Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:০১
আমেরিকাকে ব্ল্যাকমেল পাকিস্তানের!
অনলাইন ডেস্ক
আমেরিকাকে ব্ল্যাকমেল পাকিস্তানের!

আন্তর্জাতিক মঞ্চে রীতিমতো কোণঠাসা পাকিস্তান আমেরিকাকে আবারো ‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেল’ করতে শুরু করেছে। আফগানিস্তানের শান্তি চাওয়া হলে আগে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে হবে- এমনটাই আমেরিকাকে জানিয়েছে পাকিস্তান।

খবর ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের।

পাকিস্তান জানায়, আফগানিস্তানে নাশকতার পিছনে দায়ী তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ককে পাকিস্তান তখনই নিয়ন্ত্রণ করবে যখন কাশ্মীরে ‘তৃতীয় পক্ষ’ হিসাবে আমেরিকা হস্তক্ষেপ করবে এবং পাকিস্তানের দাবি মতো ভারতের বিরুদ্ধে ‘পদক্ষেপ’ নেবে।

পাকিস্তানের এই দাবি নিয়ে আমেরিকায় ফের লবি শুরু করেছেন পাকিস্তানের সিনেটের সদস্য মুশাহিদ হুসেন সৈয়দ ও শেজরা মনসব। পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির এই দুই সদস্য পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কাশ্মীর সংক্রান্ত বিশেষ দূত হিসাবে আমেরিকায় গিয়েছেন। তারা পাকিস্তানের ডিফেন্স কমিটিরও সদস্য।

মুশাহিদ মার্কিন মুলুকে গিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেণ্টারকে সাফ জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা আর কাশ্মীর সমস্যার সমাধান আলাদা কোনও বিষয় নয়। দুটি ইস্যুই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। আফগানিস্তানে শান্তি চাইলে, কাশ্মীরে পাকিস্তানের দাবিগুলিকে বৈধতা দিতে হবে। তাদের দাবি, কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। এটা একটা বিবদমান ও বিতর্কিত বিষয়। তারা  চায়, কাশ্মীর-সহ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। তবে সবার আগে কাশ্মীর  সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে।

কিন্তু দিল্লি চায়, শুধু সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা করতে। বরাবরই কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করতে নারাজ দিল্লি। তাই পাকিস্তানের দাবি, এই কারণেই সব সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কোনও পূর্বশর্ত ছাড়াই পাকিস্তান সব বিষয়ে আলোচনা চায়। আর ভারত আগে থেকেই পূর্বশর্ত দিয়ে দিচ্ছে যে, কাশ্মীর নিয়ে কিছুতেই আলোচনা করা যাবে না। এভাবে চললে ভারতের জেদের কারণেই সমস্যা আরও জটিল হবে। ভারত যাতে আরও নমনীয় হয় সেজন্য আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানাচ্ছে পাকিস্তানের জনতা।

মুশাহিদ ও শেজরা মনসবের প্রশ্ন, বালুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী নিয়ে কথা বলার অধিকার নরেন্দ্র মোদিকে কে দিয়েছে? নওয়াজ শরিফ যদি এখন ভারতের মাওবাদী সমস্যা, খালিস্তান আন্দোলন, নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, তখন কী হবে?

দুই পাক কূটনীতিকের অতিসক্রিয়তা দমন করতে আমেরিকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতীয় লবিও। পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদী দেশ’ ঘোষণা করতে ফের জোরালো প্রচার শুরু করছে ভারত। সোমবার পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের কূটনীতিকদের এই প্রচার একবোরেই গুরুত্ব পায়নি। অনেক প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর তাদের দু’জনকে দেখা করার সময়ই দেননি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটন লবির কোনও নেতা নেত্রীই পাকিস্তানের এই ব্ল্যাকমেলিংকে কার্যত পাত্তাই দিচ্ছেন না।

এর আগে ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতা ও সামরিক জোট গঠনের ফল হিসাবে আমেরিকাকে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় ইসলামাবাদ। দেশটির কূটনীতিকদের দাবি, আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ‘মাখামাখি’ এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে রাশিয়া ও চীন ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক জোট বেঁধেছে। ফলে উপমহাদেশে নয়া সমীকরণ তৈরি হচ্ছে যেখানে আমেরিকার লাভ নয়, ক্ষতিই হবে।   ভারতকেও চরম মূল্য দিতে হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে সদ্যসমাপ্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সামরিক মহড়ার উদাহরণ নিয়ে আমেরিকাকে চাপে রাখার চেষ্টা শুরু করে পাকিস্তান সেনার অনুগত কূটনীতিকরা। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের সাম্প্রতিক স্পষ্ট বার্তায় পাকিস্তানের সেই ব্ল্যাকমেলিং ধোপে টিকল না। কারণ, দুই দেশই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উরির হামলার নিন্দা করে পাকিস্তানকে বলেছে, কাশ্মীর সমস্যায় তারা মধ্যস্থতাকারী হিসাবে হস্তক্ষেপ করবে না।

 

বিডি প্রতিদিন/১০ অক্টোবর, ২০১৬/ফারজানা

 

 

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow