাণুর সংক্রমণ। মাঝে মাঝে এটি ডিম্বাশয়কেও আক্রান্ত করতে পারে। পিআইডির একটি কমন কারণ হচ্ছে  Chlamydia and gonorrhoea নামক জীবাণুর সংক্রমণ। এ ছাড়া অন্যান্য কিছু জীবাণুও এ রোগের কারণ হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যৌনবাহিত রোগের মাধ্যমে এ জীবাণুর প্রবেশ ঘটে। এ ছাড়াও গর্ভপাত, জরায়ুর কোনো অপারেশন, অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক  ইত্যাদির মাধ্যমে জীবাণুর প্রবেশ ঘটতে পারে। কিছু লক্ষণ দেখে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্তদের শনাক্ত করা যায়। এ রোগের কিছু পরিচিত লক্ষণ হলো :

 

তলপেটে ব্যথা, জ্বর এবং এবনরমাল স্রাব ,   

মাসিকের অনিয়মিত হওয়া, এ সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পেটে ব্যথা, সহবাসে ব্যথা অনুভূত হওয়া। এ লক্ষণগুলোর তীব্রতা কম বা বেশি হতে পারে। এমনকি অনেক সময় কোনো ধরনের লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও আপনি এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কারণ এ রোগের জীবাণুগুলো অনেকসময় কোনো ধরনের লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই জরায়ুর মুখে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। এ রোগ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষার দরকার হয়। জরায়ুর মুখ বা মূত্রনালি থেকে ডিসচার্জ নিয়ে পরীক্ষা করে জীবাণুর উপস্থিতি নির্ণয় করা যেতে পারে। এ ছাড়া সংক্রমণের লক্ষণ বোঝার জন্য রক্ত, ইউরিন পরীক্ষা ও পেটের আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপারস্কপি পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং  চিকিৎসাও সম্ভব। 

এর চিকিৎসা কি : প্রাথমিক অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেইন কিলার দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় খেতে হবে। একই সঙ্গে হাজব্যান্ড বা পার্টনারের চিকিৎসাও জরুরি। অন্যথায় বার বার জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যায়।

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সার্জারি করার দরকার হতে পারে। যেমন, ডিম্বনালি সংক্রমিত হয়ে পুঁজের সৃষ্টি হলে এবং বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায়। এ ছাড়া যাদের বয়স বেশি তাদের ক্ষেত্রে লক্ষণের তীব্রতা কমানোর জন্য ডিম্বনালি এবং জরায়ু সার্জারি করে অপসারণ করা হয়। এর চিকিৎসা সময়মতো না করালে কিছু দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এগুলো হচ্ছে— দীর্ঘদিন ধরে তলপেট ব্যথা,  মাজা ব্যথা, ডিম্বনালির পথ বন্ধ হয়ে বা জরায়ু এবং এর আশপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক অবস্থান নষ্ট হয়ে সন্তান ধারণে অক্ষমতা বা বন্ধ্যত্বের কারণ হয়, ডিম্বনালির পথ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটোপিক প্রেগনেন্সি (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ) হতে পারে,  প্রজননতন্ত্র সংক্রমণের যথাযথ চিকিৎসা না নিলে গর্ভপাত, সময়ের

আগে বাচ্চা প্রসব এবং কম ওজনের বাচ্চা জন্মদানের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

কিভাবে প্রতিরোধ সম্ভব : এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য সমস্যা। সচেতনতা আপনাকে এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক এবং জীবাণুর সংক্রমণ থেকে জরায়ুকে রক্ষা করে। যত্রতত্র এমআর (গর্ভপাত) করানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এমআর বা ডিএন্ডসি করার দরকার হলে রেজিস্টার্ড ডাক্তার দিয়ে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে করতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতার হার অনেকাংশে কমে। 

লেখক : সহকারী আধ্যাপক, (অবস-গাইনি), ডেলটা মেডিকেল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow