Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:১৩
সার্জিক্যাল অপারেশনের 'মূল হোতা' যিনি
অনলাইন ডেস্ক
সার্জিক্যাল অপারেশনের 'মূল হোতা' যিনি

সম্প্রতি সার্জিক্যাল অপারেশনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ভারতীয় জওয়ানরা এমনটাই খবর প্রকাশিত হচ্ছে দেশটির গণমাধ্যমগুলোতে। একাধিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, এই অপারেশনের মাধ্যমে ভারতীয় সেনারা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে গুড়িয়ে দেয় একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি।

মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হত্যা করা হয় ৩৮ জঙ্গিকে।  

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় বাহিনীকে এই সাহসী পদক্ষেপের সূত্র কে দিলেন? ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা ২৪ ৭ নিউজের খবরে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবর ভারতীয় বাহিনীকে ‘নরম পন্থা’ থেকে ‘চরম পন্থায়’ ‘গিয়ার আপে’র কাজটি করেছিলেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

খবরে বলা হয়, প্রায় দু'বছর আগে ভারতের সীমান্ত রক্ষীদের কাছে একটি প্রস্তাব রাখেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে পাক সেনাবাহিনীর সামান্যতম বাড়াবাড়ি দেখলেই যেন ক্ষেপে ওঠে ভারতীয় জওয়ানরা। সীমান্তের ওপার থেকে যতক্ষণ গুলি বর্ষণ হবে, ঠিক ততক্ষণ এপার থেকেও যোগ্য জবাব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একটি গুলির বদলে দুটি গুলি ছোড়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ভারত যেন কোন ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’ না করে, বৈঠকে সেই প্রস্তাবও রাখেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দোভাল।  

তবে ২০১৪ সালের ৭ অক্টোবরের সেই বৈঠকে উল্লেখযোগ্য যে পরামর্শ দোভাল দিয়েছিলেন তারই আরেক নাম ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়, কী করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে অধিকৃত কাশ্মীরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা জঙ্গি ঘাঁটিগুলি। অল্প সময়ের মধ্যে গোটা অপারেশন চালানোর পর ফের দেশের মাটিতে কী করে ফিরে আসা যায় সেই পরিকল্পনারও ছকা হয় ওই বৈঠকে।

গত বছরের অক্টোবরে ইদানীংকালের মধ্যে প্রথম সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান। এরপর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও অজিত দোভালের নির্দেশে যোগ্য জবাবও দেয় ভারতীয় জওয়ানরা। সূত্রের খবর, সেই সময়ে ভারতীয় জওয়ানদের গুলিতে ২৬ জন পাক রেঞ্জার্সের মৃত্যু হয়।  

এরপরেই বিএসএফ কর্মকর্তাকে ডিকে পাঠকের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লিতে আসেন পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের পাঞ্জাব সীমান্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উমর ফারুক বুর্কি। সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানদের দাপট যে তারা সহ্য করতে পারছেন না। সেটা বোঝা যায় বুর্কির অনুরোধে। তিনি ভারতের দিক থেকে গুলি চালানো থামাতে বলেন। এতেই বোঝা যায়, দোভালের পরামর্শ কতটা কাজে লেগেছে। সার্জিক্যাল অপারেশনের সাফল্যের পর এখন প্রশ্ন উঠছে পাকিস্তানকে ‘ঠান্ডা’ রাখতে দোভালই কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল অস্ত্র কিনা।

 

বিডি প্রতিদিন/২ সেপ্টেম্বর ২০১৬/হিমেল

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow