Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:০৫
নিউইয়র্কের স্কুলে হালাল খাদ্য দাবি
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে:
নিউইয়র্কের স্কুলে হালাল খাদ্য দাবি
নিউইয়র্ক : সিটি হলের সামনে হালাল খাদ্য দাবিতে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারিরা। ছবি-এনআরবি নিউজ।

ঈদের দিন নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলে ছুটি ঘোষণার পর দাবি উঠেছে স্কুলে মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হালাল খাদ্য সরবরাহের। এ দাবিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সিটি হলের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের বেশ ক'জন সিনেটর, এ্যাসেম্বলীম্যান এবং সিটির কাউন্সিলম্যান।

গত বছর সিটি কাউন্সিলে পাশ হওয়া একটি বিধির বলে দুই ঈদের দিনে সকল পাবলিক স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই বিধি কার্যকর হচ্ছে ১২ সেপ্টেম্বর সোমবার ঈদুল আযহার দিন থেকে। উল্লেখ্য যে, পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্য পরিবেশনের বিধি তৈরির জন্য সর্বপ্রথম দাবি তুলেছেন নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। দুই ঈদের দিন ছুটি ঘোষণার দাবিও তারই ছিল।
 
নিউইয়র্কের সকল পাবলিক স্কুলে সকাল ও দুপুরে খাদ্য পরিবেশন করা হয়। কিন্তু সে খাদ্য ধর্মীয় রীতির পরিপূরক নয় বলে বহুদিন থেকে জুইশ এবং মুসলিম কম্যুনিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। কারণ, এ দুটি সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ওই সব খাদ্য গ্রহণে স্বাচ্ছন্দবোধ করে না। অনাহারে ক্লাস করে অপরাহ্নে বাসায় ফিরতে হয়।

দাবি আদায়ে 'সাউথ এশিয়ান ফান্ড ফর এডুকেশন, স্কলারশিপ এ্যান্ড ট্রেনিং' নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানববন্ধনের আয়োজন করে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান মাজেদা উদ্দিন। 'নো চাইল্ড শুড লিভ লাঞ্চরুম অর এন্টার এ ক্লাসরুম হাঙরি'  (কোন শিশুরই লাঞ্চরুম থেকে না খেয়ে বের হওয়া অথবা ক্ষুধার্ত অবস্থায় ক্লাসে যাওয়া উচিত নয়) শীর্ষক ব্যানার হাতে এ মানববন্ধনে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে অভিভাবকেরাও অংশ নেন। এ সময় মাজেদা উদ্দিন এ সংবাদদাতাকে জানান, স্কুলে জুইশ ও মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে হালাল খাদ্য পরিবেশনের বিধির আলোকে ইতোমধ্যে অঙ্গরাজ্য সিনেটে একটি বিল (এস১০৩২) এবং এ্যাসেম্বলিতে দু'টি বিল (এ৮৪৭৪ এবং এ ৪৩২৮) উঠেছে। এসব বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাবলিক স্কুলসমূহের ২৫% ছাত্র-ছাত্রী জুইশ এবং মুসলমান। তারা কেউই বর্তমানের খাদ্য গ্রহণ করে না।
 
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে অঙ্গরাজ্যের সিনেটর টনি এভিলা (ডেমক্র্যাট-কুইন্স) বলেন, ''নিউইয়র্ক সিটিসহ বেশ কিছু এলাকায় ধর্মীয় রীতি অনুসরণকারী ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল খাদ্যের দাবি যৌক্তিক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এ অবস্থায় হালাল খাদ্য পরিবেশনের বিধি চালু করা হলে মূলত: এই দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির বন্ধন সমুন্নত রাখার ঐতিহ্যই সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে। ''

অঙ্গরাজ্যের এ্যাসেম্বলীম্যান উইলিয়াম কল্টন বলেন, ''সাবেক একজন শিক্ষক হিসেবে আমি উপলব্ধি করছি ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশন করা কতটা জরুরি। এ বিবেচনায় অঙ্গরাজ্য এ্যাসেম্বলীতে উত্থাপিত দুটি বিলেই আমি কো-স্পন্সর হয়েছি। ''

এ্যাসেম্বলীম্যান জেইমি আর উইলিয়ামস বলেন, ''ধর্মীয় বিশ্বাসের গুরুত্ব অনুধাবন করে ফেডারেল ও রাজ্য প্রশাসন এখনও কেন ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিকৃত খাদ্য পরিবেশনের উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটি সত্যি বিস্ময়ের ব্যাপার। আমি আজ আবারো দ্ব্যর্থহীন চিত্তে আমার সকল সহকর্মীর প্রতি উদাত্ত আহবান রাখছি অঙ্গরাজ্যে হালাল খাদ্যের বিল অবিলম্বে পাসের জন্যে। ''

অঙ্গরাজ্যের সিনেটর (ডি-কুইন্স) হোযে প্যারাল্টা বলেন, ''এমন একটি দাবির পক্ষে জনমত সোচ্চারের জন্য এ কর্মসূচির আয়োজনকারী মাজেদা উদ্দিনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। স্কুল ক্যাফেটারিয়ায় হালাল খাদ্য পরিবেশনের দাবিটি ফেলনা নয়, অবজ্ঞারও নয়। এটি যত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, ততোই নিউইয়র্ক সিটি তথা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের প্রসঙ্গটি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। ''

অঙ্গরাজ্য সিনেটর জিসে হ্যামিল্টন বলেন, ''প্রতিটি ছাত্রের প্রয়োজন মেটানোর ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও আন্তরিক হতে হবে। হালাল খাদ্য পরিবেশনের দাবিটি কেন উপেক্ষিত হচ্ছে, সেটি আমার বোধগম্যে আসছে না।   কোন ছাত্রই ক্যাফেটারিয়া থেকে না খেয়ে ক্লাসে যাবে না-এমন ব্যবস্থা অবলম্বনের জন্যে আমি শিক্ষা দফতরের প্রতি আহবান রাখছি। ''
 
রাজ্য সিনেটর লিরয় কমরি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি হচ্ছে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভাষা-ভাষী আর জাতির মানুষের বসবাসের জায়গা। এ জন্যে এই সিটির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে সকল মানুষের মর্যাদা সমুন্নত রাখার। এজন্যে আমি বহুদিন যাবত এমন মৌলিক দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করে আসছি।

সিনেটর রোক্সানা জে পারসোয়াড উল্লেখ করেন, ‘মুসলিম এবং জুইশ সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোরদের জন্যে হালাল খাদ্য সরবরাহের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমি সোচ্চার থাকবো। ’

রাজ্য এ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলের বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর এ দাবির প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। ’

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow