Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২২
আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম
আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস
bd-pratidin

পৃথিবীতে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে অর্থাৎ প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে চিরবিদায় নেয়। বাংলাদেশের আত্মহত্যার চিত্র ও ভয়াবহ। প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আত্মহত্যা মানেই একটি সম্ভাবনার অকাল মৃত্যু। একটি সুন্দর জীবনের করুণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি আত্মহত্যা। তাই আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হবে। আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমেই জানতে হবে সতর্কীকরণ চিহ্ন/লক্ষণ। প্রতিটি ব্যক্তি আত্মহত্যা করার আগে কম-বেশি জানান দেয় বা এমন কিছু করে যা থেকে বোঝা যায় তার মধ্যে আত্মহননের প্রস্তুতি চলছে। এসব লক্ষণ যদি আমরা আগেই শনাক্ত করতে পারি তবে সঠিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়ে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির মধ্যে লক্ষ্য করলে নিম্নের কোনো না কোনো চিন্তার পরিবর্তন, আচরণগত পরিবর্তন দেখতে পাব। যেমন—

চিন্তার পরিবর্তন: নিজেকে অন্যের গলগ্রহ বা অন্যের ওপর বোঝা মনে করা * পৃথিবীতে নিজের প্রয়োজন নেই বা প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে এমন ভাবা * অসহনীয় এবং দুর্বিষহ জীবন বোধ।

আচরণগত পরিবর্তন : নিজেকে হঠাৎ সবার কাছ থেকে গুটিয়ে নেওয়া * হঠাৎ করে নিজের আগলীয়ে রাখা, জমিয়ে রাখা সম্পদ, টাকা পয়সা, দলিলপত্র, গয়নাগাটি অন্যদের বুঝিয়ে দেওয়া * স্বাভাবিক কাজ থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।

আবেগগত পরিবর্তন : হতাশা * উদ্যম ও স্পৃহা না থাকা * রাগারাগি করা * নিজেকে হীন ভাবা * নিজেকে অপদার্থ এবং অকাজের ভাবা। ৪. এছাড়াও আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির ইতিহাস পর্যালোচনা করে নিম্নের। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে— আত্মহত্যা করব বা নিজের জীবন বিসর্জন দেব এমন কথা বলতে পারে। * আত্মহত্যা নোট * আত্মহত্যায় ব্যবহার হয় এমন বস্তু যেমন- দড়ি, বিষ, ওষুধ, আগ্নেয়াস্ত্র খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। * আগে আত্মহত্যার জন্য চেষ্টা করেছিল। * আত্মহত্যার পারিবারিক ইতিহাস আছে। * গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছে- ডিপ্রেসন, সিজোফ্রেনিয়া, ব্যক্তিত্ব সমস্যা, মাদকাসক্তি, * ব্যক্তিগত সংকট, পিতা-মাতা বা নিকটাত্নীয়ের মৃত্যু, চাকরি হারানো, অভাব-অনটন, ক্যান্সার বা অন্যান্য জটিল শারীরিক ব্যাধি ইত্যাদি। বর্ণনা থেকে আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই এসব বিষয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক ও উপদেষ্টা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ ও সিএমএইচ ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow