Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৭
শরীরে পানি ও হৃদরোগের সম্পর্ক
শরীরে পানি ও হৃদরোগের সম্পর্ক

বাংলাদেশসহ বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগকেই মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই প্রত্যেক সচেতন নাগরিককেই হৃদরোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ও মৌলিক ধারণা অর্জন করা উচিত। বুকে ব্যথা অনুভব করা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, শরীর-হাত-পা-মুখ ফুলে যাওয়া বা পানি আসা, অল্প পরিশ্রমে ক্লান্ত বোধ করা ইত্যাদিই হচ্ছে হৃদরোগের অন্যতম লক্ষণ।

শ্বাসকষ্ট হওয়া : অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া বা বুক ধড়ফড় করা হৃদরোগের লক্ষণ। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শুকনো কাশি থাকতে পারে। বিছানায় শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট ও কাশি হওয়া, মধ্যরাতে শ্বাসকষ্টের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের সাঙ্গে বুকের ভিতর চাপ অনুভব  করা। পরিশ্রমকালীন  শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং বিশ্রাম গ্রহণ করলে তা কমে যাওয়া। শয়ন অবস্থায় শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং উঠে বসে গেলে শ্বাসকষ্ট কমে যাওয়া হৃদরোগজনিত শ্বাসকষ্টের ধরন। এসব শ্বাসকষ্ট হলে বুঝতে হবে হৃদরোগের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে ।

বুকের ব্যথা : হৃদরোগজনিত বুকের ব্যথা সাধারণত তীব্র ধরনের হয়ে থাকে। পরিশ্রমকালীন সময়ে ব্যথা শুরু হয়, বিশ্রাম গ্রহণ করলে খুব অল্প ব্যথা নিরাময় হয়ে যায়— এ ধরনের বুকের ব্যথার সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হয়ে যাওয়ার মতো উপক্রম থাকতে পারে। ব্যথা বুকের চারপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে যেমন- গলা-চোয়াল-বাহু-হাত-পেটের উপরিভাগে। বুকের তীব্র ব্যথার সঙ্গে শরীর অত্যধিক ঘেমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া ইত্যাদি হার্টঅ্যাটাকের লক্ষণ।

বুক ধড়ফড় করা : আমরা সাধারণত হার্ট বিট বা হৃদস্পন্দন অনুভব করি না। আমাদের অজান্তেই প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার আমাদের হার্ট বিট দিচ্ছে কিন্তু যদি কখনো আমরা বুকের হার্ট বিট অনুভব করি, এ অবস্থায় হার্ট বিট বুঝতে পারাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্যালপিটিশন বা বুক ধড়ফড় করা বলা হয়। প্যালপিটিশনের সঙ্গে হৃদরোগের অন্যান্য লক্ষণ  একসঙ্গে থাকতে পারে।

শরীরে পানি আসা : হাত-পা, মুখ ও সারা শরীর পানিতে ফুলে যাওয়া হৃদরোগের একটি প্রধান লক্ষণ। তবে অন্য কারণেও এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন- লিভার ফেইলুর, কিডনি ফেইলুর, খুব বেশি রক্তশূন্যতা, গর্ভকালীন সময়ে, অপুষ্টিজনিত কারণে, থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখে এবং কখনো কখনো বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এ  উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে শরীরে পানি আসার অন্যতম কারণই হচ্ছে হৃদরোগ। এ অবস্থায় রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, প্রস্রাব গাঢ় রং ধারণ করে। গুরুতর অবস্থায় রোগীর পেট অনেক বেশি ফুলে যায় এবং এর সঙ্গে রোগীর শ্বাসকষ্ট, অস্থিরতা, বিছানায় শুতে যাওয়ার অপারগতা এবং অনিদ্রা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। উপরের উপসর্গগুলোর মধ্যে যত অধিক সংখ্যক উপসর্গ একসঙ্গে কারও শরীরে পরিলক্ষিত হয় তার হৃদরোগ তত বেশি মারাত্মক হিসেবে গণ্য করতে হবে।

ডা. এম. শমশের আলী, সি. কনসালট্যান্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা। ফোন : ০১৯২০৫৮১১৯১।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow