Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০
পেশাগত কারণেও বক্ষব্যাধি
অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ
পেশাগত কারণেও বক্ষব্যাধি

পেশাগত কারণে বক্ষব্যাধি দুনিয়াজুড়েই রয়েছে। আমাদের দেশের তুলনায় পশ্চিমা উন্নত বিশ্বে এ সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছিল।

ফলে সেসব দেশে প্রচুর শ্রমঘণ্টার অপচয় হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই জাপানের মিল ফ্ল্যাক্টরিতে চাকরিরত শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক যক্ষ্মা রোগ দেখা দেয়। কারণ ছিল অপরিচ্ছন্ন, নোংরা পরিবেশ। বাংলাদেশ এখন একটি উন্নয়নগামী দেশ। জায়গায় জায়গায় মিল-কারখানা তৈরি হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কোনো কোনো মিল-কারখানার অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠছে না। কিছু কিছু অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা অনেক মিল-কারখানায়ই স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই। ফলে তৈরি হচ্ছে বহু ধরনের বক্ষব্যাধি। পূর্বে লিখেছি, পেশাগত কারণে বক্ষব্যাধি পাশ্চাত্য দুনিয়ায় বেশি হতো। শত সহস্র মিল-কারখানা সেসব দেশে গড়ে উঠেছে। তবে সেখানে এখন পেশাগত কারণে বক্ষব্যাধি রোধে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পেশায় বিভিন্ন ধরনের বক্ষব্যাধি দেখা দিতে পারে। যারা পাখির ব্যবসা করেন কিংবা প্রচুরসংখ্যক পাখি পালনে তাদের ‘বার্ড ফেনসিয়ার্স লাঙ্গ’ নামক বক্ষরোগ দেখা দিতে পারে। শস্য কাটার মৌসুমে ভেজা ধান থেকেও এক ধরনের বক্ষব্যাধি দেখা দিতে পারে যেখানে জ্বর, শরীর মেজমেজ করা, শুকনো কাশি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু পেশা আছে যেখানে ধূলিকণা, ফিউম এবং ঝাঁজাল পদার্থ নাকে ঢুকে ফুসফুসে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। সাধারণত অনেকদিন ধরে মিল-কারখানার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা ফুসফুসে জমতে জমতে সেখানে ফাইব্রোসিস তৈরি হয়। কয়লা খনিতে যারা কাজ করেন অথবা কয়লা নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের ‘কোল ওয়ার্কার নিউমোকোনিওসিস’ নামক বক্ষব্যাধির সৃষ্টি হতে পারে। এ রোগে ভুগতে থাকলে ফুসফুসের প্রভূত ক্ষতি হয়। রোগীর কফ-কাশি এবং ক্রামগত শ্বাসকষ্ট লেগেই থাকে। সিলিকা নিয়ে যারা কাজ করেন সিলিকোসিস হয়ে তারা এক ধরনের বক্ষরোগে আক্রান্ত হন। সিলিকোসিস হলে তার সঙ্গে যক্ষ্মাও দেখা দিতে পারে। পেশাগত দিক দিয়ে যারা এসবেসটাস নিয়ে কাজ করেন তাদের ভয় সবচেয়ে বেশি। কারণ এসবেসটাস শ্বাসনালির এবং ফুসফুসের পর্দা বা প্লুরাতে ক্যান্সারের জন্ম দিতে পারে। তুলার মিলে, সার কারখানায়, রঙের কারখানায় কর্মরত অনেক শ্রমিকের শ্বাসকষ্ট হতে হতে পারে। তুলার মিলে দেখা যায় তুলার তন্তুগুলো মাসের পর মাস ধরে ফুসফুসে ঢুকে বক্ষব্যাধির জন্ম দেয়। উগ্র ঝাঁজাল রঙের কিংবা স্পিরিটের কারখানায়ও একই অবস্থা। যে দেশ যত ধনী সে দেশে অজস্র লাভজনক মিল-কারখানা গড়ে উঠেছে। আমাদের দেশেও মিল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু সেটা হতে হবে পরিকল্পিত এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে। প্রতিটি মিলে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। শ্রমিকদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেই প্রয়োজনবোধে ঢ-ত্ধু এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে যে তার পেশাগত কারণে বক্ষব্যাধি দেখা দিয়েছে কিনা! যদি দেখা যায় যে, তার শ্বাসকষ্টের কারণই হলো এই পেশা তাহলে তার পেশার ধরন পরিবর্তন করতে হবে। পেশাগত কারণে অনেক সময় হাঁপানি হতে দেখা যায়। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহূত নানারকম রাসায়নিক পদার্থ হাঁপানির সৃষ্টি করতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি আমাদের দেশে ধান, পাট, কাপড়, ‘স’ মিল বা সার কারখানায় ধুলার ফলে হাঁপানি হয়। এসব ক্ষেত্রে কর্মস্থলে রোগী গেলে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। ছুটির দিনে অথবা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে তার শ্বাসকষ্ট কম থাকে। কিন্তু এভাবে তো মূল্যবান শ্রমঘণ্টা নষ্ট করা যায় না। পেশাগত কারণে বক্ষব্যাধি যাতে না হয় সে দিকটার দিকে খেয়াল করতে হবে বেশি। আরেকটি মূল্যবান দিক হলো মিল-কারখনায় কর্মরত শ্রমিকদের ধূমপানে নিবৃত এবং নিরুৎসাহিত করতে হবে। ধূমপান করতে করতে শ্রমিক ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় বেশি। তাই পেশাগত বক্ষ্যব্যাধি নিয়ে ্আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

লেখক : চিফ কন্সালটেন্ট, ইকবাল চেস্ট সেন্টার, মগবাজার, ঢাকা। ফোন : ০১৭৪৫৯১৯৬৬৪

এই পাতার আরো খবর
up-arrow