Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৯
ডিগ্রি নেই তারপরও ডাক এলো নাসার
ইনফোটেক ডেস্ক
ডিগ্রি নেই তারপরও ডাক এলো নাসার

মার্কশিটে একশতে একশ পাননি কোনো দিনই। প্রথাগত শিক্ষা বলতে যা বোঝায়, তার তাও নেই। কলেজের গণ্ডি পেরোনোর সার্টিফিকেট হাতে নেই বলে নাসা তাকে মোটা বেতনও দেয় না। উপার্জন অল্প, তাই খুব মেপে চলতে হয়। এই ৭৯ বছর বয়সেও ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরিতে (জেপিএল) এখনো তাকে প্রতিদিন আসতে হয়। আট ঘণ্টার ডিউটি, আধা ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক। জেপিল-এ আসা আর বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই নাসার দেওয়া আইডেনটিটি কার্ডটা তাকে ‘ইন’ আর ‘আউট’ পাঞ্চ করতে হয়। না হলে এই ৭৯ বছর বয়সেও বেতন কাটা যাবে। তিনি সুসান ফিনলে। এই সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে বিপজ্জনক গ্রহ বৃহস্পতিকে জয় করার জন্য যার মুখাপেক্ষী হয়েছে নাসা। সম্প্রতি বৃহস্পতির কক্ষপথে ঢুকে পড়ে মহাকাশযান জুনো। প্রথম যে সিগন্যাল বা ‘টোন’টা পাঠিয়েছিল তা দেখা, শোনা ও বোঝার দায়িত্বটা ছিল এই ফিনলের কাঁধেই। নাসার কন্ট্রোল রুম থেকে জুনোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘ভাল আছ তো? ঠিক মতো পৌঁছেছ? ঝামেলা হচ্ছে না তো পথে?’ পৃথিবী থেকে বৃহস্পতির দূরত্বটা তো বড় কম নয়! তাই নাসার পাঠানো বার্তা জুনোর কাছ যেতে আর তা ডিকোড করে জুনোর পাঠানো পাল্টা বার্তা নাসার কাছে পৌঁছতে তো সময় লাগবেই। লেগেও ছিল। উত্তেজনা-উত্কণ্ঠায় যখন সেকেন্ড-মিনিট মাপছে নাসার সবাই, সেই সময়েই, ভোরে জুনোর সিগন্যাল এসে পৌঁছেছিল তাদের কাছে ‘ভালো আছি। ভালোভাবে পৌঁছেছি। পথে দেরি

হয়নি, ঝামেলাও হয়নি কোনো। ’ কিন্তু সেই সিগন্যাল ঠিকঠাক বোঝার মতো দক্ষতা সবার থাকে না। অন্তত নাসার হাতে আপাতত আর কেউই নেই ৭৯ বছর বয়সের এই ফিনলে ছাড়া। তাই ফিনলেকেই দেওয়া হয়েছিল জুনো মিশন তদারকির ভার। ২০০৪-এ মঙ্গলে স্পিরিট এবং অপরচুনিটি এই দুটো রোভার মহাকাশযানের পাঠানো সিগন্যালও ডিকোড করেছিলেন এই ফিনলে। ২০১২ সালে মঙ্গলে কিউরিওসিটি নেমেও ফিনলেকে প্রথম পাঠিয়েছিল প্রথম বার্তাটা। বেঁচে থাকলে ২০২১-এ মঙ্গলে যে আর একটা রোভার মহাকাশযান পাঠাবে নাসা, তারও পৌঁছানোর সংবাদ শোনার দায়িত্বটা পাবে ফিনলে। পাসাডেনার জেপিএল থেকে হোয়াটস্অ্যাপে ফিনলে ভারতের বাংলা গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, ‘নাসার জন্মের আগে থেকেই আমি মহাকাশ গবেষণায় মেতে আছি। ১৯৫৮-এ আমি প্রথম এসেছিলাম জেপিএল-এ। তখনো নাসার জন্মই হয়নি। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সহকারী হিসেবে কাজ করতাম। তারপরেই আমেরিকা মহাকাশে পাঠাল তার প্রথম উপগ্রহ এক্সপ্লোরার-ওয়ান। তার ছ’মাস পর মার্কিন কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত নিল, তৈরি করা হবে নাসা। আমার দুই ছেলেমেয়ে। তাদের দেখতে মাঝে ছ’মাসের জন্য নাসা ছেড়ে গিয়েছিলাম। ফিরে আসি ৬৯-এ। ’ 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow