Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০৮:৪২
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০৯:৩৮
অভ্যুত্থানের মুখে ইস্তানবুলে ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান
অনলাইন ডেস্ক
অভ্যুত্থানের মুখে ইস্তানবুলে ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান
ইস্তানবুলের রাস্তায় অভ্যুত্থান-বিরোধী বিক্ষোভকারী।

সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার মুখে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তায়্যিব এর্দোয়ান ইস্তানবুলে ফিরে এসেছেন। বিমান বন্দরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এর্দোয়ান অভ্যুত্থানকে দেশদ্রোহিতা আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা এর পেছনে ছিলেন তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। এদিকে মোবাইল ফোনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। এরপরই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছে এর্দোয়ান সমর্থকরা।

এর আগে এর্দোয়ানের হাজার হাজার সমর্থকের বিক্ষোভের মুখে সেনা বাহিনীর বিদ্রোহী অংশ ইস্তানবুল বিমান বন্দর থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।

দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, পরিস্থিতি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এবং রাজধানী আনকারার আকাশে বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে সকল পক্ষকে দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন করার জন্য এবং রক্তপাত এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আনকারায় সরকার সমর্থকরা রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম টিআরটি-র নিয়ন্ত্রণ অভ্যূত্থানকারীদের হাত থেকে দখল করে নিয়েছে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট তায়্যিব এর্দোয়ানের সমর্থকরা ইস্তানবুলের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভেতরে অবস্থান নিয়েছে।

বিভিন্ন মসজিদ থেকে ফজরের নামাজের কয়েক ঘণ্টা আগেই আযান দেয়া হয় এবং মানুষকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ জন্য রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে, একটি টেলিভিশন ঘোষণায় তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ দাবি করে, তারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ইস্তানবুলের সঙ্গে দেশের অন্য অংশের ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, এখন থেকে একটি 'পিস কাউন্সিল' দেশ পরিচালনা করবে। দেশে কারফিউ এবং মার্শাল ল' জারি করা হয়েছে।

 

 

মোবাইল ফোনে দেওয়া ভাষণে সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান এর্দোয়ান।

এই ঘটনাকে ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠীর প্রচেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসিপ তায়্যিব এর্দোয়ান। তিনি দেশের জনগণকে এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসার আহবান জানান। তিনি আঙ্কারায় যাচ্ছেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।

তুরস্কের একটি টেলিভিশন বলছে, রাজধানী আঙ্কারায় অভ্যুত্থান চেষ্টার পক্ষের একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে সরকারি ফাইটার বিমান।

এর আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়ালদ্রিম জানিয়েছিলেন, তুরস্কে সেনাবাহিনীর একটি অংশ বেআইনি অভিযান শুরু করেছে। কোন অনুমতি ছাড়াই সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই অভিযান শুরু করেছে। তবে এটা কোন অভ্যুত্থান নয়।

টার্কিশ সরকারে কোন পরিবর্তন হয়নি বলেও তিনি জানান।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গোলাগুলির হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইস্তানবুলের পুলিশ সদর দপ্তর এলাকাতেও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

ইস্তানবুল বিমানবন্দরের বাইরে ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছে।

কারফিউ ঘোষণা করা হলেও, এর্দোয়ানের একদল সমর্থক ইস্তানবুলের তাকসিম স্কোয়ারে জড়ো হয়েছেন। সেখানেও সংঘর্ষ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সবকিছু দেখে এটা একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান বলেই মনে হচ্ছে। কারণ তারা সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়েছে। খুব সহজে এর শেষ হবে বলে মনে হচ্ছে না।

এনটিভি টেলিভিশনকে টেলিফোনে ইয়ালদ্রিম বলছেন, এ ধরণের কোন চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। যারা এজন্য দায়ী, তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
বসফরাস নদীর দুইপাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং ইস্তানবুলের ফেইথ সুলতান মেহমেত ব্রিজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow