Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪৪
দাউদ ইব্রাহিমের ৪০ কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া তারই লোক!
অনলাইন ডেস্ক
দাউদ ইব্রাহিমের ৪০ কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া তারই লোক!

পাকিস্তানের করাচিতে নিজের বাড়িতে মাথার চুল ছিঁড়ছেন মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম। কেন? কারণ ডনের নিজেরই এক লোক ৪০ কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে গেছেন। জাবর মোতি ও খালেক মোহাম্মদ নামে দাউদ ইব্রাহিমের দুই লোকের টেপবন্দি কথোপকথনে এই তথ্য সামনে এসেছে। ভারতীয় গোয়েন্দারা এই কথোপকথন টেপবন্দি করেন।  

কথোপকথনে জানা যায়, মোতি নামে লোকটি ফোনে খালেককে বলছে যে টাকা পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে গোলমাল রয়েছে। কারণ টাকার হিসাব মিলছে না। রাজ্জাক নামে দাউদের ঘনিষ্ঠ একজন অর্থের এই নয়ছয়কে সামনে এনেছে। এই ঘটনার জন্য মোতি ফোনেই খালিককে শাসায় এবং বলে, তার জন্যই সবকিছু হয়েছে। দাউদ ইব্রাহিমের নাম খারাপ করে দিয়েছে খালেক।  
দাউদের কালো টাকার ব্যবসার কর্মী হিসাবে খালেক মোহাম্মদ প্রায়ই নয়াদিল্লি থেকে শারজা যাতায়াত করত বলেও খবর। ফোনেই তার বিরুদ্ধে ওঠা দাউদের অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দেয় সে। উল্টে টাকায় গোলমালের জন্য রাজ্জাকের উপরই দায় চাপায় খালেক।  

খালেক বলেন, রাজ্জাক অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভুল করেছে। যার ফলে পানামার ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে আছে। দিল্লিতে থেকে প্রায় ৮০ কোটি টাকারও বেশি সংগ্রহ করেছিল খালেক। এর অর্ধেক টাকা হাওলার মাধ্যমে পানামার একটি ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা ছিল। বাকি অর্থ সারসরি দাউদের ব্যবসায় নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। আর ৫ কোটি টাকা দাউদের ফি’স হিসাবে থাকার কথা। এই বিপুল অর্থের মধ্যে পানামার ব্যাংকের ৪০ কোটি টাকার কোনো খোঁজ নেই।

ফোনেই মোতিকে আশ্বস্ত করে খালেক। দাবি করে, পানামার টাকা নিরাপদেই আছে। রাজ্জাক ইচ্ছে করলে টাকা তার কাছে নিয়ে নিতে পারে বলেও মোতিকে জানায় খালেক। কিন্তু এর পর থেকেই নিখোঁজ খালেক। গত বছরের শেষের দিকে এই ঘটনা। এই মুহূর্তে খালেক মণিপুরের কোথাও লুকিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে ‘ডি কোম্পানি’। ইতোমধ্যে ‘ডি কোম্পানি’ তাদের দুই লোককে এই হারিয়ে যাওয়া ৪০ কোটি টাকার খোঁজে দিল্লি থেকে কানাডাও পাঠিয়েছিল।  

বেআইনি অস্ত্রের ব্যবসা, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, বেআইনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে দাউদ এখন দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে থাকা কালো টাকাকে ‘হোয়াইট’ করে দেওয়ারও কাজ করে। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু কমিশন সে নেয়। কালো-টাকা ‘হোয়াইট’ হলে তা নিয়োগকর্তার কাছে ফেরত আসে। ৪০ কোটি টাকা এই ব্যবসারই বলে জানা গিয়েছে। সূত্র: এবেলা।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow