৯৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩৯২ জন পুরস্কৃত|298895|Bangladesh Pratidin
logo
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:২৮
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড় কর্মসূচি
৯৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩৯২ জন পুরস্কৃত
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

৯৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩৯২ জন পুরস্কৃত

চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজন ও গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় এবারের বই পড়া কর্মসূচিতে ৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৩৯২ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। দুই দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসবে তিনটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার সকালে প্রথম পর্বের পুরস্কার বিতরণী উৎসবে ৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় পর্বে ৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ২৫৫ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়।
শনিবার বিকাল ৩টায় ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হবে।
শুক্রবার সকালে নগরের মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরীর স্কুল পর্যায়ের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি আবুল মোমেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. মোহিত-উল-আলম, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) দীপক চক্রবর্ত্তী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো, গোলাম ফারুক, এভারেস্ট বিজয়ী বাংলাদেশি এম. এ মুহিত, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক জনাব সুফী মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাহেদুল কবির চৌধুরী, গ্রামীণফোনের হেড অব রিজিওনাল অপারেশানস টেকনোলজি মো. ফিরোজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরের সংগঠক অধ্যাপক আলেক্স আলীম, চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সুমি খান প্রমূখ।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মানুষ দুই রকম। বড় মানুষ আর ছোট মানুষ। এই বড় মানুষই হচ্ছে আলোকিত মানুষ। তোমাদের জীবনকে ভাল ভাল উন্নত জিনিস দিয়ে ভরিয়ে তোলো। বড় হচ্ছে সেই রকম একটা জিনিস, যাতে আলো আছে। আর আলো আসে বই থেকে। তাই ছাত্রছাত্রীদের বেশি বেশি বই পড়তে হবে।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর সাবেক ভিসি ড. মোহিত-উল-আলম পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের ছেলেমেয়ের শিশু মনের সুপ্ত বাসনাগুলো বিকাশিত হওয়ার সুযোগ করে দিন।’

আবুল মোমেন বলেন, ‘একাডেমিক বইয়ের সাথে সাথে বাইরের বইগুলোও বেশি বেশি করে পড়বে। এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের মানবিক হতে সহযোগিতা করবে। কারণ জিপিএ-৫ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রকৃত জ্ঞানী তৈরি হয় না।’

এভারেস্ট বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশি এম.এ মুহিত বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই একটা এভারেস্ট রয়েছে। এই এভারেস্টটা হল তার স্বপ্ন। তোমরা স্বপ্ন দেখ এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থাকো। দেখবা, প্রত্যেকেই যার যার এভারেস্টে উঠতে পারছো।’

গ্রামীণফোনের হেড অব রিজিওনাল অপারেশানস টেকনোলজি মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, তোমরা বেশি বেশি করে বই পড়বে। বিল গেটস ও মার্ক জুকারবাগের পড়া সেরা বইয়ের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। অনলাইনে বইপড়া প্রসঙ্গে জানান, http://www.alorpathshala.org ওয়েবসাইটে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই অনলাইনে পড়ার সুযোগ আছে, যা ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্ম-পরিচালক (প্রোগ্রাম) মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন