Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:১৫
অপারেশন সার্জিক্যালের গোপন অস্ত্র সামনে আনল ভারত
অনলাইন ডেস্ক
অপারেশন সার্জিক্যালের গোপন অস্ত্র সামনে আনল ভারত

উড়ি হামলার ১১ দিন ভারতীয় সেনারা পাকিস্তান সীমান্তে প্রবেশ করে জঙ্গি ঘাঁটিতে তাদের অভিযান চালায়। ভারতের এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ভারতের এই সফল অভিযানের নাম দেয়া হয় অপারেশন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। অপারেশন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মত একটি সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে ভারত তাদের একটি গোপন অস্ত্র সামনে আনল।  আর সেই অস্ত্রের নাম গুপ্তঘাতক। সেনাবাহিনীর ভাষায় এদেরকে বলা হয় স্পেশাল কমান্ডো।

শত্রুকে চিরতরেই ধ্বংস করতেই এদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। এরা সিংহের মতো শান্ত আর চিতার মতো ক্ষিপ্র। বাঘের মতো নিষ্ঠুর এবং হিংস্র। এর আগে ভারত কার্গিল যুদ্ধের শেষ পর্যায়ের দিকে, টাইগার হিল দখলের লড়াইয়ে, মুজাহিদিনদের চরম শিক্ষা দিতে এগিয়ে দেয় হেড হান্টার নাগা ব্যাটেলিয়নকে। গুলি করে নয়, এরা মাথা কেটে মেরে ফেলে জঙ্গিদের। এবার নিয়ন্ত্রণ রেখায় অপারেশন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে নতুন এক স্পেশাল কমান্ডোকে সামনে আনল ভারত। এই অস্ত্র এতদিন গোপন করেই রেখেছিল ভারত।

কর্ণাটকের বেলগাঁওতে তৈরি করা হয় ভারতীয় এই গুপ্তঘাতকদের। প্রতিদিন ইনসাস রাইফেল ও কুড়ি কেজি ওজন নিয়ে ২০ থেকে ৬০ কিলোমিটার ছুটতে হয়। ক্লোজ কমব্যাট, রক ক্লাইম্বিং, হেলিবোর্ন অ্যাসল্টে প্রশিক্ষিত করা হয় গুপ্তঘাতকদের।

ভারতের এই বিশেষ বাহিনী দক্ষতায় মার্কিন নেভি সিল ও ইজরায়েলি কমান্ডোর সমতুল। প্রশিক্ষণের পর প্রত্যেক ঘাতকের হাতে তুলে দেওয়া হয় অত্যাধুনিক হাতিয়ার। প্রত্যেক গুপ্ঘাতকের কাছে থাকে কমপক্ষে একটি ইনসাস অথবা AK সিরিজের রাইফেল। ক্ষেত্রবিশেষে INI Tabor রাইফেল, TaR21 রাইফেল, SVD ড্রাগন রাইফেল, MSG স্নাইপার অথবা হেকলার অ্যান্ড কক ব্যবহার করে গুপ্তঘাতক।

ক্লোজ কমব্যাটের জন্য একজন গুপ্তঘাতককে পিস্তল, ছুরি ও আনুষঙ্গিক হাতিয়ারও দেওয়া হয়। প্রত্যেক গুপ্তঘাতকের কাছে থাকে দড়ি, গ্রেনেড, রকেট লঞ্চার, মাইন নিরোধক পোশাক ও জুতো, নাইট ভিশন গগলস। ট্রেনিং শেষে এই সব গুপ্তঘাতকদের নিয়ে তৈরি করা হয় একটি বিশেষ ঘাতক ইউনিট। জঙ্গিদমন, অপারেশন সার্জিকাল স্ট্রাইক এর মত সিক্রেট মিশন থেকে শুরু করে যে কোনও কঠিন মিশনে এরাই এখন ভারতের ভরসা।

এক একটি ইউনিটে থাকেন ২০ জন করে গুপ্তঘাতক। প্রতি ইউনিটে থাকেন একজন কমান্ডিং অফিসার। প্রতি ইউনিটে ২ নন কমান্ডিং অফিসার থাকেন। এলাকা মার্কিংয়ের জন্য থাকেন একজন মার্কসম্যান। শত্রুকে চিহ্নিত করতে থাকেন দুজন স্পটার। বেসক্যাম্পে যোগাযোগ রাখেন রেডিও অপারেটর। আহতকে দ্রুত চিকিত্‍সার জন্য থাকেন একজন মেডিক্যাল অফিসার। ইউনিটের বাকিদের কাজ প্রাণঘাতী আঘাত করা। ভারতের এমন ঘাতক বাহিনীর সংখ্যা সাতহাজার। বুধবার তারই মধ্যে দুটি ইউনিটকে কাজে লাগানো হয় নিয়ন্ত্রণরেখায়। এক্ষেত্রে সেনার গোয়েন্দা বিভাগ নয়, ঘাতকদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে ভারতের গুপ্তচরবাহিনী RAW। বার্তা বিনিময়ের জন্য ছদ্মনামে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হয়।

ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে ঠিক ১টা ২৫ মিনিটে ভিমবেড় ও লিপা সেক্টরের ৪টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা হয়। হামলার আগেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারী গোলাবৃষ্টি করে পাক সেনাকে ব্যস্ত রাখে ভারতীয় সেনা। এই ফাঁকেই ছয় থেকে আটটি দলে ভাগ হয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মিলিয়ে যান ভারতীয় কমান্ডোরা। নিয়ন্ত্রণরেখার তিন কিলোমিটার ভেতরে জঙ্গিঘাঁটিতে গুলিবৃষ্টি শুরু করে সামরিক হেলিকপ্টার। নিয়ন্ত্রণরেখা পেরোনোর পর ঘাতকদের কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল পাকিস্তানের পুঁতে রাখা মাইন। সেগুলি সাবধানে নিষ্ক্রিয় করে এগিয়ে যায় এই ঘাতকবাহিনী। পাকিস্তানিদের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন ব্যবহার করে পাকিস্তানেরই বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়। জঙ্গি ক্যাম্পে সামরিক হেলিকপ্টার যখন হামলা চালাচ্ছে। ঠিক তখনই বলা যায় মাটি ফুঁড়ে হাজির হয় এই গুপ্তঘাতকরা। উপর থেকে হেলিকপ্টার হামলা ও নীচ থেকে এই গুপ্তঘাতকদের জোড়া আক্রমণে দিশাহারা জঙ্গিরা কোনও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগই পায়না। তার আগেই মারা পড়ে তারা।

ভীমবেড় ও লিপায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাত তিনটার সময় হটস্প্রিং ও কেল সেক্টরের তিনটি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলে এই অপারেশন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় সার্জিকাল স্ট্রাইক পাকিস্তানের পাশাপাশি, জঙ্গিদের প্রতিও কঠোর বার্তা দিয়ে দিল ভারত। খুনি জঙ্গিদের মারতে গুপ্তঘাতক তৈরি করে ফেলেছে ভারত'।

সূত্রঃ জি নিউজ


বিডি-প্রতিদিন/১ অক্টোবর, ২০১৬/তাফসীর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow